Advertisement

রামু উপজেলা উপ-নির্বাচন: এলাকাজুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে আ.লীগ!

ramu election
বিশেষ প্রতিবেদক :
ভোটগ্রহণের এক সপ্তাহেরও বেশি দিন বাকি থাকতেই রামু উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে! সরকারি দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার সমর্থকরা প্রতিটি এলাকাতেই ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করে ‘ভোট ছিঁড়ে নেয়া হবে’ বলে প্রকাশ্যেই হুমকি ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রায় প্রতিদিনই বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মারধর ও নানাভাবে
হয়রানি করা হচ্ছে। যারাই বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর হয়ে পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন কিংবা প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন তাদের নির্যাতন-নিপীড়ন করা হচ্ছে। সোমবার সকালেও তেমনই এক ঘটনাকে ঘিরে প্রবীণ এক জনপ্রতিনিধিকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে!
সংশ্লিষ্টদের মতে, রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউনিয়নের প্রবীণ ও সাবেক ইউপি মেম্বার আমিন উল্লাহ ওরফে আমিন মেম্বার রোববার বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরীর পথসভায় বক্তব্য রেখেছিলেন। পরদিন সোমবার ভোরেই রামু থানা পুলিশ এসে ঘুম থেকে তুলে তাঁকে ধরে নিয়ে যায়!
বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী ও তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকতার কামাল আজাদের দাবি, সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের নির্দেশেই ওই জনপ্রতিনিধিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।
তাদের দাবি, সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের ছত্রছায়ায় ও তাঁর প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উল আলম ও তার কর্মী-সমর্থকরা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকেই ভীতিকর করে তুলেছেন। প্রতিটি এলাকাতেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনদের মারধর ও নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে।
তাঁরা বলেন, ‘কোন কোন আওয়ামী লীগ নেতা প্রকাশ্যেই পথসভায় ঘোষণা দিচ্ছেন, ভোটাররা যেন ২১ ডিসেম্বর কেন্দ্রে না যান! ভোট তারাই ছিঁড়ে নেবেন, কাউকে ভোট দিতে হবে না।’
বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। এমনকি রাতের বেলা ভোটের প্রচারণা থেকে ফেরার পথে পুলিশ দিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে।
মাহিন চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকতার কামাল আজাদ জানান, বিএনপির কাউকে দেখলেই নাজেহাল করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। পোষ্টারের উপর পোষ্টার লাগানো হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা গায়েপড়ে ঝগড়া করছেন! তারা পুরো নির্বাচনী এলাকাতেই ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার কৌশল নিয়েছে বলেও মনে করেন রামু উপজেলা বিএনপির এই উপদেষ্টা।
তিনি জানান, তারা জানতে পেরেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা ২১ ডিসেম্বর ভোটের দিন কয়েকটি ইউনিয়নে কেন্দ্র দখল করে ভোট ছিনিয়ে নেয়ার গোপন কৌশল গ্রহণ করেছে।
আকতার কামাল আজাদের মতে, রামু উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে ৭টি ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও তার সমর্থক কর্মী-সমর্থকরা। এই ইউনিয়ন গুলো হলো ফতেখাঁরকুল, দক্ষিণ মিঠাছড়ি, রাজারকুল, ঈদগড়, কচ্ছপিয়া, জোয়ারিয়ানালা ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের ১৮টি কেন্দ্রকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ এসব ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকাও তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ইউনিয়নে যারা নির্বাচন চলাকালিন বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে পারেন এবং এখনই বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন তাদেরও একটি তালিকা তৈরি করেছে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী। এই তালিকায় কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি মেম্বার ছাড়াও তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসিরাও আছেন।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ উল আলম ও তার নির্বাচনী এজেন্টদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সাধারণ ভোটারদের ধারণা, পথেপ্রান্তরে এখন বিএনপির ভোট। মানুষ কেন বিএনপিকে ভালোবাসছেন তাও তারা জানেন না। তবে সেই ভোটে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চাইছে আওয়ামী লীগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সাধারণ ভোটার নির্বাচনকে সরকারি দল, স্থানীয় সাংসদের প্রভাবমুক্ত রাখারও আহবান জানিয়েছেন।
এদিকে কক্সবাজার জেলা বিএনপির মুখপাত্র ও দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরপেক্ষ ভূমিকা ও চিহ্নিত সন্ত্রাসি এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত জনপ্রতিনিধি যারা বিশৃংখলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করছেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে নির্বাচনের সুষ্টু পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় তাদেরকেই নিতে হবে।’

Post a Comment

0 Comments