বার্তা রিপোর্ট ॥
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। প্রতিদিন উপজেলার কোথাও না কোথাও বসতবাড়ী কিংবা যানবাহনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড সংগঠিত হচ্ছে। থানা পুলিশের খেয়াল নেই এসব অপরাধ কাজে। মানুষ চরম আতংকি আর নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে চলছে গ্রেফতার বাণিজ্য। রাতেরবেলায় কয়েকটি পেট্রলপার্টি অপরাধী গ্রেফতার অভিযান চালান। অপরাধী নয়, নিরীহ লোকজনকে রাতে ধরে পথেই বিক্রি,আবার থানায় এনেও বিক্রি ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে থানায় বেড়ে গেছে দালাল চক্রের কদর। দালাল চক্রের কারণে বিচারপ্রার্থীরাই হয়রানীর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, সম্প্রতি এই উর্বরশীল থানা হতে বদলী হয়ে যান ওসি ফরহাদ। নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেন ইমিগ্রেশন শাখায় হতে বদলী হয়ে আসা ও চট্ট্রগামের ফটিরছড়ির বাসিন্দা ওসি প্রভাস চন্দ্র ধর। প্রভাষ চন্দ্র যোগদান করার পরপরই দালালরা ফের নড়ে চড়ে বসেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নয়, বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনই দালালী কাজে তৎপর রয়েছে।
ভোক্তভোগীরা জাানান, মাদক মামলায় আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়া, জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ, নারী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তকে পুলিশের নোটিশ, আসামি আটকের পর গ্রেপ্তার না দেখিয়ে ছাড়ানো, জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে দায়ের করা মামলার তদবিরসহ হরেকরকম তদবিরবাজি চলছে এই চকরিয়া থানায়। আর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে সারাক্ষণ থাকে মানুষের ভিড়। এমনকি কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি সারাদিন ওসির চেম্বারে চেয়ার দখল করে রাখে এবং প্রায় সময় ওসির বাসায় রাতের খাবার খেয়েও বাড়ী যান এমন দালাল রয়েছে কয়েকজন। এসব চিহ্নিত ব্যক্তিদের কারণে নিরীহ হয়রানী শিকার আর অপরাধীরা পার পাচ্ছে। লাভবান হচ্ছে দালাল আর কতিপয় পুলিশ সদস্য।
এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, থানায় সালিশী বৈঠকের নামে কতিপয় নামধারী সাংবাদিক (দালাল) রাত দিন থানাকে ঘিরে গড়ে তুলেছে বিচারশালা। ফলে পুলিশের নিকট আসা বিচার প্রার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। থানার অভ্যন্তরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এদের নিরাপদ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে। থানায় কোন সেবাপ্রার্থী প্রবেশ করা মাত্র বিভিন্ন কৌশলে সেবাপ্রার্থীদের দালালরা তাদের নিযন্ত্রণে নিয়ে অভিযোগ শোনেন। অভিযোগের ধরণের ওপর নির্ভর করে সালিশ প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেন। তারাই ঠিক করে দেন থানায় কোন কর্মকর্তা বিচারকের দায়িত্ব পাবে ও বিচারের রায়। এভাবে তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে সালিশ বাণিজ্যর নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। চক্রটি ভুক্তভোগীদের যে কোন এক জনের পক্ষ হয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আপোষ রফা-দফার কাজে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়েও বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। থানাকে প্রহসনের বিচারালয়ে পরিণত করায় পুরো উপজেলার আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি যে মারাত্মক অবনতি ঘটেছে সে দিকে খেয়াল নেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি)।