Advertisement

জামায়াত জোটে থাকবে কিনা জানতে চান খালেদা জিয়া

জামায়াত জোটে থাকবে কিনা জানতে চান খালেদা জিয়াবিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জোট শরিক জামায়াতের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটে জামায়াত থাকছে, নাকি সরকারের সঙ্গে আঁতাত করছে, দলটিকে তা পরিষ্কার করতে বলেছেন তিনি।
রেজা মাহমুদ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জোট শরিক জামায়াতের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটে জামায়াত
থাকছে, নাকি সরকারের সঙ্গে আঁতাত করছে, দলটিকে তা পরিষ্কার করতে বলেছেন তিনি। বগুড়ার মতো বিএনপির ঘাঁটিতে উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে জামায়াতের নেতা আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র এ তথ্য জানায়।

জানা গেছে, ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে খালেদা জিয়া জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুল হালিমকে দলটির অবস্থান পরিষ্কার করতে বলেন। জোটনেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বগুড়া হচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জেলা। জেলাটিকে বিএনপির ঘাঁটি বলে বর্ণনা করে খালেদা জিয়া বলেন, সেখানে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াতের উচিত হয়নি। জামায়াত কেন এমনটি করেছে তা জানতে চান বিএনপি নেত্রী। খালেদা জিয়া এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারের সঙ্গে জামায়াত আঁতাত করছে বলে পত্রিকায় নানা খবর ছাপা হচ্ছে। এগুলোর সত্যতা সম্পর্কেও জানতে চান তিনি।সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া এ সময় উপস্থিত জামায়াত নেতা আবদুল হালিমকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। তারা আপনাদের ব্যবহার করবে। আপনাদের কোনো উপকার করবে না। আপনাদের নিয়ে তারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করবে। বৈঠকে জামায়াত নেতা আবদুল হালিমকে লক্ষ্য করে খালেদা জিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাচনের সময় জামায়াত নেতাদের কেউ বিএনপি হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। কেন রাখেননি সে প্রশ্ন করেন তিনি।জামায়াতকে 'যা করার চিন্তা-ভাবনা করে' সিদ্ধান্ত নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে রাত পৌনে ১০টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত ওই বৈঠক চলে। খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে জোট শরিকদের দল গুছিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবিসহ ৫ দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে।উপজেলা নির্বাচনে সমন্বয়হীনতাকে আত্মঘাতী বলে বর্ণনা করে খালেদা জিয়া বলেন, 'আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা তো জোটটির প্রধান দলের (আওয়ামী লীগ) কোনো ঘাঁটিতে প্রার্থী দেয়নি। তা হলে আপনারা কেন এ ধরনের কাজ করলেন।' বিষয়টি মোটেও জামায়াত বা জোটের জন্য কল্যাণকর নয় বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনেও দেখা গেছে, শুধু জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্যই বিএনপির জয়ের সম্ভাবনাপূর্ণ আসনে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে। এটা ঠিক নয়।'
আবদুল হালিম এ সময় খালেদা জিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেন, জামায়াত ১৯ দলীয় জোটে আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, 'আমরা জোটবদ্ধভাবেই দেশের ও মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।'
উপজেলা নির্বাচনের সময় নানা সমস্যার কারণেই বিএনপি হাইকমান্ডের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।কাজী জাফরের প্রস্তাবে সাড়া দেননি খালেদা জিয়া :বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শীর্ষ বৈঠকে প্রথমবারের মতো যোগ দেওয়া কাজী জাফর আহমেদের একটি প্রস্তাবে সাড়া দেননি খালেদা জিয়া। জানা গেছে, কাজী জাফর ১৯ দলীয় জোটের একটি নীতিনির্ধারণী ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দেন।
কাজী জাফর বলেন, 'ম্যাডাম আমি প্রথমবারের মতো জোটের বৈঠকে এসেছি। জোটের নীতিনির্ধারণের জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব করছি। জোট কীভাবে আন্দোলন করবে, কখন কী কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন তা ঠিক করতে কাজ করবে এ কমিটি।' কাজী জাফরের এ প্রস্তাবে খালেদা জিয়া সাড়া দেননি বলে জোট নেতারা জানান। এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন আলোচনাও তোলেননি। এমনকি একটি কথাও বলেননি বলে জানান তারা। জোট নেতারাও কাজী জাফরের এ প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ বলে জানান। তারা বলেন, জোটের শীর্ষ নেতারা মিলেই কর্মসূচি নির্ধারণ করেন। এখানে স্টিয়ারিং কমিটি হলে অনেক শীর্ষ নেতাই নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে বাদ পড়তে পারেন।

Post a Comment

0 Comments