নয়ন কক্স নিউজ ডেস্ক
জলে-জলের শুভ্রতায় খোঁজে নিয়ে স্নিগ্ধ হওয়ার অন্য রকম প্রয়াস এটি। কোনো ধর্মীয় রীতি নয়, সামাজিক রীতি মতে রাখাইন নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রাখাইনরা একে-অপরকে পানি ছোড়া-ছুড়ির খেলায় মেতে উঠেছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। উৎসব চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।
রাখাইন সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা ‘জলকেলী’ উৎসব হিসেবে পরিচিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীতে চলছে ভিন্ন আবহ। রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন, পর্যটক ও বিদেশিদের পদভারে মুখরিত হয়েছে পল্লী। ওখানে বিদেশি পর্যটকরা রাখাইনদের সঙ্গে সঙ্গে গানে-নাচে মাতোয়ার দৃশ্য দেখে বিমোহিত হয়েছেন সবাই।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে বৌদ্ধধর্মালম্বী রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ শুরু হয়েছে।
অন্যান্য বার এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও এবার তা হয়নি। বরং অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া উৎসব ভিন্ন আমেজে জমে উঠেছে।
কক্সবাজার শহরের ১৫টি প্যান্ডেলে একযোগে শুরু হয় এ পানি ছোড়া-ছুড়ির খেলা।
কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতা অধ্যক্ষ ক্য থিং অং জানান, চৈত্র সংক্রান্তি থেকে রাখাইনদের বর্ষবরণ ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ উৎসব শুরু হয়ে চলে প্রায় সপ্তাহ জুড়ে। উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ‘পানি খেলা’ বা ‘জলকেলি’ বৈশাখের চতুর্থ দিন থেকে শুরু হয়। চলে ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত। এবারের ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব চলবে ৪ বৈশাখ থেকে ৬ বৈশাখ পর্যন্ত। ইংরেজি তারিখের হিসেবে ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল।
কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের তরুণ জহিন রাখাইন জানান, রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষ পঞ্জিকা অনুসারে রাখাইন বর্ষ বিদায় এবং বরণে প্রতিবারের মতো ৭দিনের বর্নাঢ্য আয়োজন শুরু হয়েছে। এ উৎসবের অংশ হিসেবে রাখাইনদের ভাষায় বলা হয় “সাংগ্রেং পোয়ে’ বা বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়েছে ১৩ এপ্রিল থেকে।
প্রথম দিন ১৩ এপ্রিল পালিত হয় ‘ফারা রিসো পোয়ে’ বা বুদ্ধের স্নান উৎসব। ওই দিন রাখাইন শিক্ষার্থীরা বুদ্ধ মুর্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করান। পুরোহিত, দায়ক ও শিষ্যদের সহযোগিতায় সুগন্ধ দ্রব্য ও চন্দনের পানি, নানা রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে ধর্মীয় নানা আচারণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ মুর্তি ধুয়ে দেওয়া হয়। উৎসবের ২য় দিন ১৪ এপ্রিল পালিত হয়েছে ‘রছা ফরা রিসো পোয়ে’ বা বাড়ির বুদ্ধের স্নান উৎসব।
উৎসবের ৩য় দিন ও ৪র্থ দিন ১৫ এপ্রিল ও ১৬ এপ্রিল ২ দিনব্যাপী শিশু-কিশোরদের ‘সাংগ্রেং পোওয়ে’ চলছে। ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে “মাহা সাংগ্রেং পোয়ে”। সাংগ্রেং পোয়ে’র ৩ দিনের সমাপনী উৎসবকে তাদের ভাষায় বলা হয় “মাহা সাংগ্রেং পোয়ে”।
ওই দিন সকালে এলাকা ভিত্তিক শোভযাত্রা বৌদ্ধ কিয়াং এ যাবে। এক ঘণ্টা বাদক বিশেষ ঘণ্টা বাজিয়ে কিয়াং সহ প্যান্ডেল পরিদর্শনের নিদের্শনা দেন। এই শোভযাত্রায় তরুণরা মাটির তৈরি কলসি ও পেছনে বয়স্ক নারী-পুরুষ ‘কল্প তরু’ বহন করবে। কিয়াং থেকে শোভযাত্রাটি প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ায় আর পানি নিক্ষেপ খেলায় মেতে উঠে।
বৃহস্পতিবার রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলী উৎসব শুরুর দিনে অথিতি ছিলেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। সামাজিক দায়িত্ব বোধ থেকে আজকে আমরা এখানে এসেছি। অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে আজকের এই মিলন মেলা। আজকের এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি একত্রিত হয়ে যে উৎসব পালন করছে তারই প্রমাণ হচ্ছে আমাদের মধ্যে কোন সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ নেই। এসময় তারা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পরিণিত করায় জননেত্রী শেখ হাছিনাকে ধন্যবাদ জানান।
