বার্তা রিপোর্ট ॥
কক্সবাজারে সামাজিক বনায়নের প্লট দেয়ার নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বন বিভাগ। অথচ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার জন্য এই বনায়নটি করা হয়েছে। সরকার এবং বিদেশী যৌথ অর্থায়নে এই বনায়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
জানা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতায় সদর রেঞ্জে চার বিটে ৩০৫ হেক্টর বনায়ন করা হয় দুই অর্থবছরে। তার মধ্যে ২০১১-২০১২ অর্থবছরে কলাতলী বিটে ৮৫ হেক্টর, হিমছড়ি বিটে ৪০ হেক্টর, ঝিলংজা বিটে ৩০ হেক্টর, চাইন্দা বিটে ১৫ হেক্টর বনায়ন করা হয়। আর ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে কলাতলী বিটে ৪০ হেক্টর, হিমছড়ি বিটে ৪০ হেক্টর, ঝিলংজা বিটে ৩৫ হেক্টর ও চাইন্দা বিটে ২০ হেক্টর বনায়ন করা হয়। হেক্টর প্রতি ২৫০০টি করে ৩০৫ হেক্টর জমিতে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি গাছ রোপন করা হয়।
সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী দরিদ্র ও অনগ্রসর স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে জনপ্রতি এক একর করে বনায়ন ১০ বছরের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়। বিধিমতে, উপকারভোগীদের তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে জনগণ স্থানীয় বিট কিংবা রেঞ্জ অফিস অথবা সরাসরি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করবেন। পরে ওই আবেদন উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি বাছাই করে তালিকা চুড়ান্ত করে বরাদ্দ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগ নিয়মের চেয়ে কম গাছ রোপন, উপকারভোগীর আবেদন জমা নেয়ার ক্ষেত্রে মোটা অংকের টাকা আদায় এবং কৌশলে অবৈধ প্রভাবশালী দখলদারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কারণে দীর্ঘ তিন বছরেও উপকারভোগী তালিকা অনুমোদন দিচ্ছেনা উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি। বর্তমানে সংরক্ষণ না করায় যে গাছগুলো রোপন করা হয়েছিল সেগুলোও উপড়ে ফেলছে লোকজন। শুধু তাই নয়, চার বিটে ১৯০০ জন আবেদনকারীর কাছ থেকে গড়ে ২০ হাজার টাকা করে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বন বিভাগ টাকা উত্তোলন করেছে বলে স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধির অভিযোগ।
উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সদস্য ও ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকু বলেন, কক্সবাজারে জমির মুল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রভাবশালীরা সামাজিক বনায়ন বরাদ্দ পেতে নানা ভাবে দৌড়যাপ শুরু করেছে। তাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ করে কলাতলী বন বিটে সামাজিক বনায়ন পেতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে টাকা উত্তোলন করেছে বন বিভাগ। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের পক্ষে দ্বায়িত্ব পালন করেছে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা। তাই অভিযুক্ত ফরমগুলো বাতিল না করায় উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি তালিকা অনুমোদন দিচ্ছেনা।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, এ বনায়ন নিয়ে নানা অভিযোগতো রয়েছে। পাশাপাশি ৩০৫ হেক্টর জমিতে নিয়মানুযায়ী যে পরিমান গাছ লাগানোর কথা তা রোপন করেনি বন বিভাগ। অথচ কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে এ গাছগুলো রোপন করা হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে ইউএসএআইডি ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত টিম গঠন করেছে তদন্তপুর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা তাপস কুমার দেব বলেন, সবে মাত্র কয়েক মাস হয়েছে আমি এ রেঞ্জে যোগদান করেছি। আর এ বাগানগুলো সৃজন করা হয়েছে আমার যোগদানের আগে। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, সমন্বয়হীনতার কারণে তালিকা চুড়ান্ত করা যাচ্ছেনা। তবে শীঘ্রই তা চুড়ান্ত করা হবে।
