Advertisement

দুদক এর ফাঁদে আটক মহেশখালীর কানুনগো আব্দুর রহমান

আবুল বশর পারভেজ, মহেশখালী:
কক্সবাজারের মহেশখালীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে দুদক এর অভিযানে নগদ টাকা সহ ভারপ্রাপ্ত কানুনগো আব্দুর রহমানকে আটক করেছে। আটককালে তার নিকট থেকে নগদ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
২৮ অক্টোবর বিকালে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক এর নেতৃত্বে একটি টিম মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি)র কার্যালয়ে অভিযান
পরিচালনা করেন। এসময় কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় তাকে হাতে-নাতে ধৃত করেন। দুদক এর উপ-পরিচালক মাহাবুব আলম জানান মহেশখালী উপজেলার গ্রামের শাপলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী সেকান্দর বাদশার একটি খাঁস জমি বন্দোবস্তি পাওয়ার পর উক্ত জমি নামজারী জমাভাগের খতিয়ান সৃজনের জন্য আবেদন করলে কানুনগো আব্দুর রহমান আবেদনকারী সেকান্দর বাদশাকে আজ দেবে, কাল দেবে এই মর্মে তাকে হয়রানী করতে থাকে। গত কাল তার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা দাবী করে। সেকান্দর বাদশা বিষয়টি দুদক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কর্যালয়ে অবহিত করেন। এ বিষয়টি দুদকের চেয়ারম্যানের অনুমতি সাপেক্ষে ২৮ অক্টোবর সোমবার উপ-পরিচালক মাহাবুব আলম এর নেতৃত্বে দুদক টিম মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)র কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে। সোমবার সকাল ১১ টায় সেকান্দর বাদশার নিকট থেকে কানুনগো ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ প্রতিবন্ধী সেকান্দর বাদশাকে অফিস কক্ষে বসিয়ে রেখে দুপুরে খাওয়ার জন চলে যায়। এ সময় পুনরায় অফিসে আসলে কানুনগোকে ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অভিযোগকারীর সম্মুখে চ্যালেঞ্জ করলে তা বেরিয়ে আসে। মহেশখালী থানার এসআই নুরুন্নবী সহ অভিযানকালে আটককৃত কানুনগো আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা নং-২, তারিখ ২৮/১০/২০১৯ইং দন্ডবিধির ১৬১ সহ দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনে ৫ এর ২ ধারা মামলা রুজু করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক হুমায়ুৃন কবির বাদী হয়ে মামলাটি রুজু করেন। অভিযানে উপ-পরিচালকের সাথে দুই জন সহকারী পরিচালক, ৩ জন উপ- সহকারীর পরিচালক, ২ জন কনেস্টেবল এবং ১জন ড্রাইভার অভিযান পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের সকল উন্নয়নের ক্ষেত্রে মহেশখালী একটি আলোচিত মেঘা প্রকল্পের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিনত হচ্ছে। ফলে এ দ্বিপটিতে বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত অফিসে নিয়োজিত দালালগণ মোটা অংকের মাধ্যমে সরকারী আমলাদেরকে ব্যাপরোয়া করে তুলছে। তারা দিন দিন দালালদের অতী উৎসাহে ঘুষের কর্মকান্ডে লিপ্ত হচ্ছে। উপজেলার আরো কিছু জন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এ ধরনের সাড়াষি অভিযান পরিচলানার দাবী জানান স্থানীয় জনসাধারন।
হঠাৎ তড়িৎ গতিতে মহেশখালীর দ্বীপ উপজেলার দুদকের এমন অভিযানে দূর্নীতির সাথে জড়িত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালরা দিক-বেদিক ছুটা-ছুটি করে পালিয়ে যায়। অনেক আবেদনকারীর মাঝে সস্থি আসে।

Post a Comment

0 Comments