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, চলমান অপরাধী গ্রেফতার অভিযানের নামে পুরো চকরিয়া উপজেলায় প্রতিরাতে থানার কয়েকটি পেট্রল পার্টি অভিযানে নামে। রাতে বেলায় অপরাধীর চেয়ে নিরীহদের আটক করে গাড়ীতে তুলা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে দালালরা কিনে নেন আটককৃতদের। আবার আটকের পর যে কয়জন থাকে সেই সব আটক ব্যক্তিদের সকাল হতেই থানা হাজত করা বিক্রি করা হচ্ছে। আসামী কিংবা লোকজন বিক্রির ঘটনা থানায় চলছে প্রকাশ্যে। অবশ্য ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর এ ধরনের আসামী বিক্রির কথা অস্বীকার করেন।
গত ২৪ মে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে এক বিধবার বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র ডাকাত দল এসময় বিধবা ও তার কলেজ পড়–য়া মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুট করে। গত ২৪ মে রাত ১০টায় পুলিশ-ডাকাত বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের দুই কনস্টেবলসহ ১ ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ডাকাতকে গ্রেফতার করে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ২২ ম রাতে শিকলঘাটা-মানিকপুর সড়ক ও বেতুয়া বাজার সড়কে ২০টি যানবাহনে ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনার রেশ না কাটতেই ঘটেছে এ ডাকাতির ঘটনা। ডাকাত দলের এলোপাতাড়ি মারধরে আহত হয়েছে ১০ জন। একই দিন ২২ মে রাত সাড়ে ৯টায় শিকলঘাট-মানিকপুর সড়কের মানিকপুর ঢালায় মুখোশপরা একদল ডাকাত একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতি করে। পরে ওই মাইক্রোবাসটি ব্যারিকেড দিয়ে আরও পাচঁটি যানবাহনে ডাকাতি সংগঠিত করে। ওইসময় ড্রাইভার-হেলপারসহ সাতজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
২২মে রাত সাড়ে ৯টায় চকরিয়া-লামা সড়কের হাঁসের দিঘী বাজারের পূর্ব পাশের সুপারি বাগান এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেল গতিরোধ করে তার কাছ থেকে ৮০হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় একদল দুর্বৃত্ত। ২৫ মে সকালে চকরিয়া উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়ন এলাকায় মাতামুহুরী ফাঁড়ির পুলিশ ২জন আসামী আটক করার ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জন আহত হয়েছে। গত ২৫মে থানা রাস্তার মাথা থেকে অজ্ঞানামা এক নারী লাশ উদ্ধার করা হয়। চকরিয়া থানায় প্রতিদিন কোন নাকোন অপরাধ সংগঠিত হলেও বেশীর ভাগ মামলা পর্যন্ত গড়াচ্ছে না। বেশীর ভাগ অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। থানায় আইনের আশ্রয় নিতে এসে উল্টো হয়রানীর শিকার হওয়ায় আক্রান্ত থানা মুখি হচ্ছে না বলেও অভিযোগ।
এছাড়া , গত ২০দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০টির অধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে ২০ জনের অধিক ব্যক্তি। লুট হয়েছে নগদ টাকা সহ কোটি টাকার মালামাল। চুরি , চাঁদাবাজি আর ডাকাতির সাথে পাল্লা দিয়ে ঘটেছে গত ২০ দিনে মালুমঘাটে এসএসসি পরীক্ষার্থী, চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী, বদরখালীতে ২ জন , ডুলাহাজারায় ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রীসহ অপহরণেরর ঘটনা ঘটেছে ১১টি। কিন্তু এসব অপহরণের ঘটনার বেশীর ভাগই থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু ভিকটিম উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। থানার এক কিলোমিটার দুরত্বে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তায়। ভুমিদস্যু, চাঁদাদাবী ও চাঁদাবাজীর ঘটনার পাশাপাশি অপহরণ আর হত্যার হুমকির ঘটনায়ও একাধিক ব্যক্তি ছাড়া সাংবাদিক শাহজাহানচৌধুরী শাহীনও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছে। হুমকি দাতাকে গ্রেফতার ও তার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মদ ওসি প্রভাষকে নির্দেশ দিলেও তিনি হুমকি দাতা নুরুল আজিম প্রকাশ আজিম্যা ডাকাতের কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা নিয়ে নির্দেশ মানছে না। এতে আরো পুলিশ বেসামাল হয়েছে।
