Advertisement

আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবস : দেশ প্রেম-অতপর চন্দ্রমূখি

এইচ.এম নজরুল ইসলাম
................................
আজ ১৪ ফ্রেরুয়ারি সারা বিশ্বের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হবে তথাকথিত বিশ্ব ভালবাসা দিবস।
প্রিয় পাঠক বেশ কয়েক বছর ধরে আজকের বিশেষ দিনটি নিয়ে লিখে যাচ্ছি। আর প্রতি বারেই ব্যাক্তির প্রেমকে আড়াল করেছি। কিন্তু সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কারনে অনেকেই জানতে চায় আমার চন্দ্রমূখিটা কে? যাকে নিয়ে আমি বার বার রচনা তৈরি করে চলছি,অনেকেই এবারের ভালোবাসা দিবসের বিশেষ লিখাটি যেন চন্দ্রমূখিকে নিয়ে লিখি তার জন্য অনুরোধ করেছেন। তাই লিখার শুরুতেই দেশপ্রেম থেকে চন্দ্রমূখি  কারন আমি যতই চন্দ্রমূখির প্রেমিক হয়না কেন আমার সব প্রেম ভালোবাসা দেশকে নিয়ে।
সবাই যখন জানতে চায় চন্দ্রমূখি কে? কে সেই রহস্যময় বালিকা তাই এবারের বিশ^ ভালোবাসা দিবসের লিখাটি আমার আলোচিত চন্দ্রমূখিকে দিয়ে শুরু করি।
পাঠক জীবনের অন্য সব কিছুর কারণ ব্যাখ্যা করতে পারলেও, কেন ভালোবেসেছি বলতে পারব না। প্রেম কী, ভালোবাসাকে কীভাবে মূল্যায়ন করি এধরনের প্রশ্নও প্রাসঙ্গিক নয়। প্রেম, ভালোবাসা নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন যেমন করা যায় না তেমনি কোন উত্তরও দেওয়া যায় না। এটা এমন একটি বিষয় যা নিয়ে কথা বলে শেষ করা যাবেনা। এবার বলি আমার ভালোলাগা আর ভালোবাসা নিয়ে কিছু গল্প, শুরুতেই বলছি প্রেম ভালোবাসার মূল্যায়ন করার মতো গল্পকার আমি নয়! তবে যাকে দেখে প্রেম নামক শব্দটি নিজের মাঝে প্রতিস্থাপন করেছি যাকে বহু নামে বহুরূপে দেখি সেই বালিকার নামই চন্দ্রমূখি,সাগরকন্যা বলতে গেলে প্রিয় মানুষটিকে বহু নামে তাকে ডাকি। একাকিত্ব ভাবে চলতে চলতে কোন এক সময়ে হয়তো,
২০১৬ সালের কোন এক মাঝামাঝি সময়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে প্রথম দেখেছিলাম চন্দ্রমূখিকে। তখন আকাশে মেঘের জোয়ার, নীল প্রজাপতি উড়ে বেড়ায় শরতের কাশফুলে, দিগন্তের কাছে মাথা নত করে সাদা মেঘের দলগুলো। রাস্তার পাশে বসে দেখছিলাম বলেই ফুলের বুকে মৌমাছির আনাগোনা আর হৃদয় ক্যাম্পাসে আঁকছিলাম স্বর্ণলতার মতো তার সুন্দর হাসি মাখা মুখটাকে। সেই থেকে চন্দ্রমূখি  অনেক দূরে দূরে থাকে, হয়তো ঐদূর আকাশের মতো নয়। আজ বোধহয় চন্দ্রমূখিকে বড্ড বেশি মনে পড়ছে। প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে বলি তারপও বারবার জানতে ইচ্ছা করছে তুমি কেমন আছো চন্দ্রমূখি। তাকে হারানোর ভয় থেকে অনেকটা দেখতে না দেখতেই তাড়াহুড়া করেই চন্দ্রমূখিকে কাছে নিয়ে আসতে