কক্সবাজারে সামাজিক বনায়নের প্লট দেয়ার নামে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বন বিভাগ। অথচ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার জন্য এই বনায়নটি করা হয়েছে। সরকার এবং বিদেশী যৌথ অর্থায়নে এই বনায়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
জানা যায়, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের আওতায় সদর রেঞ্জে চার বিটে ৩০৫ হেক্টর বনায়ন করা হয় দুই অর্থবছরে। তার মধ্যে ২০১১-২০১২ অর্থবছরে কলাতলী বিটে ৮৫ হেক্টর, হিমছড়ি বিটে ৪০ হেক্টর, ঝিলংজা বিটে ৩০ হেক্টর, চাইন্দা বিটে ১৫ হেক্টর বনায়ন করা হয়। আর ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে কলাতলী বিটে ৪০ হেক্টর, হিমছড়ি বিটে ৪০ হেক্টর, ঝিলংজা বিটে ৩৫ হেক্টর ও চাইন্দা বিটে ২০ হেক্টর বনায়ন করা হয়। হেক্টর প্রতি ২৫০০টি করে ৩০৫ হেক্টর জমিতে ৭ লাখ ৬২ হাজার ৫০০টি গাছ রোপন করা হয়।
সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী দরিদ্র ও অনগ্রসর স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে জনপ্রতি এক একর করে বনায়ন ১০ বছরের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হয়। বিধিমতে, উপকারভোগীদের তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে জনগণ স্থানীয় বিট কিংবা রেঞ্জ অফিস অথবা সরাসরি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করবেন। পরে ওই আবেদন উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি বাছাই করে তালিকা চুড়ান্ত করে বরাদ্দ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগ নিয়মের চেয়ে কম গাছ রোপন, উপকারভোগীর আবেদন জমা নেয়ার ক্ষেত্রে মোটা অংকের টাকা আদায় এবং কৌশলে অবৈধ প্রভাবশালী দখলদারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কারণে দীর্ঘ তিন বছরেও উপকারভোগী তালিকা অনুমোদন দিচ্ছেনা উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি। বর্তমানে সংরক্ষণ না করায় যে গাছগুলো রোপন করা হয়েছিল সেগুলোও উপড়ে ফেলছে লোকজন। শুধু তাই নয়, চার বিটে ১৯০০ জন আবেদনকারীর কাছ থেকে গড়ে ২০ হাজার টাকা করে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বন বিভাগ টাকা উত্তোলন করেছে বলে স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধির অভিযোগ।
উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সদস্য ও ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকু বলেন, কক্সবাজারে জমির মুল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রভাবশালীরা সামাজিক বনায়ন বরাদ্দ পেতে নানা ভাবে দৌড়যাপ শুরু করেছে। তাই এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ করে কলাতলী বন বিটে সামাজিক বনায়ন পেতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে টাকা উত্তোলন করেছে বন বিভাগ। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের পক্ষে দ্বায়িত্ব পালন করেছে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা। তাই অভিযুক্ত ফরমগুলো বাতিল না করায় উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটি তালিকা অনুমোদন দিচ্ছেনা।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, এ বনায়ন নিয়ে নানা অভিযোগতো রয়েছে। পাশাপাশি ৩০৫ হেক্টর জমিতে নিয়মানুযায়ী যে পরিমান গাছ লাগানোর কথা তা রোপন করেনি বন বিভাগ। অথচ কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলার জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে এ গাছগুলো রোপন করা হয়েছিল। তাই এ বিষয়ে ইউএসএআইডি ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথ তদন্ত টিম গঠন করেছে তদন্তপুর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা তাপস কুমার দেব বলেন, সবে মাত্র কয়েক মাস হয়েছে আমি এ রেঞ্জে যোগদান করেছি। আর এ বাগানগুলো সৃজন করা হয়েছে আমার যোগদানের আগে। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, সমন্বয়হীনতার কারণে তালিকা চুড়ান্ত করা যাচ্ছেনা। তবে শীঘ্রই তা চুড়ান্ত করা হবে।

0 Comments