Advertisement

চকরিয়া ভেওলা মানিকচর উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ


জহিরুল আলম সাগর,চকরিয়া ॥
চকরিয়া উপজেলার ভেওলা মানিকচর উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমীক ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কাজে অবহেলার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনির্দিষ্ট সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ না করে স্বল্প সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে নির্মাণকাজ ধীর গতিতে চালাচ্ছে এবং নিন্মমানের ইট, বালি, কংকর, লোহা, সিমেন্ট দিয়ে নির্মাণকাজ চালাচ্ছে। ঠিকাদার স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা নির্মাণকাজের অনিয়ম উত্থাপন করলেও কিছুতেই ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোন ধরণের কর্ণপাত করছেনা।
সূত্রে জানাগেছে, সরকারের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন নির্বাহী প্রকৌশলী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার জোন এর ফ্যাসেলেটিজ ডিপার্টমেন্ট চকরিয়া উপজেলার ভেওলা মানিকচর উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ২০১২-২০১৩ অর্থ বছরে ১,১৪,৯৪,৪১০টাকা ৬৬পয়সা বরাদ্ধ দেন। ২৩আগষ্ট’১২ইং তারিখের দরপত্র বিজ্ঞপ্তির আলোকে কাজটি পান চকরিয়ার ঠিকাদার সাহাব উদ্দিনের মালিকানাধীন মেসার্স ব্রাদার্স কনষ্ট্রাকশন। নির্বাহী প্রকৌশলী (শিক্ষা) কক্সবাজার জোন স্বাক্ষরিত এক আদেশে ঠিকাদারী ওই প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ক অর্ডার পান ২৮জানুয়ারী’১৩ইং। ববফ/পনু/২০১৩/০৫/ফপা/৩ মূলে  ২৩ফেব্রুয়ারী’২০১৩ইং থেকে কাজ শুরু করার ৩৬৫দিনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ব্রাদাস কনষ্ট্রাকশনের মালিক সাহাব উদ্দিন কাজ চালাচ্ছেন কচ্ছপ গতিতে এবং চরম অনিয়মের মাধ্যমে।  নির্দিষ্ট সময় ৩৬৫দিন গত ২০১৪সালের ২৭শে জানুয়ারী শেষ হয়ে আরো ৫মাস সময় অতিরিক্ত নিয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শতভাগ কাজতো দুরের কথা বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ হয়েছে মাত্র ১০ভাগ। সিডিউলে সিলেটি পাথর, বালি ও উন্নত মানের লোহা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে নোংরা বালি, দেশীয় পাহাড়ের পাথর ও মরিচিকা লাগানো পুরাতন লোহা। নির্মাণকাজে তাও নেয়া হচ্ছে একেবারে ক্ষুদ্র পরিসরে মালামাল। কাজ বন্ধ রাখা অবস্থায় মাঝে মধ্যে কাজ চালালেও শ্রমিক দেয়া হচ্ছে মাত্র ৪/৫জন করে। এদিকে ভেওলা মানিকচর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হারুন ছরওয়ার বাদল ও প্রধান শিক্ষক মো: আলী আহমদ, কমিটির অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক ও স্থানীয় জনতা সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে অভিযোগ করেন, কমিটি,শিক্ষক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদার সাহাব উদ্দিনকে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোন ধরণের কর্ণপাতই করেনি। পালাক্রমে মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে কাজ চালাচ্ছেন কচ্ছপ গতিতে। শতভাগ কাজের স্থলে ১০/১৫ ভাগ কাজই সম্পন্ন করতে পারেননি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। তারাও আমলে নিচ্ছেনা কোন অভিযোগ। ফলে এলাকার সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ক্ষেপে বসেছে এবং তা বিক্ষোভে রূপ নিচ্ছে। এমনকি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় দেড়লক্ষ টাকা খরচ করে ৬টি ক্লাস রুম ভেঙ্গে ভবনের নির্মাণের জন্য জায়গা খালি করে দেয়া হয়েছিলো। বর্তমানে শ্রেণি কক্ষ ও ওয়েটিং কক্ষ নিয়ে তারা চরম বেকায়দায় পড়েছেন।  স্থানীয়রা জানান, তাদের বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী হযরত ফাতিমা বালিকা আলিম মাদরাসা তাদের এক সপ্তাহ পরে কাজ শুরু হলেও ২টি বহুতল ভবনের শতভাগ কাজ সম্পন্নের পথে। কিন্তু ঠিকাদার সাহাব উদ্দিন কাজ করছেন চরম অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ও ধীর গতিতে। তারা জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত ঠিকাদার সাহাব উদ্দিনের মোবাইল নাম্বারে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 
এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মোয়াজ্জম হোসাইন বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজে অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণের বিষয়টি তার জানা ছিলনা। তিনি অবহিত হওয়ার পর দু:খ প্রকাশ করেন এবং ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। ওই ঠিকাদারের অনিয়ম ও ধীরগতি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করবেন।

Post a Comment

0 Comments