চাইলাম আমি। আর চন্দ্রমূখি নামক বালিকার রাগ অভিমানের কাছে অনেকটা হেরে গিয়েছিলাম  মাঝপথে কিছু দিনের জন্য আমি নিজেই। সে কদিনে বুকের ভেতর বসন্তের ফুল ফুটিয়ে আমার দুচোখে শ্রাবণের বৃষ্টি ঝরিয়েছে সে। সেই চোখে ঝড়া বৃষ্টিতে আজো আমি ভিজে নিজেকে শান্ত করি যদিও বা এখন চন্দ্রমূভি অনেকটা আমার কাছে । প্রিয় চন্দ্রমূখি এবার তোমাকে বলছি বিশ্বাস করো আমার মন তোমার জন্য কাঁদে না, কাঁদে তোমার সুখের জন্য। সত্যি কি তুমি কি সুখী হতে পেরেছিলে আমাকে কষ্ট দিয়ে ? আমি জানি আমার ভালোবাসা আজ তোমার কাছে কেবলই অতীতের মতো দুঃস্বপ্ন, তবে মনে রেখ তোমার অতিতের সকল দুঃস্বপ্নকে আমার ভালোবাসার কাছে হারিয়ে দিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলাম, চাই এখনো প্রতি মূহুর্তে। জানিনা তুমি সুখের ফুল কুড়াতে এসে কদিনের জন্য পা রাখতে চাও আমার মনের ও চোখের আঙিনায়। আমি এতোটা বোকা, তোমার  ক্ষণিকের সেই ভালোবাসা নিয়ে শান্তির নীড় রচনা করছি আজও।  তুমি সুন্দর এতে কোনো সন্দেহ নেই, তার চেয়ে বেশি সুন্দর তোমার নিখুঁত হাসি। তোমার স্বপ্নে আজ সুখের আনাগোনা, কষ্ট দিতে তুমি জানলেও কষ্টের রঙ কাকে বলে হয়তো তুমি তখন বুঝনি। আমাকে চেড়ে হয়তো অন্য কারো হাতে হাত রেখে আকাশের শুকতারা গণনা করতে পার রূপালি আশা বুকে ধরে। জানো আমিও রাত জাগি, রাতে ফোঁটা ফুলের মতো তোমাকে সাঁজাব বলে, গান গেয়ে বেড়াই রাতজাগা পাখিদের সঙ্গে, অন্ধকারে একা ঘুরিফিরি কষ্টে কাতর জোনাকির মতো।
জানিনা কিভাবে ভালোবাসতে হয়,তবে তোমাকে অনেক ভালোবাসি সেটা বুঝতে পারি। এখনও তোমাকে কাছে পাবার ইচ্ছে হয়,তবে সময়ের সাথে সাথে প্রকাশ ভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। ইচ্ছে হলেও বলতে পারিনা তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না, কারন এতদিন তো বেঁচে ছিলাম। তবে এই বেঁচে থাকা অনেক কষ্টের, প্রতিটা মুহূর্তে  মৃত্যুর স্বার্দ নেওয়ার মতো।
 তবে চোখে মায়ার কাজল মেখে দুরু দুরু বুকে ভালবাসা প্রকাশের মধুর দিন আজ। রৌদ্রকরোজ্জল শ্রভ্র সকাল,রুপালী দুপুর,আর মায়াবী রাত আজ কেবল ভালবাসার ক্ষণ। করতালে সুর তুলে আজ শুধু ভালবাসার গান গাইবার দিন।
প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন চোখের কোণে ক্ষুদ্র ক্ষত সৃষ্টি করে যদি সে একাকি কোন নির্জন ছাসে বসে থাকে।
তবে আমি তাদের একজন হলেও আমার মনে হয় অন্ধকার কিন্তু রঙ্গিন আলো,কালো রঙ্গের আলো হলেও চোখ ধাঁধানো সেই রং ! তখন হয়তো আমার মতো  অনেকেই নীল আকাশের দিকে থাকিয়ে ভাবে কি হত যদি পাখি হতাম! পুরু আকাশটা হত আমার একার বহুদূর উড়ে যেতে যেতে পথ হারিয়ে ফেলতাম। হয়তো এই সব আমার পঙক্তি,কিছু অপ্রকাশিত আবেগ!
মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে দেই নিজেই,প্রিয়তমা চন্দ্রমূখি জান তখন আমি লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করি আকাশের সাথে আর ঐসব ফুটপাতে ঘুমিয়ে থাকা মানুষ গুলোর সাথে কারন কেন জানি মনে হয় এরেই মাঝে লুকিয়ে আছে আমার ভালবাসার মানুষটি।
হয়তো তাই নির্জনে বসে ভালবাসার কবিতা লিখতে ছুটে চলি তবে কিছু শেষ হয় কিছু শেষ হয় না। ঠিক তখনই চোখের সামনে বেশে উঠে
স্বাধীন ভূখন্ডে ‘আদিবাসী’ সাঁওতাল সম্প্রদায় বিভিন্ন কারণে আজ তাদের স্বকীয়তা হারাচ্ছে। নানা প্রতিকূলতায় তারা আজ জর্জরিত। ফলে নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে টিকতে না পেরে তারা ধর্মান্তরিত হচ্ছে,ভিটে হারা করতে জ¦ালিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল ঘরবাড়িটিও। ক্ষমতার ঠিকে থাকতে  একশ্রেণির মানুষের পাল্লায় পড়ে তারা জমি হারাচ্ছে পুলিশি আক্রমণে জীবন হারাচ্ছে মিথ্যা মামলার আসমী হয়ে পলাতক জীবন যাপন করছে। অতচ সাঁওতাল সম্প্রদায় যুগে যুগে বিভিন্ন সংগ্রামে অংশ নেওয়া নিপিড়িত সাঁওতাল সম্প্রদায়ের খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর বিবর্ষ হয়ে পুড়া মুখটি কেবল আমার প্রেম হয়ে উঠে।
প্রিয়তমা হয়তো এই আমার অপরাধ  তোমার ভালবাসার চাইতে তাদের ভালবাসা আমাকে সারাজিবন সারাটি বছর  ভালবাসতে শিখিয়েছে তাদের। প্রিয় চন্দ্রমূখি তুমি কি জান?
এই ফ্রেরুয়ারিতে জন্ম নেওয়া শাহবাগ গণজাগরন চত্বরে চলা যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করা সেই যুবক-যুবতিদের দেশপ্রেমের ইতিহাস রচনা হয়েছিল। সেইদিন তারুণ্যের ভালবাসা দেখেছি দেশপ্রেমের প্রতি সবকটি হাত ঐক্যবদ্ধ। দেখেছি সবকটি হাত ছিল প্রতিবাদী। রোদে পুড়েছে,রাত জেগে ৭১ এর ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগান তুলেছে,জাগরণের গাণ গেয়েছে,মিছিল করছে এইসই দেশের জন্য,প্রিয় মাতৃভূমিকে ভালবাসেন বলেই দেশপ্রেমের আন্দোলনে নিজেদেরকে সপে দিয়েছেন। তারুণ্য যখন আন্দোলন মুখর ঠিক সে সময় এসেছে বিশ্ব ভালবাসা দিবস।
আজ আবারও মনে হচ্ছে চোখদুটো খুলতে হবে,আনন্দের নীল পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ানো যাবেনা আর। আমি আর তুমির মত চরম স্বার্থপর,সমাজ বিচ্ছিন্ন চেতনা যুব সমাজের মধ্যে চাপিয়ে দিতে পেরেছে। প্রেম ভালবাসার মত স্বাভাবিক সম্পর্ককে অতিপ্রাকৃত বিষয়ে পরিণত করে আফিম নেশার মত বুঁদ করে ফেলেছে। ভোগবাদ আর তাদের আদর্শ। এ ব্যক্তিগত ভালবাসার একপিঠে কাম,আরেক পিঠে কর্পোরেট কালচারের উস্কানি।
যৌনতা ও অশ্লিলতার মাদকতার আসক্তি আজ সর্বব্যাপী রুপ নিয়েছে । বিঙ্গাপন,ফ্যাশন শো,লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার,সিনেমা,যাত্রা,অশ্লিল নৃত্যের সিডি,ইন্টারনেট পূর্ণগ্রাফির ছড়াছড়ি,এফএম রেডিওর মধ্যরাতে প্রেম রোগের চিকিৎসার নামে অশ্লিল অনুষ্টান।সব মিলিয়ে বিকৃত যৌনতা অশ্লিলতার চর্চা যেন বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে পরিনত হয়েছে আর ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপনের সংস্কৃতি ঠিক এ জোয়ারকেই জোরদার করছে । অন্যদিকে শাসক শ্রেণী এ থেকে লাভ তুলে নিচ্ছে দু ভাগে সমাজের সবচেয়ে প্রাণবন্ত লড়াকু অংশ যুব সমাজকে মুক্তির লড়াই থেকে বিচ্ছিন্ন ও নিজীব করে ফেলে এবং দিনটিকে বালিজ্যের মহোৎসবে পরিণত করে..