গত ৩ মে চকরিয়া দিন দুপুরে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণ হয়েছে। অপহৃতা ঢেমুশিয়া জিন্নাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। সে চট্টগ্রাম বোনের বাসা থেকে গাড়ী করে চকরিয়া আসা মাত্রই অপহরণের শিকার হন।
গত ৮ মে পৌরসভার পালাকাটা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরুদের জের ধরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা মোহাম্মদ ইসমাঙ্গল (৫৫) নিহত হয়েছে । ৬ মে মঙ্গলবার অপহরন হয় রোমানা ইফতার নুরী । অপহরণের আধাঘন্টা পর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়। উপজেলার বরইতলী সিকদার পাড়ার কলেজ ছাত্রী সামিরা জান্নাত নায়েলা গত ১৮ এপ্রিল অপহরণ হওয়ার পরও উদ্ধার হয়নি। গত ১০ মে রাত ১২ টার পৌরসভার কোচপাড়া থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই গহবধুর নাম রমিজা খাতুন (২২)। সেই ওই এলাকার কালামিয়ার (স্ত্রী)। পাষন্ড স্বামী তাকে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
ডুলাহাজারাস্থ”বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গেইটের কটেজে ও মালুমঘাটার আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজ করা সময় থানা পুলিশের হাতে খদ্দের সহ পতিতা আটক হলেও নগদে বিক্রির কাজ চলেছে অবাধে। এদিকে, লামা -আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি হতে ঢুকছে ইয়াবা, মাদক গাঁজার বড় বড় চালান। উঠতি বয়সের যুবকেরা এসব মাদক দ্রব্য সেবন করায়, চুরি ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা,অপহরন, ধর্ষনের মত ঘটনা ঘটছে। ফলে আইনশৃংখলার চরম অবনতি ঘটছে।
এছাড়া পুলিশকে বশে এনে একজনের জমি অন্য জনে সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করছে। এরপরেও পুলিশ নিশ্চুপ। ভয়াবহ অরাজকতা ও বিশৃংখল পরিস্থিতি বিরাজ করায় সাধারণ লোকজন থেকে সচেতন মহল পর্যন্ত এক বাক্যে বলে বেড়াচ্ছে গত ১২ বছরের ইতিহাসে বর্তমান পরিস্থিতির শিকার হননি এলাকার মানুষ। ভয়াবহ ভাবে আইনশৃংখলার অবনতি হলেও পুলিশ দায়সারা ও নতজানু মনোভাবে এ পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।
একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বর্তমান চকরিয়া থানার ওসি নিজের মত করে বলী খেলার নামে জুয়ার আসরে অনুমতি দিচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপকে। আর ওই জুয়ার আসরে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রসারী অস্ত্রের মহড়ায় আকাশ বাতাশ ভারী করে তুলছে প্রতিদিন। অথচ তাদের নামে নেওয়া হয় না মামলা, অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেফতারে অভিযান। চকরিয়া উপজেলায় হত্যা. চুরি, ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়ানোর কারণে জনমনে বিরাজ করছে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর আতংক।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর এর সাথেযোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষনিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
থানায় দালাল চক্রের উৎপাতের বিষয়ে তিনি দাবী করেন, থানায় দালালের কোন স্থান নেই। দালালের বিরুদ্ধে আমি স্বোচ্ছার।
