এস.এম রহমত উল্লাহ, মহেশখালী
মহেশখালী উপজেলার অন্যতম একটি উৎপাদনকারী শিল্পের নাম লবণ। প্রকৃতির অপূর্ব লীলা ভুমি পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সমুুদ্রের লোনা পানির চেয়ে এ অঞ্চলের লোনা পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশী। তাই ককসবাজার জেলায় প্রাকৃতিক উপায়ে লবন উৎপাদন সহজ। এটি দেশের লবণ উৎপাদনের প্রধান জেলাও বটে। ককসবাজারে উৎপাদিত লবণ সারা দেশের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। আবার এই জেলার সিংহভাগ লবণ উৎপাদিত হয় মহেশখালীতে। চলতি মৌসুমে মহেশখালীর চাষীরা লবণ
উৎপাদন করে চল্লে ও ন্যায্য মূল্যের অভাবে মূল মালিকদের কাছ থেকে বেতন না পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছে লবণ শ্রমিকরা । এমন অভিগ করেছেন বড় মহেশখালী এলাকার প্রান্তিক লবণ চাষী জাগির হোসেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো জানান, বর্তমানে এক মন লবণ উৎপাদন করতে ৯০ থেকে একশত টাকা খরচ হয়। আর এই উৎপাদিত লবণ মাঠ পযায়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ২০১২-২০১৩ ইং অর্থ মৌসুমে মাঠ জরীপ অনুযায়ী লবণ উৎপাদনে ব্যবহৃত জমির পরিমাণ চট্রগ্রামস্থ কেবল মহেশখালীতে ১৮৩২৩ একর জমিতে লবন উৎপাদিত হয়। মহেশখালীতে উৎপাদিত হয় ৩,৪৬,৮৬৫ মেট্টিক টন। দেশের লবনের চাহিদা ১২,২০,০০০ মেট্টিক টন প্রায়। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে লবণ এর বাম্পার উৎপাদন হয়। গত বৎসর প্রায় ৫ লক্ষ টন লবণ উৎপাদিত হয়। তাই চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশী হওয়ায় লবণের দাম মারাত্মক হারে হ্রাস পাওয়ায় চাষীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, বিগত সময়ে সরকার বিসিক এর মাধ্যমে লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প নামে ১টি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। যার উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীদের উন্নত মানের সাদা লবণ উৎপাদনে কারিগরী সহয়তা দেওয়া, যাতে চাষীরা লবনের ন্যায্য মূল্য পায় এবং চাহিদা মত লবণ উৎপাদন হলে বিদেশ থেকে লবণ আমদানী না করার জন্য সরকারের পরামর্শ প্রদান করা। ১৫ মার্চ সরেজমিন ঘুরে আরো জানা যায়, বর্তমান ৭০% চাষীরা সাদা লবন উৎপাদন করে। লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ফসল। মনুষ্য খাদ্য, পশু ও মৎস্য খাদ্য এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহার হয়। ককসবাজার জেলায় প্রায় ২ লক্ষ চাষি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লবণ শিল্পের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। সারা দেশে লবণের চাহিদাও ককসবাজার থেকে মেটানো হয়। তাই লবণ চাষীদের উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষনের জন্য এ জেলায় একটি লবন বোর্ড গঠন করা জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত অগ্রহায়ণ মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের মৌসুম। এসময় ধনী দরিদ্র প্রত্যেকের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ-স্বচ্ছলতা লক্ষ্য করা যায় এবং প্রত্যেকের মুখে মুখে প্রাণখোলা হাসি ফুুটে ওঠে। কিন্তু বিগত দু-তিন বৎসর লবণের বাম্পার ফলন হলেও মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম অত্যাধিক হ্রাস পেয়েছে। কৃষকরা প্রচুর লোকসানের শিকার হচ্ছে। এখন আর কৃষকের মুুখে সেই হাসি নেই। কৃষকরা লবণ চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। লবণ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। চলতি মৌসুমে লবণ চাষে ব্যবহৃত জমির পরিমান গত বৎসরের চেয়ে অনেক কম। লবণের দাম কমলেও লবণ উৎপাদন খরচ আগের মত রয়ে গেছে। মৌসুম সম্পন্ন করতে প্রতি একরে লবণ মাঠ তৈরীতে খরচ পড়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। তাই চলতি মৌসুমে মন প্রতি ২০০ টাকা কম লবণের দাম হলে কৃষকেরা মারাত্বক লোকসানের সম্মুখীন হবে। চাষিদের ধারণা লবণ আগামী মৌসুম থেকে চাষিরা লবনের জমিতে লবনের পরির্বতে অন্য ফসলের উৎপাদনের দিখে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সম্ভাবনাময় এ শিল্প ধংসের মুখে পড়বে। লবণ চাষীদের ধারনা সরকার লবন আমদানির পারমিট না দিলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা অদৃশ্য উর্ধ্বতন মহলের সহযোগিতায় চোরাই পথে বিদেশ ( ভারত ও মায়ামার) থেকে লবণ আমদানির পায়তারা করে যাচ্ছে বলে সূত্রে জানা যায়। বিগত সময়ে সরকার উৎপাদিত সাদা লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছিল প্রতি মণ ১০০ টাকা অপর দিখে প্রতি কেজি ৭৫ পয়সা করে ক্রয় করে লবণ মিল মালিকরা ক্রাইসং ও আয়োডিন যুক্ত করে কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করে চলছলে। বাজারে লবণেল চড়া মূল্য হলেও মাঠ পযার্য়ে আংশখা জনক হারে লবণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায়, মহেশখালী উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার লবণ চাষি পরিবারের নেমে এসেছে চরম হতাশা । লবণের জমির লাগিয়ত মূল্য ৩ চতুর্থাংশ হ্রাস পাওয়ায় জমির মালিকরা ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।তাই এই লবণ শিল্পকে রক্ষা করতে হলে প্রথমে বিদেশ থেকে লবণ আমদানী বন্দ করে, দেশীয় লবণ এর বাজার মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। লবণের ন্যায্য মূল্য না পেলে প্রান্তিক কৃষকরা লবণ চাষে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে এবং লবণ শিল্প ধবংস হয়ে যাবে।
