নয়ন কক্স নিউজ ডেস্ক:
জেলায় চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপে
কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হচ্ছে আজ৷ হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে ১০ সেপ্টম্বর পর্যন্ত৷ এই দুই উপজেলায় বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হওয়ার পর নিবন্ধন কেেন্দ্র গিয়ে নিবন্ধন ও ছবি তোলার কাজ চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত৷ তবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপে ওই দুই জেলায় রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিকের অর্ন্তভূক্তি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশনসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা৷ পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারীদের রয়েছে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা রোহিঙ্গারা৷ এদিকে ভোটার হালনাগাদের সর্বশেষ ধাপে কক্সবাজার জেলা শহরে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে থাকা কয়েক লাখ রোহিঙ্গা ভোটার হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে৷ ইতিমধ্যেই চকরিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও উখিয়া উপজেলায় চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম থেকে প্রায় আট হাজার রোহিঙ্গা বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে৷
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, টেকনাফ ও পেকুয়া উপজেলায় ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ এবং ছবিসহ নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়েছে৷ উখিয়া ও চকরিয়া উপজেলায়র তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলেও ছবিসহ ভোটার নিবন্ধনের কাজ চলমান রয়েছে৷ এই ৬টি উপজেলায় ইতোমধ্যে ৪১ হাজার ২৮১ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও বিশেষ কমিটির যাচাই-বছাইয়ে বাদ পড়েছে ১১ হাজার ৫৩৪ জন৷ বাদ পড়া এসব ব্যক্তি মধ্যেই রোহিঙ্গা রয়েছে প্রায় আট হাজার৷ বাংলাদেশের বৈধ নাগরিক হিসেবে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় বাকিদের যাচাই-বাছাই করে অনুপযুক্ত বিবেচনা করে বাদ দেওয়া হয়েছে৷
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রমতে, তথ্য সংগ্রহের পর বিশেষ কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছে চকরিয়া উপজেলায়৷ ওই উপজেলায় ৪ হাজার ১৮৯ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া উখিয়া উপজেলায় ৩ হাজার ৬১৩ জন, টেকনাফ উপজেলায় ২ হাজার ৯২২ জন, মহেশখালী উপজেলায় ৪১১ জন, পেকুয়া উপজেলায় ২৬৬ জন ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ১৩৩ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে৷
চকরিয়া উপজেলায় প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ হাজার ৯৬৮ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷ উখিয়া উপজেলায় ৫ হাজার ৩২৩ জনের, টেকনাফ উপজেলায় ৬ হাজার ৩১০ জনের, মহেশখালী উপজেলায় ৯ হাজার ৪২৬ জনের, পেকুয়া উপজেলায় ৪ হাজার ৬৮৬ জনের ও কুতুবদিয়া উপজেলায় ৪ হাজার ৩৯২ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্রে আরো জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে রোহিঙ্গাসহ যারা বাংলাদেশের নাগরিক নয় তাঁদের অর্ন্তভূক্তি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী হওয়ায় ইতোমধ্যে কক্সবাজার জেলার সবক’টি উপলোকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ এসব উপজেলায় রোহিঙ্গা অন্তভূক্তি ঠেকাতে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে৷ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ওই কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ এখানে বিশেষ ফরমের মাধ্যমে ব্যাপক যাচাই-বাছাই করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে৷
এদিকে উখিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, টেকনাফ, পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলায় এ পর্যন্ত ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ২০ হাজার ৩৫১ জনের৷ তাদের মধ্যে পুরুষ ১২ হাজার ৫৬৭ জন এবং নারী ৭ হাজার ৭৮৪ জন৷
সূত্রমতে, প্রথম ধাপে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া এবং টেকনাফ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়৷ ১৫ থেকে ২৮ মে পর্যন্ত চলে তথ্য সংগ্রহের কাজ৷ ওই তিন উপজেলায় নিবন্ধন ও ছবি তোলার কাজ শুরু হয় ২৬ মে থেকে এবং শেষ হয় ১৫ জুলাই৷ দ্বিতীয় ধাপে কক্সবাজারের উখিয়া, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ১৫ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷ এই উপজেলায় ছবি তোলার কাজ চলমান রয়েছে৷ তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপে কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলায় বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টম্বর পর্যন্ত৷ এরপর নিবন্ধন কেেন্দ্র গিয়ে নিবন্ধন ও ছবি তোলার কাজ চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত৷

0 Comments