পাঠক হয়তো অনেকেই ভাবছেন কেন আমি ভালবাসা দিবসকে অপসস্কৃতি বললাম আর অপসস্কৃতির কাঠগড়াই দাড় করালাম ! মূল কথায় যাওয়ার আগে বলতে বা লিখতে চাই ১৪ ফের্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস নিয়ে এই পর্বসহ ৬তম সংখ্যা আমার। তবে কোন লেখাতে প্রচলিত ভালবাসার পক্ষে লিখার সৌভাগ্য হয়নি। তাই বলতে চাই আমি ভালবাসার বিপক্ষে নয় তবে, বিশ্ব ভালবাসার দিবস এর বিরুদ্ধে কারণ আমার মতে ভালবাসার কোন নিদিষ্ট দিন বা তারিখ থাকতে পারেনা ? বিস্তারিত কিছু লেখার আগে আমাদের জানতে হবে কেন ১৪ ফের্রুয়ারি বিশ্ব ভালবাসা দিবস এর জন্ম হল,
আমরা একটু ইতিহাস পর্যালোচনা করলে জানতে পারি, রোমে ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালন করছিলেন সেন্ট ভ্যালেন্টইন নামের এক ব্যক্তি। তিনি সেন্ট ম্যারিয়াস খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী তরুন-তরুণীদেও গোপনে বিয়ে দিতেন। আর বিবাহিত যুগলদেও সহযোগিতা করতেন। এ অপরাধে রোমের ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। আর বন্দী থাকা অবস্থায় অনেক তরুন তাকে দেখতে যেতো। জানালা দিয়ে তার উদ্দেশে লেখা চিরকুট ও ফুল ছুড়ে দিতো। হাত নেড়ে জানান দিতো,তারা যুদ্ধ নয়.ভালাবাসার বিশ্বাসী। এদের মধ্যে একজন ছিল কারারক্ষীর মেয়ে। তার বাবা তাকে ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিতেন এক পর্যায়ে তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে যান। মৃত্যুও আগে ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির উদ্দেশ্য করে এক চিরকুট লিখে যান। এতে লেখা ছিল লাভ ফ্রম ইয়র ভ্যালেন্টাইন। বিচারকের নির্দেশ অনুসারে ভ্যালেন্টাইনকে হত্যা করা হয় । আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের  আতর্œত্যাগের দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফের্রুয়ারি। তারেই ধারাবাহিকতায় ১৪ ফের্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে প্রতিষ্টিত হয়। পাঠক আমারা অভাগা বাঙ্গালী তাই কোথাকার কোন ভ্যালেন্টাইনের কথা মনে রেখে ১৪ ফের্রুয়ারিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবস হিসেবে পালন করে যাচ্ছি । কিন্তু আমরা কি একবারও চিন্তা করেছি ১৪ ফের্রুয়ারি এ বাংলায় কি হয়েছিল !
  সময়টা ১৯৮৩ সালের ১৪ ফ্রেরুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ছাত্র জমায়েত। মজিদ খানের কুখ্যাত শিক্ষাণীতি প্রত্যাহার,বন্দী মুক্তি ও জনগনের মৌলিক গণতান্ত্রিক বুটে ও বুলেটে দমনের চেষ্টা করে এক বিরাট তরুণ সমাজের এক প্রতিরোধ মিছিল। এমনকি তৎকালিন সময়ে বুলেটের মুখে প্রাণ দেয়, জাফর, জয়নাল, কাঞ্চন, দিপালীসহ সারাদেশে অন্তত ১০ জন তরুন। সেই সময়ের  সরকারি হিসেবে গ্রেফতার হয় ১ হাজার ৩১০ জন। সেই থেকে ১৪ ফের্রুয়ারি হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের প্রতিরোধ চেতনার দিন। সে থেকে দিনটি পালিত হচ্ছে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে !
১৯৮৩‘র’ পরবর্তি সামরিক স্বৈরাশাসক কয়েক বছর না যেতেই ১৪ ফের্রুয়ারিকে ভ্যালেল্টাইনস ডে হিসাবে পালনের জন্য নষ্ট শ্রোতের মুখপত্র যায়যায়দিন প্রচার শুরু করে। পাকিস্তানিরা ৫২ তে ব্যর্থ হলেও আজ ক্যাবল আর স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যাণে সফল  হয়েছে শাসক শ্রেণী। ১৯৮৩ সালে ১৪ ফের্রুয়ারি মজিত খানের কুখ্যাত শিক্ষাণীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তৎকালিন তরুণ সমাজ রক্ত দিয়ে  হইতো স্বৈরাচারী শাসক এরশাদ এর পতনের সূচনা হলেও আজ স্বৈরাচারী এরশাদ পূণর্বাসিত হয়েছে সংসদীয় ব্যবস্থায়। সেইদিন একটি যুগপযুগি শিক্ষাণীতির জন্য ছাত্র-যুব সমাজ রক্ত ঝরালেও আমরা এখনো আমাদের প্রচলিত ভোগবাদী শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারিনি। এখনো শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষাঙ্গনে চলছে খুনোখুনি,স্বৈরাশাসন নেই কোন কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। আজ প্রতি মূহুর্তে ছাত্র-যুব সমাজকে দেশপ্রেমিক,জাতি ও জনগনের সেবক হিসাবে গড়ে না তুলে নৈতিক অবক্ষয়ের চরমে ঠেলে দেয়ার সবরকম আয়োজন চলছে।
নষ্টদের হাতে চলে যাচ্ছে ফের্রুয়ারি ! ৫২ একুশ থেকে তিরাশির ১৪ ফের্রুয়ারি আমাদের ফেরার জায়গা শেখায়। যেই ফের্রুয়ারিতে জাতীর শ্রেষ্ট সন্তানেরা বুকের রক্ত দিয়ে আমার মুখের ভাষাকে রক্ষা করেছিল,আর আমাদের মর্যদার আসনে বসিয়েছে। এত রক্তের দামে কোন জাতি ভাষা কিনেনি ! কোন জাতি ভাষাকে এত ভালবাসেনি। অথচ ‘ক’ বছর ধরে ভ্যালেন্টইন নাম দিয়ে ভালবাসা দিবস নামে আলাদা একটি দিবস পালন করে যাচ্ছে আমাদের এ প্রজন্ম।
আমরা কি একবারও মনে করেছি কি আজ ঋতুরাজ বসন্তের ৩‘য়’ দিন ফুল ফুটবার পুলকিত হওয়ার এই দিনে বন বনান্তে কাননে পারিজাতের রক্তের কোলাহলে ভরে উঠছে চারিদিক।
জন্মলগ্ন থেকে দৌড়ে চলেছি হঠাৎ মনে হল পেছনে তাকাই তাই একটু তাকিয়েছিলাম ! তাকিয়ে হতবাগ হয়ে রই আমি কোথায় আর আমার সেই ইতিহাস নির্মানের অতিক্রান্ত পথটা কোথায় । তুমি  তোমরা আমাদের এই সুনালী ইতিহাস থেকে এত দূরে কেন ! তবে আমি বার বার ছুয়ে দেখবার চেষ্টা করি ফেলে আশা ইতিহাস গুলো। যখন বার্ণ ইউনিটে থাকা ঐ ঘাতকদের ছুড়া পেট্্েরুাল বোমায় অগ্নিদদ্ধ মানুয়ের দৃর্শ ও আমায় যখন চোখ ভিজিয়ে দে তখন চাঁদকে প্রেমিকা ভাবি আমি !
স্বপ্নের প্রিয়সী তোমাকে এখনো বলা হল না আমি কিন্তু প্রেম করতে চাই না চাই প্রেমিক হতে ! যেই প্রেমিক স্বাধীন এই দেশকে ভালবাসবে।
 পরিশেষে বলবো, রক্তস্মাত একুশের শব্দগুলো কথা বলুক,ইতিহাস নাড়া দিক তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে। ছুঁয়ে যাক সকল মানুষের বিবেক। এই প্রজন্ম ফিরে পাক গণমানুষের আস্থা ! আর প্রতিটি মুহুত্ব প্রতিধ্বনিত হউক একুশের চেতনা।
লেখকঃ- সাবেক ছাত্রনেতা ও নিবার্হী সম্পাদক দৈনিক কক্সবাজার৭১ -ই-মেইল.যসহধুৎঁষপড়ীং@মসধরষ.পড়স-মোবাঃ-০১৮৩০৭৩৭৯১৮

Post a Comment

0 Comments