Advertisement

সমিতিপাড়ায় বৃক্ষনিধন উৎসবে নেতৃত্ব দিচ্ছে এক নেতা ॥ কর্তৃপক্ষ নির্বিকার

বার্তা রিপোর্ট  ॥
কক্সবাজার শহরের ১নং ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ায় বৃক্ষনিধন করে প্লট তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার কথিত এক নেতার বিরুদ্ধে। ওই নেতা উপকূলীয় বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফি আলম সোনামিয়া বলে জানা গেছে। গত ২৭ মে মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময় কথিত নেতার ভাড়া বাসা থেকে কর্তনকৃত গাছ সহ চেরাই করা প্রায় ৮ মণ ঝাউগাছের টুকরা আটক করে বন প্রহরীর দায়িত্বে থাকা ৩ কর্মী। জানা যায়, গত মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন প্রহরীর ৩ কর্মীর নেতৃত্বে ৪/৫টি ঝাউগাছ ও চেরাই করা প্রায় ৮ মণ ঝাউগাছের লাকড়ি। ওই নেতার ভাড়াবাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাছ বনপ্রহরীর কর্মীরা ঠেলাগাড়ী করে বন বিভাগে নিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুদ্ধ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর দাবী ওই ব্যক্তি সমিতির সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ নিজে কোন অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত নয় দাবী করে গত শুক্রবার সমিতিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে উপস্থিত শত শত মুসল্লীর সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বক্তব্য দেন ওই নেতা। ওই নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকটি স্থানীয় দৈনিক ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় গত সাপ্তাহেও সংবাদ পরিবেশিত হয়। অন্যদিকে স্থানীয় ২টি দৈনিকে গত ২৪ ও ২৫ মে তার বিরুদ্ধে পরিবেশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেও আবারও তার বিরুদ্ধে ঝাউবৃক্ষ নিধন করে প্লট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সমিতি পাড়ার বৃক্ষখেকো গিয়াস উদ্দিন, পেঠান ফকির, আহাম্মুদু ও গফুর প্রকাশ দাঁড়ি গফুর ওই নেতার হুকুমে প্রতিনিয়ত অহরহ ঝাউগাছ কাটে ও বিক্রি করে। গত মঙ্গলবার দিনের বেলায় ১২/১৫ দিন মত ঝাউগাছ কাটে ওই নেতার হুকুমে ওই ৪ ব্যক্তি। ওই গাছ উদ্ধারের জন্য বন প্রহরীর কর্মীরা আসার খবরে ৮/১০টি ঝাউগাছ অন্যত্রে সরিয়ে ফেললেও বাকি গাছ ও গাছের চেরাই করা টুকরা আটকপূর্বক ঠেলাগাড়ি করে নিয়ে যায় বনপ্রহরীর কর্মীরা। তাদের দাবী গিয়াস, পেঠান, আহাম্মুদু ও গফুর এলাকাবাসী থেকে গাছ বিক্রির অর্ডার নিয়ে প্রতি ঝাউগাছ ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং চেরাই করা লাকড়ি প্রতিমণ ২ শত থেকে ২ শত ৫০ টাকা হিসেবে নগদ টাকায় বিক্রি করে ওই চক্র। ওই ঝাউগাছ ও লাকড়ি বিক্রির টাকার অর্ধেক চলে যায় হুকুম দাতার পকেটে। ফারুক নামের স্থানীয় এক আনসার কর্মী দিন দুপুরে তাদের গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয় ওই চক্র। আনসার কর্মী আরও জানায়, গাছ কাটা ও চেরাই করে লাকড়ি বিক্রি করার অভিযোগ এই চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। ওই গাছ চোর চক্র বন প্রহরীর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীও বটে। ওই চক্রের গাছ কাটার খবর স্থানীয় কমিশনার আকতার কামাল সহ আব্দুল জলিল জুলু, আব্দুল খালেক ও নাজেম উদ্দিন নাজুকে মোবাইল ফোনে জানাইলেও তারা এগিয়ে না আসায় পরবর্তীতে বিষয়টি বন প্রহরীর এক সদস্যকে জানালে সে ঘটনাস্থলে পৌঁেছ দুটি ঝাউগাছ সহ ঝাউগাছের চেরাই করা লাকড়ি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। বাকি গাছ গুলো বন প্রহরীরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগে সরিয়ে ফেলে ওই গাছ চোর চক্র। গাছ কাটার খবর প্রকাশ করায় ওই যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছে তারা।
এদিকে, সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়ার সাথে এব্যাপারে কথা হলে জানায়, আমার ভাড়াবাসায় গাছ পাওয়া গেছে সত্য। তবে আমার বিরুদ্ধে গাছ চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগ সত্যি নয়। বরং গাছ আটক করার জন্য আমি বন প্রহরীদের সহযোগীতা করেছি। এলাকার সাধারণ মানুষের দাবী, এসব চিহ্নিত ঝাউগাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে বনপ্রশাসন যদি আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয় তাহলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাগান পাড়া (খুশি পাড়া) থেকে নাজিরার টেক পর্যন্ত ঝাউবাগান বৃক্ষশূণ্য হয়ে পড়বে। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তাই ঝাউবাগানের গাছ কর্তন কারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী। গত শুক্রবার সমিতি পাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কথিত নেতার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ওই মসজিদের ইমাম হাফেজ বেলালের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মসজিদে কারো বক্তব্য দেওয়ার জন্য পূর্বানুমতি প্রয়োজন। তবে তিনি কোন প্রকার পূর্বানুমতি বিহীন বক্তব্য দেওয়ায় মুসল্লিদের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিগত কোন বিষয় নিয়ে মসজিদের মাইকে বক্তব্য দেওয়া আমি সমর্থন করি না। বরং তিনি মসজিদে বক্তব্য দিয়ে  আমাকেও এলাকার মানুষের মধ্যে প্রশ্নের সম্মুখিন করেছেন। মুসল্লিদের দাবী ওই কথিত নেতা বিভিন্ন অপকর্মে মসজিদের ইমাম সাহেব সমর্থন দেন। তাই ওই দিন মসজিদের মাইকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ও তাকে সমর্থনের একটি অংশ। সোনা মিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবী করে যে বক্তব্য দিয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং  সোনা মিয়া ও ইমাম সাহেব একই অপরাধে অপরাধী।

Post a Comment

0 Comments