নয়ন কক্স নিউজ ডট কম কক্সবাজার। ফোন: +৮৮ ০১৮১২০২৪০৮০
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি ঘটেছে। প্রতিদিন উপজেলার কোথাও না কোথাও বসতবাড়ী কিংবা যানবাহনে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, খুনসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড সংগঠিত হচ্ছে। থানা পুলিশের খেয়াল নেই এসব অপরাধ কাজে। মানুষ চরম আতংকি আর নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। সেই সাথে চলছে গ্রেফতার বাণিজ্য। রাতেরবেলায় কয়েকটি পেট্রলপার্টি অপরাধী গ্রেফতার অভিযান চালান। অপরাধী নয়, নিরীহ লোকজনকে রাতে ধরে পথেই বিক্রি,আবার থানায় এনেও বিক্রি ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে থানায় বেড়ে গেছে দালাল চক্রের কদর। দালাল চক্রের কারণে বিচারপ্রার্থীরাই হয়রানীর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, সম্প্রতি এই উর্বরশীল থানা হতে বদলী হয়ে যান ওসি ফরহাদ। নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেন ইমিগ্রেশন শাখায় হতে বদলী হয়ে আসা ও চট্ট্রগামের ফটিরছড়ির বাসিন্দা ওসি প্রভাস চন্দ্র ধর। প্রভাষ চন্দ্র যোগদান করার পরপরই দালালরা ফের নড়ে চড়ে বসেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নয়, বিএনপি ও জামায়াতের লোকজনই দালালী কাজে তৎপর রয়েছে।
ভোক্তভোগীরা জাানান, মাদক মামলায় আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়া, জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ, নারী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তকে পুলিশের নোটিশ, আসামি আটকের পর গ্রেপ্তার না দেখিয়ে ছাড়ানো, জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতে দায়ের করা মামলার তদবিরসহ হরেকরকম তদবিরবাজি চলছে এই চকরিয়া থানায়। আর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে সারাক্ষণ থাকে মানুষের ভিড়। এমনকি কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি সারাদিন ওসির চেম্বারে চেয়ার দখল করে রাখে এবং প্রায় সময় ওসির বাসায় রাতের খাবার খেয়েও বাড়ী যান এমন দালাল রয়েছে কয়েকজন। এসব চিহ্নিত ব্যক্তিদের কারণে নিরীহ হয়রানী শিকার আর অপরাধীরা পার পাচ্ছে। লাভবান হচ্ছে দালাল আর কতিপয় পুলিশ সদস্য।
এলাকাবাসি সুত্রে জানা গেছে, থানায় সালিশী বৈঠকের নামে কতিপয় নামধারী সাংবাদিক (দালাল) রাত দিন থানাকে ঘিরে গড়ে তুলেছে বিচারশালা। ফলে পুলিশের নিকট আসা বিচার প্রার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। থানার অভ্যন্তরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এদের নিরাপদ বিচরণ লক্ষ্য করা গেছে। থানায় কোন সেবাপ্রার্থী প্রবেশ করা মাত্র বিভিন্ন কৌশলে সেবাপ্রার্থীদের দালালরা তাদের নিযন্ত্রণে নিয়ে অভিযোগ শোনেন। অভিযোগের ধরণের ওপর নির্ভর করে সালিশ প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেন। তারাই ঠিক করে দেন থানায় কোন কর্মকর্তা বিচারকের দায়িত্ব পাবে ও বিচারের রায়। এভাবে তারা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগে সালিশ বাণিজ্যর নামে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। চক্রটি ভুক্তভোগীদের যে কোন এক জনের পক্ষ হয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আপোষ রফা-দফার কাজে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়েও বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। থানাকে প্রহসনের বিচারালয়ে পরিণত করায় পুরো উপজেলার আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি যে মারাত্মক অবনতি ঘটেছে সে দিকে খেয়াল নেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি)।
বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, চলমান অপরাধী গ্রেফতার অভিযানের নামে পুরো চকরিয়া উপজেলায় প্রতিরাতে থানার কয়েকটি পেট্রল পার্টি অভিযানে নামে। রাতে বেলায় অপরাধীর চেয়ে নিরীহদের আটক করে গাড়ীতে তুলা হয়। কিন্তু পথিমধ্যে দালালরা কিনে নেন আটককৃতদের। আবার আটকের পর যে কয়জন থাকে সেই সব আটক ব্যক্তিদের সকাল হতেই থানা হাজত করা বিক্রি করা হচ্ছে। আসামী কিংবা লোকজন বিক্রির ঘটনা থানায় চলছে প্রকাশ্যে। অবশ্য ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর এ ধরনের আসামী বিক্রির কথা অস্বীকার করেন।
গত ২৪ মে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া গ্রামে এক বিধবার বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র ডাকাত দল এসময় বিধবা ও তার কলেজ পড়–য়া মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুট করে। গত ২৪ মে রাত ১০টায় পুলিশ-ডাকাত বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের দুই কনস্টেবলসহ ১ ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ডাকাতকে গ্রেফতার করে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত ২২ ম রাতে শিকলঘাটা-মানিকপুর সড়ক ও বেতুয়া বাজার সড়কে ২০টি যানবাহনে ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনার রেশ না কাটতেই ঘটেছে এ ডাকাতির ঘটনা। ডাকাত দলের এলোপাতাড়ি মারধরে আহত হয়েছে ১০ জন। একই দিন ২২ মে রাত সাড়ে ৯টায় শিকলঘাট-মানিকপুর সড়কের মানিকপুর ঢালায় মুখোশপরা একদল ডাকাত একটি মাইক্রোবাসে ডাকাতি করে। পরে ওই মাইক্রোবাসটি ব্যারিকেড দিয়ে আরও পাচঁটি যানবাহনে ডাকাতি সংগঠিত করে। ওইসময় ড্রাইভার-হেলপারসহ সাতজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
২২মে রাত সাড়ে ৯টায় চকরিয়া-লামা সড়কের হাঁসের দিঘী বাজারের পূর্ব পাশের সুপারি বাগান এলাকায় এক ব্যবসায়ীর মোটরসাইকেল গতিরোধ করে তার কাছ থেকে ৮০হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় একদল দুর্বৃত্ত। ২৫ মে সকালে চকরিয়া উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়ন এলাকায় মাতামুহুরী ফাঁড়ির পুলিশ ২জন আসামী আটক করার ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জন আহত হয়েছে। গত ২৫মে থানা রাস্তার মাথা থেকে অজ্ঞানামা এক নারী লাশ উদ্ধার করা হয়। চকরিয়া থানায় প্রতিদিন কোন নাকোন অপরাধ সংগঠিত হলেও বেশীর ভাগ মামলা পর্যন্ত গড়াচ্ছে না। বেশীর ভাগ অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। থানায় আইনের আশ্রয় নিতে এসে উল্টো হয়রানীর শিকার হওয়ায় আক্রান্ত থানা মুখি হচ্ছে না বলেও অভিযোগ।
এছাড়া , গত ২০দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০টির অধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে ২০ জনের অধিক ব্যক্তি। লুট হয়েছে নগদ টাকা সহ কোটি টাকার মালামাল। চুরি , চাঁদাবাজি আর ডাকাতির সাথে পাল্লা দিয়ে ঘটেছে গত ২০ দিনে মালুমঘাটে এসএসসি পরীক্ষার্থী, চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী, বদরখালীতে ২ জন , ডুলাহাজারায় ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রীসহ অপহরণেরর ঘটনা ঘটেছে ১১টি। কিন্তু এসব অপহরণের ঘটনার বেশীর ভাগই থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু ভিকটিম উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। থানার এক কিলোমিটার দুরত্বে ভাতিজার হাতে চাচা খুনের ঘটনা ঘটেছে গত সপ্তায়। ভুমিদস্যু, চাঁদাদাবী ও চাঁদাবাজীর ঘটনার পাশাপাশি অপহরণ আর হত্যার হুমকির ঘটনায়ও একাধিক ব্যক্তি ছাড়া সাংবাদিক শাহজাহানচৌধুরী শাহীনও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেছে। হুমকি দাতাকে গ্রেফতার ও তার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মদ ওসি প্রভাষকে নির্দেশ দিলেও তিনি হুমকি দাতা নুরুল আজিম প্রকাশ আজিম্যা ডাকাতের কাছ থেকে অন্যায় সুবিধা নিয়ে নির্দেশ মানছে না। এতে আরো পুলিশ বেসামাল হয়েছে।
