Advertisement

সরকারের সমর্থন কৌশলগত: ইমরান

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন শুরু হয়। মঞ্চ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এ পরিস্থিতিতে প্রথম আলোর মুখোমুখি হয়েছেন দুই অংশের দুই প্রতিনিধি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রিয়াদুল করিম ও আসিফুর রহমান

ইমরান এইচ সরকারপ্রথম আলো:
গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তির মূল কারণ কী?
ইমরান এইচ সরকার: আমি এটিকে বিভক্তি হিসেবে দেখছি না। বলতে পারেন মতপার্থক্য। দেখা গেছে, কর্মসূচি নেওয়ার পর যে কঠোর কর্মসূচি চেয়েছে তারও পছন্দ হয়নি, যে শিথিল চেয়েছে তারও পছন্দ হয়নি। এই নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এটা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে।
প্রথম আলো: বেশির ভাগ ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ, আপনি এককভাবে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে এই অবস্থা।
ইমরান: সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়াটা জটিল ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ বা কৌশলের সঙ্গে সাধারণ মানুষ বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কর্মকৌশলে পার্থক্য তৈরি হয়। এ সমস্যার সমাধানে সব অংশের প্রতিনিধি নিয়ে একটি ফোরাম করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ছাত্রসংগঠনগুলোই এর বিরোধিতা করেছে।
প্রথম আলো: আপনি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। গণজাগরণ মঞ্চের শুরু থেকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা দিয়েছে। এখন বিরোধ কেন?
ইমরান: সরকারি ছাত্রসংগঠন শুরুতে বলেছিল তারা রাজনীতি করতে আসেনি। সরকার আমাদের দাবিগুলোতে রাজনৈতিক কৌশল বা যেকোনো কারণে হোক একাত্মতা প্রকাশ করেছে। কৌশল হিসেবে তারা হয়তো সমর্থন দিয়েছে। যখনই তাদের স্বার্থে লেগেছে তখনই বাধা দিয়েছে। সরকারের কৌশলগত পরিবর্তন বিভিন্ন সময়ে হয়েছে।
প্রথম আলো: অভিযোগ উঠেছে, আপনি মঞ্চকে সরকারবিরোধী অবস্থানে দাঁড় করাতে চাইছেন। রাজনৈতিক দল করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
ইমরান: রাজনৈতিক দল করার আলোচনা এখনো আমাদের মধ্যে হয়নি। আমাদের দাবির একটি পক্ষ সরকার, আরেকটি পক্ষ জনগণ। কারও বিরোধিতা করা বা কাউকে রক্ষা করা নয়, আমাদের লক্ষ্য ছয় দফা আদায় করে নেওয়া। এটি করতে গিয়ে যখনই আমাদের কঠোর হতে হয়েছে, তখনই এ প্রসঙ্গগুলো এসেছে।
প্রথম আলো: আরেকটি বড় অভিযোগ আর্থিক অস্বচ্ছতা। শাহবাগ আন্দোলনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কত টাকা এসেছে এবং কত টাকা খরচ হয়েছে?
ইমরান: শুরুতে আমরা মাঠ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছি, প্রথম দিন ১৪ হাজার, দ্বিতীয় দিন ৪৫ হাজার টাকা। এরপর যারা জোর করে শাহবাগে এসে অর্থ সহায়তা করতে চেয়েছে, তা আমরা গ্রহণ করেছি। মাইক ভাড়া, বিভিন্ন সময় খাবারের দরকার পড়ত, সেগুলো এখান থেকে সংস্থান করেছি। আমরা কোনো টাকা সংরক্ষণ করিনি। এসবের হিসাব রেখেছি, খুব দ্রুত প্রকাশ করব।
প্রথম আলো: গণজাগরণ মঞ্চের একাংশ আপনাকে মুখপাত্র থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছে।
ইমরান: যাঁরা এ ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগ একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। তার পরও আমরা সবার সঙ্গে কথা বলব, কেন তাঁরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন। যে দলের কর্মীরা এ ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁদের সিনিয়র নেতারা কিন্তু সরাসরিই বলেন, তাঁরা মনে করেন গণজাগরণ মঞ্চের আর কোনো প্রয়োজন নেই। সুতরাং এটি খুব কনফ্লিকটিং (সাংঘর্ষিক) হয় যে তাঁরা মঞ্চের নেতা পরিবর্তন করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান।
প্রথম আলো: আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ইমরান: এখন পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত, ছয় দফা দাবি, আমরা মনে করি এটি একটি রোডম্যাপ; বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালিত করার জন্য। এই ছয় দফা বাস্তবায়নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। দাবি আদায় করে নতুন বাংলাদেশের সূচনা করা; যেন মুক্তিযুদ্ধকে সব বিতর্ক ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে রেখে একটি রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি হয়, সর্বোপরি একটি রাজনীতি সচেতন প্রজন্ম তৈরি হয়।

Post a Comment

0 Comments