Advertisement

আত্মঘাতী সংঘাত যেন আর না হয়

বিদ্রোহের মতো আত্মঘাতী সংঘাতের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল পিলখানায় বাহিনীর সদর দপ্তরে বিজিবি দিবস-২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ নির্দেশনা দেন তিনি। বিদ্রোহের ওই ঘটনাটিকে বাহিনীর ইতিহাসের একটি ‘কালো অধ্যায়’ আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় সরকার গঠনের পর পরই বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আমাকে মোকাবিলা করতে হয়েছিল। আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সেদিনের সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজিবির অপারেশনাল কার্যক্রমকে বেগবান ও গতিশীল করার লক্ষ্যে আমি ২০১১ সালের ২৩শে জানুয়ারি এ বাহিনীর পতাকা উত্তোলন করেছিলাম। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিজিবি এখন কলঙ্কমুক্ত এবং একটি গতিশীল ও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এ বাহিনীর সব সদস্যের কঠোর পরিশ্রমে বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জাতি গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা দেয়ার ক্ষেত্রে এ বাহিনী আগের চেয়ে অনেক বেশি সফল ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সেখানে তাকে স্বাগত জানান। এ উপলক্ষে বিজিবি সদর দপ্তরে বীর-উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি আকর্ষণীয় কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বিজিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সাহসিকতা, উৎকর্ষমূলক অবদানের জন্য ১০ বিজিবি সদস্যকে বিজিবি পদক (বিজিবিএম), ২০ বিজিবি সদস্যকে প্রেসিডেন্টের বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১০ বিজিবি সদস্যকে বিজিবি মেডাল-সার্ভিস (বিজিবিএমএস) এবং ২০ বিজিবি সদস্যকে পিবিজিএমএস-সার্ভিস (পিবিজিএমএস) দেন। প্রধানমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গা, ঠাকুরগাঁও ও খাগড়াছড়িতে বিজিবির ৫০ শয্যার নবনির্মিত হাসপাতালগুলো উদ্বোধন করেন। তিনি সীমান্ত ব্যাংকের লোগো অবমুক্ত করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এ সময় বিজিবি মহাপরিচালকের হাতে সীমান্ত ব্যাংকের অনুমতিপত্র হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় ‘ট্রিক ড্রিল’ ও ‘ডগস ড্রিল’ প্রত্যক্ষ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বীর-উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে বিজিবি দরবার হলে ভাষণ দেন। ভারতের সঙ্গে এলবিএর সফল বাস্তবায়ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি তার সরকারের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাফল্য এবং এতে সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা ’৭২ সালে দেশে ফেরার পর বিদেশি এক সাংবাদিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সীমান্ত এলাকাকে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। জাতির জনকের সেই প্রত্যাশার কথা স্মরণ রেখে আপনারা সব সময় দেশপ্রেম ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এ বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন। বিজিবিকে তথ্য ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে আইসিটি ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকার পিলখানায় ১০ তলার মার্কেট এবং ৬ তলার বিজিবি কল্যাণ ট্রাস্ট ভবনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ১৫টি ‘সাইক্লোন শেল্টার’ টাইপ বিওপি নির্মাণ করা হয়েছে এবং বিওপিগুলোর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজিবিতে কর্মরত অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবীর সৈনিক ও অসামরিক কর্মচারীদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য বিজিটিসিএন্ডএস, রিজিয়ন, সেক্টর ও বিএসবির ব্যবস্থাপনায় যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে দায়িত্বে পালনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজিবি সদস্যরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সফলতা দেখিয়েছেন। ফলে চোরাচালান, মাদক পাচার, নারী-শিশু পাচার এবং সীমান্ত অপরাধ বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিএসএফের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারের ফলে সীমান্তে নিহতের ঘটনা কমে এসেছে। এ ছাড়া কোনো কারণে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক আটক হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিজিবির অপারেশনাল কার্যক্রমকে বেগবান ও গতিশীল করতে বিজিবির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ৪টি রিজিয়ন সদর দপ্তর স্থাপন করে কমান্ডস্তর বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এ বাহিনীকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিজিবির গোয়েন্দা সংস্থাকে শক্তিশালী করে বর্ডার সিকিউরিটি ব্যুরো স্থাপন করা হয়েছে। ৪টি নতুন সেক্টর ও ৪টি রিজিয়নাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো স্থাপন করা হয়েছে। নতুন অনুমোদিত ১৫টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৩টি ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া অবশিষ্ট দুটি ব্যাটালিয়ন আগামী অর্থবছরে স্থাপন করা হবে।

Post a Comment

0 Comments