Advertisement

কালারমারছড়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ব্যাপক অনিয়ম!

আবদুর রাজ্জাক,মহেশখালী:
মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি উপবৃত্তির টাকা বিতরন ও বিভিন্ন পরীক্ষার ফরমফিলাপে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অধিক টাকা আদায়সহ মাদ্রাসার ধন সম্পদের লুটপাটসহ ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজ।

জানা যায়,তিনি গত বারের ন্যায় আবারো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের বিনিময়ে ম্যানেজ করে পারিবারিক ও তার নিকট আত্মীয়দের নিয়ে কমিটি মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিতে গঠন করে এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতিচালিয়ে যাচ্ছে। পলে উক্ত মাদ্রসায় দাতা সদস্য , প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও অভিভাবক সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এই বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক দাতা সদস্য সেলিম জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে অধ্যক্ষের দূর্নীতি ও অনিয়মের যাবতীয় প্রমান পত্রসহ নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি গঠন করে মাদ্রাসার শিক্ষক সংকট সহ যাবতীয় সমস্যা সমাধান ও পারিবারকি কমিটির অবসানকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউছার হোসেনের নিকট অভিযোগ দেওয়ার পরও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ভুঁয়া কমিটি দিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ায় অনেকটা বেপরোয়াভাবে দূর্নীতি অনিয়ম ও লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এলাকার সচেতন মহলের কাছে কর্তৃপক্ষের বিতর্কিত কর্মকান্ড নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নানা জল্পনা কল্পনা।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য নূর মোহাম্মদ চাষী জানান, অধ্যক্ষের দূর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া সত্বেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি (অধ্যক্ষ) মাদ্রাসায় যা ইচ্ছে তা করে যাচ্ছেন। জানা যায় বর্তমান কমিটির সভাপতি ছাড়া প্রত্যেকেই পারিবারিক সদস্য হওয়ায় প্রতি মাসে লাখ টাকার গাছ বিক্রি করলেও হিসাব নেওয়ার কেউ নেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, ছেলে মনিরুল হকের বিয়ের যৌতুক বাবদ নগদ টাকা নিয়ে নেয়। তাই এপ্রিলের প্রথম সাপ্তাহে প্রায় ষাট হাজার টাকা মূল্যের চারটি মেহগনি গাছ কেটে ছেলের বিয়ের ফার্নিসার তৈরী করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিরাতেই মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন প্রকারের গাছ বিক্রি করেন অধ্যক্ষের ছেলে মৌলানা মুবিনুল হক।

মাদ্রাসা পরিচালনার নীতিমালায় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৈনিক পাঁচশত টাকার উর্ধ্বে নগদ সংরক্ষনের বিধান না থাকলেও মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় পারিবারিক কমিটি হওয়ায় মাদ্রাসার লাখ লাখ টাকা ব্যবহার করে শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মাওলানা ছলিম উল্লাহ। পৈত্রিক সূত্রে তেমন কোন ভূ-সম্পদের মালিক না হলেও বর্তমানে তিনি চিংড়ি ঘের, পাইকারী ঔষধের দোকান ও ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, বন্ধকী জমিসহ বর্তমানে কোটি টাকার মালিক বলে এলাকাবাসি জানান। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ০৮.০৪.২০১৩ ইং তারিখের বামাশিবো/সংস্থাপন/নথী-১০(৩)২১২/৬ নং স্বারকের প্রজ্ঞাপনে সরকারী অনুদান ভূক্ত যে কোন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন প্রকার চাদাঁ আদায় না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলেও দূর্নীতিবাজ, সুযোগ সন্ধানী লুটেরা অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ কৌশলে মিথ্যে অজুহাতে বার্ষিক সভা করে প্রায় দু‘লাখ টাকা আদায় করলেও ব্যাংকে জমা না দিয়ে ইতোমধ্যে আত্মসাৎ করেছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্চুক একাধিক মাদ্রাসা শিক্ষক।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আনোয়ারুল নাছের জানান, বার্ষিক সভা করার কোন সুয়োগ না থাকলে আলিম শাখার শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পাঠদান দেওয়া শিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার টাকা সংগ্রহের জন্য সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঐ টাকা আলিম শ্রেণীতে অতিরিক্ত পাঠদান দেওয়া শিক্ষকদের না দেওয়া এবং উপযুক্ত শিক্ষকের অভাবে আলিম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান। তবে কমিটির নামে পারিবারিক কমিটি হওয়ায় প্রকাশ্যে কোন দাবী দাওয়া নিয়ে অভিযোগ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় আলিম শাখার কয়েকজন ছাত্র/ছাত্রী ক্লাস না হওয়া ও অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টি মাদ্রাসার সভাপতি আনোয়ারুল নাছের’কে মোবাইলে অবহিত করেন বলে জানান। মাদ্রাসায় সহ-সুপারের পদ দীর্ঘ দিন যাবৎ শূন্য থাকলে বংশ পরস্পরায় আজীবন কৌশলে ধন সম্পদ ভোগ করার জন্য সহ-সুপার নিয়োগ না দিয়ে কাল ক্ষেপন করে নিজ পুত্র মোঃ মুবিনূল হক কে সময় সুযোগে নিয়োগ দানের নীল নকসা তৈরী করেছেন।

এছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তেমন তদারকি না থাকায় মাদ্রাসা পরিচালনার নীতিমালার তোয়াক্ষা না করে দীর্ঘ দিন মাদ্রাসার বাহিরে অবস্থান করে মাসের পূরো বেতন ভোগ করলেও দেখার কেউ না থাকায় বর্তমানে অভিনব কু-কৌশলে মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনে ভাগ বসাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিগত সময়ের গভর্নিং বড়ির দাতা সদস্যদের বাদ দিয়ে নিজের শালা,নিজ পুত্র, ভাগ্নি ও শালার স্ত্রীদের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য করে কমিটি গঠন করে মাদ্রাসার ধন সম্পদ লুটপাটের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অধ্যক্ষ মৌং ছলিম উল্লাহ। গত ০৫ মে/১৩ ইং তারিখে মাদ্রাসার দুজন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ভুঁয়া পরীক্ষার্থীর অংশ গ্রহনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষানুরাগীমহল ও অভিভাবক সমাজের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ারুল নাছের বরাবরে অভিযোগ দেওয়া সত্বেও ভুঁয়া পরীক্ষার্থী বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে অভিভাবক সমাজে। ঐ সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সহকারী মৌলানা কামাল হোছাইন ইনডেক্স নং ২১০১৭৭৯ কোন প্রকার ছুটি না নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারী মাসে সৌদি আরব গমন করেন। কিন্তু বেতন বিতরণ সংক্রান্ত বিবরনীতে দেখে জানা যায়, যে (ফেব্রুয়ারী) মাসে সহকারী মৌলানা কামাল হোছাইন মাদ্রাসায় দীর্ঘ একমাস অনুপস্থিত ছিল, সে মাসের বেতন অনিয়মের মূলহুতা মৌং ছলিম উল্লাহ ব্যাংক থেকে উঠিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে জানা যায়। এ নিয়ে অধ্যক্ষ মৌঃ ছলিম উল্লাহ’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধেএব্যাপারে পত্রিয় অনেক লেখা লেখি হয়ছে। পত্রিকায় লিখলে আমার কিছুই যায় আসেনা,যতপারেন আমার বিরুদ্ধেলিখেন উল্রেখ করে মোবাইলের লাইন কেটে দেন।

পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য মোজাম্মেল হোসেন তালুকদার জানান, মাদ্রাসার জমি বিক্রি করেও আইনের মূখামোখি না হওয়ায় বর্তমানে মাদ্রসার সিনিয়র শিক্ষকদের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে তার ছেলে মুবিনুল হক’কে সহকারী সুপারে নিয়োগদানের পথ সুগম করে যাচ্ছেন। তবে আগামীতে মাদ্রাসাকে পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার পরিকল্পনা আইনানুগভাবে প্রতিহত করা হবে। জানা যায়, কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা ওসমান চেয়ারম্যান পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন সময়ে অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম জানা জানি হলে তিনি ভবিষ্যতে আর অনিয়ম করবেনা মর্মে অঙ্গীকার নামা দিয়েও বর্তমানে মাদ্রাসার ফ্যান নিজের ফার্মেসীতে এবং বাগানের বাঁশ, খুটি নিজের পানের বরজে ও চিংড়ি ঘেরে ব্যবহার করে যাচ্ছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক বিদ্যোৎসাহী সদস্য বশির আহমদ জানান, অনিয়মের মাধ্যমে পারিবারিক পকেট কমিটি গঠন করে শূন্য পদের ১০ জন শিক্ষক টাকার বিনিময়ে নিয়োগের জন্য গোঁপনে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। মাদ্রাসার অনিয়ম বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন- অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ পেয়েছি, তবেএ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসি উক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দূর্ণীতি অনিয়নের সুষ্ট তদন্ত পূর্বক আইনগতব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ ইর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Post a Comment

0 Comments