Advertisement

চকরিয়া-মহেশখালীর আন্ডারওয়াল্ড নিয়ন্ত্রণে কারান্তরীন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা

ক্রাইম রিপোর্টার ॥
কারাগারে বসেই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা চকরিয়া-মহেশখালীর আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগিরা চাঁদাবাজি, জায়গা দখল, বিনা পয়সায় চিংড়ি ঘেরের শিয়ার দাবী, অপহরণ, খুনসহ নানা অপরাধ করে যাচ্ছে। জেলে বসেই আদায়কৃত টাকার একটি বড় অংশ তারা পাচ্ছে।
জানা যায়, বর্তমানে ১০/১৫জন চকরিয়া উপজেলার, মহেশখালী উপজেলার ৩০/৩৫জন শীর্ষ সন্ত্রাসী জেলে আটক রয়েছে। তার মধ্যে চকরিয়ার আ.লীগের বহিস্কৃত নেতা ফজলুল করিম সাঈদী, ডুলাহাজারার বুলেট ফারুখ, মালুমঘাট এলাকার হিমাংশু নাথ, বদরখালীর পেটান ওরফে বাগান, পাইক্যা, র্পূব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঘাইট্রাচর এলাকার এনামূল হক প্রকাশ সুজন, আব্দুল মজিদ পুতসহ আরো অনেকে। মহেশখালীর সোনাদিয়ার মোকারম হোছাইন (জাম্ভু),হোয়ানকের রশিদ , কালাগাজী পাড়া এলাকার জালাল বাহিনীর প্রধান জালাল, তার সহযোগি নুরুল আমিন, শাহ আলম, একই ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকার ইসমাঈল, কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোঃশাহ ঘোনার আইয়ুব আলী, ফকিজুম পাড়ার মেকানিংকস সাহেব উদ্দিন, আঁধার ঘোনার ছানা উল্লাহ, মাহবুব, নোনাছড়ির হেলাল, শাহাজান, সোনা পাড়ার আনোয়ার ডাকাত, ঝাপুয়ার নাজু, আফজলিয়া পাড়া- উত্তরনলবিলার সোনাইয়া ডাকাত, নেজাম উদ্দিন ওরফে (নেজাম ডাকাত), আব্দুল হামিদ, রুবেল, ধলঘাটার ফজল কাদের অন্যতম। এরা প্রত্যেকে ডাকাতি কিংবা কোন না কোন অপরাধ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জেলে থাকা ডজন খানিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম উঠে আসলেও অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম পাওয়া যায়নি। এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কক্সবাজার জেলা কারাগারে বসেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে চলে এসে এলাকায় পূর্বের পেশায় জড়িয়ে পড়ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।  বাইরে থাকা তাদের সহযোগীরা জেলে গিয়ে বস”দের সাথে সাক্ষৎ করে নির্দেশনা নিয়ে আসে। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশনা মত চাঁদাবাজি,ঘের ডাকাতি,খুন, অপহরণ করছে বিভিন্ন এলাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া পৌর শহরে, জিদ্দাবাজার, হারবাং,মগবাজার, কোনাখালী, ডুলাহাজারা,খুটাখালী,মহেশখালীর কুতুবজোম,ছোট মহেশখালী,বড় মহেশখালী,সোনাদিয়া, হোয়ানক,কালারমার ছড়া। এ দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করছে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগিরা। শুধু জেলে নয়,জেলের বাইরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশমত ব্যবসায়ী বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের র্টাগেট করে তাদের কাছে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম বলে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে অহরহ।
আদায়কৃত চাঁদার মোটা অংশ বসদের কাছে পৌঁছে যায় বলে জানা গেছে। চাঁদা আদায় ছাড়াও জায়গা জমি দখল,বেদখলের কাজও করছে বাইরে থাকা সন্ত্রাসীরা। টাকার বিনিময়ে মানুষ জবাই করতে ভাড়া যাচ্ছে এসব কিলারা। প্রতিনিয়ত জায়গা-দখলের ঘটনা ঘটলেও তা প্রকাশ হচ্ছে না। ভয়ে কেউ মূখ খুলতে চায়না। এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে ইয়াবা,মাদক অস্ত্র ব্যবসা চলে বলে লোক মুখো শোনা গেছে।