প্রসংগত, পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী হচেছ রাখাইন পল্লী। কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলী উৎসবকে ঘিরে নানা আয়োজন। তাছাড়া নানা রং-এ সাজানো হয়েছে রাখাইন পল্লীগুলোকে। রাখাইনদের সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব জলকেলী দেখতে বৃহস্পতিবার গোলদিঘি পাড়স্থ রাখাইন পল্লিতে জড়ো হয় বিদেশী পর্যটক ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। মহা সাংগ্রেঙ পোয়ে বা জলকেলী উৎসব ৩ দিন ব্যাপী চলবে। রাখাইন বর্ষপুঞ্জি অনুযায়ী গত বুধবার ছিল ১৩৭৬ রাখাইন সনেনর ১ম দিন।
এ দিনটিকে ঘিরে আবাল বৃদ্ধবনিতার পাশাপাশি রাখাইন তরুন-তরুণীদের উচ্ছ্বাস চলে বেশ জোরে-সুরে। ঐতিহ্যের পোশাক পরিচ্ছদের অদলে সকলেই সাঁজছে মনের মতো।
নববর্ষ বরণে বছরের প্রথম দিনে থেকে আয়োজিত জলকেলী উৎসব রাখাইন সম্প্রদায় এক অপরের প্রতি মাঙ্গলিক মৈত্রী জল ছিটিয়ে বিগত সময়ের পাপ পংকিলতা মুছে নতুন দিনের বার্তা নিয়ে এগিয়ে যায় এবং পবিত্র জলের মাধ্যমে এক অপরের প্রতি ভালবাসার বার্তা পৌছায়। উদ্বোধনী অনুষ্টান শুরু হওয়ার পর থেকে তারা একে অপরের গায়ে শুভ্র পানি ছিটানোর মধ্যে দিয়ে পুরনো দিনের সকল ব্যাথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ছে। রাখাইনদের এ উৎসবকে সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, জলকেলী উৎসবকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইন শৃংঙ্খলা রক্ষায় টহলে থাকবে র্যাব।
প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো এসব তরুণদের নাচে গানে আনন্দের পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পানীয় পান করবে। একে অপরকে পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে পুরাতন বছরের সব পাপ, ক্লান্তি আর অসংগতিময়তা মুছে-ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে তাদের এ আয়োজন।
জানা গেছে, রাখাইন বর্ষকে বিদায় ও বরণে প্রতি বছর ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ আয়োজন করা হয়। রাখাইন পঞ্জিকা মতে বুধবার শেষ হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৭৫ সন। আর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে নতুন ১৩৭৬ রাখাইন বর্ষ। - See more at: http://coxmirror.com/%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be/#sthash.ApwwKUnY.dpuf
জলে-জলের শুভ্রতায় খোঁজে নিয়ে স্নিগ্ধ হওয়ার অন্য রকম প্রয়াস এটি। কোনো ধর্মীয় রীতি নয়, সামাজিক রীতি মতে রাখাইন নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রাখাইনরা একে-অপরকে পানি ছোড়া-ছুড়ির খেলায় মেতে উঠেছে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। উৎসব চলবে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত।
রাখাইন সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা ‘জলকেলী’ উৎসব হিসেবে পরিচিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কক্সবাজারের রাখাইন পল্লীতে চলছে ভিন্ন আবহ। রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজন, পর্যটক ও বিদেশিদের পদভারে মুখরিত হয়েছে পল্লী। ওখানে বিদেশি পর্যটকরা রাখাইনদের সঙ্গে সঙ্গে গানে-নাচে মাতোয়ার দৃশ্য দেখে বিমোহিত হয়েছেন সবাই।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা থেকে বৌদ্ধধর্মালম্বী রাখাইন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ শুরু হয়েছে।
অন্যান্য বার এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকলেও এবার তা হয়নি। বরং অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া উৎসব ভিন্ন আমেজে জমে উঠেছে।
কক্সবাজার শহরের ১৫টি প্যান্ডেলে একযোগে শুরু হয় এ পানি ছোড়া-ছুড়ির খেলা।
কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতা অধ্যক্ষ ক্য থিং অং জানান, চৈত্র সংক্রান্তি থেকে রাখাইনদের বর্ষবরণ ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ উৎসব শুরু হয়ে চলে প্রায় সপ্তাহ জুড়ে। উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব ‘পানি খেলা’ বা ‘জলকেলি’ বৈশাখের চতুর্থ দিন থেকে শুরু হয়। চলে ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত। এবারের ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ বা জলকেলি উৎসব চলবে ৪ বৈশাখ থেকে ৬ বৈশাখ পর্যন্ত। ইংরেজি তারিখের হিসেবে ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল।
কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের তরুণ জহিন রাখাইন জানান, রাখাইন সম্প্রদায়ের বর্ষ পঞ্জিকা অনুসারে রাখাইন বর্ষ বিদায় এবং বরণে প্রতিবারের মতো ৭দিনের বর্নাঢ্য আয়োজন শুরু হয়েছে। এ উৎসবের অংশ হিসেবে রাখাইনদের ভাষায় বলা হয় “সাংগ্রেং পোয়ে’ বা বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়েছে ১৩ এপ্রিল থেকে।
