Advertisement

রামুতে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হয়ে নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অসহায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাত, এনজিও সংস্থার নামে টাকা উত্তোলন, দাঙ্গা হাঙ্গামা ও অসামাজিক কর্মকান্ডে পক্ষে বিপক্ষে অবস্থানসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, শিক্ষক জামাল হোছাইনের বাড়ি দক্ষিণ মিঠাছড়ির চরপাড়া এলাকায় হলেও নিয়মিত কক্সবাজার শহরে অবস্থান করেন। তিনি সরকারী বেসরকারী, এনজিও সংস্থাসহ ডজনখানেক ভূঁইফোড়া সংগঠনের সাথে জড়িত থাকায় প্রতিদিন বিদ্যালয় ছুটির আগে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ওই শিক্ষক একজন সরকারী চাকুরীজীবী হয়েও সরকারের আদেশ নির্দেশ ও নীতিমালাকে তোয়াক্কা করেন না। তিনি সরকারী নীতিমালা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকদের অভিযোগ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে জামাল হোছাইনের ভালো সম্পর্ক নেই। সকল শিক্ষকদের মধ্যে সে বিভিন্ন ধরণের দলাদলি ও কোন্দল সৃষ্টি করে আসছে। এতে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ায় দারুণভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে ওই শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।
স্থানীয় কিছু চিহ্নিত বখাটে লোকজনের সহযোগিতায় ওই শিক্ষক দীর্ঘ দিনের অর্জিত ঐতিহ্যবাহি বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করে যাচ্ছে। তারা আরো জানান, জামাল হোছাইন কখনো মানবাধিকার সংগঠন, আবার কখনো সামাজিক সংগঠন, আবার কখনো অমুখ কেজি স্কুলের উপদেষ্টা, আবার কখনো বিভিন্ন সংস্থার আজীবন সদস্য,আবার কখনো স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। শুধু তাই নয় এসব দায়িত্ব ও পদবী দিয়ে বিভিন্ন সময় লিপলেট প্রকাশসহ পেপার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারও করেন ওই শিক্ষক। সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রশ্ন জামাল হোছাইন আসলে তুমি কার!
গত ৮ মার্চ দক্ষিণ মিঠাছড়ি চেইন্দা লারপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে সাবেক চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের শীর্ষ এক নেতার (ক্রয়কৃত) মালিকানাধীন জমি নিয়ে দু’পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে চেইন্দা লারপাড়া এলাকায় কৌশলে অবস্থান নিয়ে আওয়ামীনেতার প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যানের লোকজনদের দা, লাটি, হাতুড়ি, কিরিচসহ বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জান দিয়ে সহযোগিতা করে শিক্ষক জামাল হোছাইন। খবর পেয়ে র‌্যাব ও রামু থানা প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে জামাল হোছাইনসহ দু’পক্ষের লোকজন নিরাপদ স্থানে চলে যান।
উল্লেখ্য যে, সরকারী ভাবে স্কুল শ্রেণী কক্ষে কোচিং নিষিদ্ধ করা হলেও ওই সহকারী শিক্ষক ও এলাকার কিছু উশৃঙ্খল যুবকদের নিয়ে নিজেই স্কুলের শ্রেণী কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করান। স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারী মাসে ও ২১ মে দক্ষিণ মিঠাছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হয়। অসহায় দরিদ্র শিক্ষার্থী অভিভাবকরা সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে উপবৃত্তির টাকা গ্রহণ করেন। উপবৃত্তির টাকা গ্রহণ করে দ্বিতলা ভবন থেকে নিচ তলায় নামার পর অভিভাবকদের (মা) কাছ থেকে কোচিং ফি বকেয়া থাকার কথা বলে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের কাছ থেকে উপবৃত্তির প্রাপ্ত পুরোটাই হাতিয়ে নেয়।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক বাদল চন্দ্র ধর জানান, জামাল হোছাইন এনজিও সংস্থা ইউনিসেফ এর ত্রাণ কার্ড দেয়ার কথা বলে আমার এলাকার ১০/১২জন পুরুষ ও নারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫শত টাকা করে সংগ্রহ করেন। আমিসহ এলাকার নারী পুরুষ সাহায্য নেওয়ার জন্য দক্ষিণ মিঠাছড়ি পানেরছড়ার রাখাইন পল্লী এলাকায় উপস্থিত হলে দেখতে পাই আরো  ৫ ও ৬ (পাঁচ ও ছয়) শত লোক ত্রাণের কার্ড নিয়ে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত (চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার বাসিন্দা) ইউনিসেফের এক কর্মকর্তার কাছে ৫শত টাকা নেয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তাকে ধমক দিয়ে বলেন এখানে কোন টাকা পয়সা আদায় করা হয়নি বরং আপনাদের জন্য ত্রাণ সামগ্রীর পাশাপাশি নাস্তারও ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় নাস্তার ব্যবস্থা করা হয়নি।
ওই শিক্ষক আরো জানান, এখান থেকে বুঝা যায় জামাল হোছাইনের এক দিনের আয় কত ? তিনি আরো জানান জামাল হোছাইন একজন শিক্ষক হয়ে নিজ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকা, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তদন্ত টিমের কাছে ওই শিক্ষক অঙ্গিকার নামায় মুচলেকা দেন।
এদিকে, ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাল হোছাইনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কলাতলী এলাকায় পরে বাজারঘাটা ইসলামী ব্যাংকে অবস্থানের কথা জানান। বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি তার সাথে সাক্ষাত করার জন্য বলেন। তবে মুঠোফোনে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করা যাবে না বলে উল্লেখ্য করেন। এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত টিমের কাছে মুচলেখা দেয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীহার কান্তি চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ সত্য বলে স্বীকার করেন। তবে মাষ্টার জামাল হোছাইন আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারী অফিস আদালতে ও শিক্ষা অফিসে যে অভিযোগ দিয়ে ছিলেন ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন যা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমানিত হয়নি। শিক্ষা অফিস থেকে একাধিক বার বিভিন্ন সময় তদন্ত টিম এসে ব্যাপক তদন্ত শেষে কোন অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মাষ্টার জামাল হোছাইন অপরাধ স্বীকার করে ভবিষ্যতে মিথ্যা অভিযোগ না দেয়ার মুচলেকা দেন তদন্ত টিমের কাছে।
রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছালামত উল্লাহ’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি তবে অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Post a Comment

0 Comments