সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন ৩৪ মুসলিম
দেশের নতুন সামরিক জোট নিয়ে এখনই রিয়াদের সঙ্গে আলোচনা চায় ঢাকা। এ
সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর
পাঠানো হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় আগ্রহ ব্যক্ত করে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর রিয়াদ সফরের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। তবে
এখনও সৌদি আরবের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ
দূতাবাস সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে
চলেছে। জোট নিয়ে আলোচনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে দেশটির সরকারের
মনোভাব ইতিবাচক বলে ঢাকা বার্তা পেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল
এক কর্মকর্তা গতকাল বিকালে মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এ এইচ মাহমুদ আলী ২১শে ডিসেম্বর ইয়েমেন সফরে যাচ্ছেন। পূর্ব নির্ধারিত ওই
সফরটি শেষ হওয়ার পর যে কোনো সময় মন্ত্রী রিয়াদ যেতে প্রস্তুত। সে ক্ষেত্রে
সৌদি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল বিন আহমেদ আল জুবায়ের কখন সময় দিতে
পারবেন সেই গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। নতুন বছরের শুরুতে সফরটি
হতে পারে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রীর সঙ্গে কাজ করেন এমন এক কর্মকর্তা
বলেন, সফরটি হলে জোটের গঠন প্রক্রিয়া, কোন দেশের কি কমিটমেন্ট এবং সেখানে
বাংলাদেশ বেসামরিক কার্যক্রমে কি ভূমিকা রাখতে পারে- তা নিয়ে আলোচনা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ কোন সামরিক জোটে অংশ নিয়ে যুদ্ধে যেতে পারে না।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের বাইরেও কোনো দেশের ডাকে বাংলাদেশ সৈন্য
পাঠায় না উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে পানি ঘোলা হওয়ার আগেই
সৌদি আরবের সঙ্গে খেলামেলা আলোচনা করতে চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কোন সামরিক
কার্যক্রমে যুক্ত হবে না- এমন ইঙ্গিত দিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, আলোচনার পর
প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত রিভিউ হতে পারে। মন্ত্রীর প্রস্তাবিত সফর
বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সৌদি জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে যাবতীয়
অস্পষ্টতা দূর হবে বলে আশা করেন তিনি। সৌদি আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর
সঙ্গে কাজ করছেন বা করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সৌদির
নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে খুব বেশি আলোচনা হয়নি।
বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সৌদি নতুন একটি সেন্টার
প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এবং সেখানে ওআইসিভুক্ত অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকেও
যুক্ত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে- এমন তথ্য আগেই পেয়েছিল ঢাকা। এ
নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আগেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি টেলিফোন
করেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকতে
বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানান তিনি। কর্মকর্তাদের দাবি- এটি যে সামরিক জোট হবে
সে সম্পর্কে প্রায় অন্ধকারেই ছিলেন তারা। বেসামরিক জোট হিসেবেই
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রাথমিক সমর্থন দিয়েছেন বলেও দাবি
করেন ওই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সৌদি
আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ একদিনের জন্য ঢাকায়
এসেছিলেন।


0 Comments