গত ৩ মে চকরিয়া দিন দুপুরে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণ হয়েছে। অপহৃতা ঢেমুশিয়া জিন্নাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। সে চট্টগ্রাম বোনের বাসা থেকে গাড়ী করে চকরিয়া আসা মাত্রই অপহরণের শিকার হন।
গত ৮ মে পৌরসভার পালাকাটা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরুদের জের ধরে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচা মোহাম্মদ ইসমাঙ্গল (৫৫) নিহত হয়েছে । ৬ মে মঙ্গলবার অপহরন হয় রোমানা ইফতার নুরী । অপহরণের আধাঘন্টা পর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়। উপজেলার বরইতলী সিকদার পাড়ার কলেজ ছাত্রী সামিরা জান্নাত নায়েলা গত ১৮ এপ্রিল অপহরণ হওয়ার পরও উদ্ধার হয়নি। গত ১০ মে রাত ১২ টার পৌরসভার কোচপাড়া থেকে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই গহবধুর নাম রমিজা খাতুন (২২)। সেই ওই এলাকার কালামিয়ার (স্ত্রী)। পাষন্ড স্বামী তাকে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
ডুলাহাজারাস্থ”বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গেইটের কটেজে ও মালুমঘাটার আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কাজ করা সময় থানা পুলিশের হাতে খদ্দের সহ পতিতা আটক হলেও নগদে বিক্রির কাজ চলেছে অবাধে। এদিকে, লামা -আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি হতে ঢুকছে ইয়াবা, মাদক গাঁজার বড় বড় চালান। উঠতি বয়সের যুবকেরা এসব মাদক দ্রব্য সেবন করায়, চুরি ডাকাতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা,অপহরন, ধর্ষনের মত ঘটনা ঘটছে। ফলে আইনশৃংখলার চরম অবনতি ঘটছে।
এছাড়া পুলিশকে বশে এনে একজনের জমি অন্য জনে সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করছে। এরপরেও পুলিশ নিশ্চুপ। ভয়াবহ অরাজকতা ও বিশৃংখল পরিস্থিতি বিরাজ করায় সাধারণ লোকজন থেকে সচেতন মহল পর্যন্ত এক বাক্যে বলে বেড়াচ্ছে গত ১২ বছরের ইতিহাসে বর্তমান পরিস্থিতির শিকার হননি এলাকার মানুষ। ভয়াবহ ভাবে আইনশৃংখলার অবনতি হলেও পুলিশ দায়সারা ও নতজানু মনোভাবে এ পরিস্থিতি রূপ নিয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।
একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, বর্তমান চকরিয়া থানার ওসি নিজের মত করে বলী খেলার নামে জুয়ার আসরে অনুমতি দিচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপকে। আর ওই জুয়ার আসরে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে শীর্ষ সন্ত্রসারী অস্ত্রের মহড়ায় আকাশ বাতাশ ভারী করে তুলছে প্রতিদিন। অথচ তাদের নামে নেওয়া হয় না মামলা, অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেফতারে অভিযান। চকরিয়া উপজেলায় হত্যা. চুরি, ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়ানোর কারণে জনমনে বিরাজ করছে উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর আতংক।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর এর সাথেযোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষনিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
থানায় দালাল চক্রের উৎপাতের বিষয়ে তিনি দাবী করেন, থানায় দালালের কোন স্থান নেই। দালালের বিরুদ্ধে আমি স্বোচ্ছার।
নয়ন কক্স নিউজ ডট কম কক্সবাজার। ফোন: +৮৮ ০১৮১২০২৪০৮০

0 Comments