চকরিয়া-মহেশখালীর বড় বড় ইয়াবা মাদক স্পট গুলো জেলে এবং বাইরে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণ করছে।   খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চকরিয়ার কসাই পাড়া, হারবাং মগপাড়া, সংযুক্ত আজিজনগর মগপাড়া, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, ফুলছড়ি নতুন অফিস, মহেশখালীর বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, হোয়ানক, কালারমারছড়া বড় বড় মাদক স্পট গুলো জেলে বসেই শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রন করছে। এসব শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা এ স্পট গুলো দেখ ভাল করে। এসব স্পট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে তার একটি অংশ বসের কাছে পৌঁছে দেয় সহযোগীরা। অভিযোগ রয়েছে পুলিশে কিছু অসাধু কর্মকতা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত রয়েছে। এসব মাদক স্পটের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে।
চাঁদা না দিলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় তারা। এ কারনে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এবং পুলিশকে ম্যানেজ করেই দিব্য মাদক ব্যবসা করে মাদক ব্যবসায়ারী। অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জেল থেকে পরিবারের কাছে নিয়মিত মোটা অংকের টাকা পাটায় তাদের জামিন নিতে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের টাকায় সংসার ও চলে।
কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোঃ নুরুন্নবী জানান, মহেশখালী স্থল পথে যাতায়াতের প্রবেশদ্ধার কালামারছড়া ডাকাতদের জোন উত্তরনলবিলা-মাতারবাড়ী সড়কে বিগত সময়ে আশংকা জনক হারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
 গত ৮ ফেব্রুয়ারী মহেশখালী থানার দুঃসাহসিক ওসি আলমগীর হোসেন ইউনিয়নের ইউনুছখালী বাজার প্রাঙ্গনে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্ত্রাস-ডাকাতদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করে ওসি উপরোক্ত কথা বলার পর থেকে ছোঠ-খাঠেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও  ডাকাতির মত জঘন্যতম সড়ক ডাকাতি বন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষ এখন স্বাভাবিক চলাফেরা করছে।
অপরদিকে, দীর্ঘদিন পরে হলে ও পুলিশ এবং ইউপি সদস্য নুরুন্নবী,ইকবাল বাহার চৌধুরী’শাপলাপুর ষাইটমারা”র ইউপি সদস্য আহমদ কবিরের শ্রমের ফল হিসেবে গত ৪ মাস, সড়কে গণ ডাকাতি বন্ধ হওয়ায় জনমনে স্বস্থি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে,গত সময়ে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে কালারমারছড়া উত্তরনলবিলা,নোনাছড়ি,আঁধারঘোনা এলাকার ৪/৫ জন ডাকাত সদ্দার আহত অব্যস্থায় গ্রেফতার হলে তাদের সহযোগিরা মহেশখালী থানার ওসি আলমগীর হোসেনের ভয়ে দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দেয়। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে ভাটা পড়ায় ডাকাতদল ফের কালারমারছড়ার বালুর ডেইল সড়কের গোলাম কুদ্দুস চৌধুরীর কামার বাড়ীর সংল্গন এলাকায় সড়ক ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে এমন কথা শুনা যাচ্ছে। কিন্তু তা প্রকাশ পায়নি।
কক্সবাজার চকরিয়া সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সাকের্ল) মোঃ মাসুদ বলেন, কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নিতে পারি। অভিযোগ না করলে করার কিছু থাকে না। সন্ত্রাসীরা যাতে চাঁদাবাজি-ডাকাতিসহ এধরনের অপরাধ করতে না পারে এজন্য কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিটি এলাকার উপর আমাদের নজর দারী রয়েছে। জানা যায়, চিংড়ি মৌসুমকে সামনে রেখে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙ্গিয়ে ও অনেকে চাঁদাবাজি করছে। জেলে আটক থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে সেল ফোনে চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে ঘের ডাকাতি, হত্যা বা অপহরণের হুমকি দেয় তারা।

Post a Comment

0 Comments