প্রথম দিন ১৩ এপ্রিল পালিত হয় ‘ফারা রিসো পোয়ে’ বা বুদ্ধের স্নান উৎসব। ওই দিন রাখাইন শিক্ষার্থীরা বুদ্ধ মুর্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্নান করান। পুরোহিত, দায়ক ও শিষ্যদের সহযোগিতায় সুগন্ধ দ্রব্য ও চন্দনের পানি, নানা রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে ধর্মীয় নানা আচারণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ মুর্তি ধুয়ে দেওয়া হয়। উৎসবের ২য় দিন ১৪ এপ্রিল পালিত হয়েছে ‘রছা ফরা রিসো পোয়ে’ বা বাড়ির বুদ্ধের স্নান উৎসব।
উৎসবের ৩য় দিন ও ৪র্থ দিন ১৫ এপ্রিল ও ১৬ এপ্রিল ২ দিনব্যাপী শিশু-কিশোরদের ‘সাংগ্রেং পোওয়ে’ চলছে। ১৭ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে “মাহা সাংগ্রেং পোয়ে”। সাংগ্রেং পোয়ে’র ৩ দিনের সমাপনী উৎসবকে তাদের ভাষায় বলা হয় “মাহা সাংগ্রেং পোয়ে”।
ওই দিন সকালে এলাকা ভিত্তিক শোভযাত্রা বৌদ্ধ কিয়াং এ যাবে। এক ঘণ্টা বাদক বিশেষ ঘণ্টা বাজিয়ে কিয়াং সহ প্যান্ডেল পরিদর্শনের নিদের্শনা দেন। এই শোভযাত্রায় তরুণরা মাটির তৈরি কলসি ও পেছনে বয়স্ক নারী-পুরুষ ‘কল্প তরু’ বহন করবে। কিয়াং থেকে শোভযাত্রাটি প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ায় আর পানি নিক্ষেপ খেলায় মেতে উঠে।
বৃহস্পতিবার রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলী উৎসব শুরুর দিনে অথিতি ছিলেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। সামাজিক দায়িত্ব বোধ থেকে আজকে আমরা এখানে এসেছি। অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে আজকের এই মিলন মেলা। আজকের এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উপস্থিতি একত্রিত হয়ে যে উৎসব পালন করছে তারই প্রমাণ হচ্ছে আমাদের মধ্যে কোন সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ নেই। এসময় তারা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পরিণিত করায় জননেত্রী শেখ হাছিনাকে ধন্যবাদ জানান।
প্রসংগত, পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন উৎসবের নগরী হচেছ রাখাইন পল্লী। কক্সবাজারে রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলী উৎসবকে ঘিরে নানা আয়োজন। তাছাড়া নানা রং-এ সাজানো হয়েছে রাখাইন পল্লীগুলোকে। রাখাইনদের সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব জলকেলী দেখতে বৃহস্পতিবার গোলদিঘি পাড়স্থ রাখাইন পল্লিতে জড়ো হয় বিদেশী পর্যটক ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। মহা সাংগ্রেঙ পোয়ে বা জলকেলী উৎসব ৩ দিন ব্যাপী চলবে। রাখাইন বর্ষপুঞ্জি অনুযায়ী গত বুধবার ছিল ১৩৭৬ রাখাইন সনেনর ১ম দিন।
এ দিনটিকে ঘিরে আবাল বৃদ্ধবনিতার পাশাপাশি রাখাইন তরুন-তরুণীদের উচ্ছ্বাস চলে বেশ জোরে-সুরে। ঐতিহ্যের পোশাক পরিচ্ছদের অদলে সকলেই সাঁজছে মনের মতো।
নববর্ষ বরণে বছরের প্রথম দিনে থেকে আয়োজিত জলকেলী উৎসব রাখাইন সম্প্রদায় এক অপরের প্রতি মাঙ্গলিক মৈত্রী জল ছিটিয়ে বিগত সময়ের পাপ পংকিলতা মুছে নতুন দিনের বার্তা নিয়ে এগিয়ে যায় এবং পবিত্র জলের মাধ্যমে এক অপরের প্রতি ভালবাসার বার্তা পৌছায়। উদ্বোধনী অনুষ্টান শুরু হওয়ার পর থেকে তারা একে অপরের গায়ে শুভ্র পানি ছিটানোর মধ্যে দিয়ে পুরনো দিনের সকল ব্যাথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়ছে। রাখাইনদের এ উৎসবকে সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, জলকেলী উৎসবকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইন শৃংঙ্খলা রক্ষায় টহলে থাকবে র্যাব।
প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো এসব তরুণদের নাচে গানে আনন্দের পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পানীয় পান করবে। একে অপরকে পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে পুরাতন বছরের সব পাপ, ক্লান্তি আর অসংগতিময়তা মুছে-ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে তাদের এ আয়োজন।
জানা গেছে, রাখাইন বর্ষকে বিদায় ও বরণে প্রতি বছর ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ আয়োজন করা হয়। রাখাইন পঞ্জিকা মতে বুধবার শেষ হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৭৫ সন। আর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে নতুন ১৩৭৬ রাখাইন বর্ষ। - See more at: http://coxmirror.com/%e0%a6%95%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be/#sthash.ApwwKUnY.dpuf


0 Comments