ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপর একটি মহল :
রাসেল চৌধুরী, কক্সবাজার॥
কক্সবাজারে ডাক্তারের অবহেলায় শায়লা পারভীন শাকি নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডাক্তার শুধু অতিরিক্ত টাকা কামাইয়ের জন্য নরমাল ডেলিভারীর বদলে সিজার করানো এবং সিজার পরবর্তী সময়ে সঠিক পরিচর্যা না করার কারনে ওই রোগীর করুন মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রোগীর আতœীয় স্বজনের। নবজাতক ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসাদুজ্জামান তাকে দেখানোর পর ওই রোগীকে সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে রোগীর প্রতি এমন আচরণ করেছেন বলেও জানান তারা। এনিয়ে সচেতন মহলে মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি মহল তৎপর হয়ে ওঠেছে।
কক্সবাজার পৌরসভার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন মহিন সাংবাদিক সন্মেলনে অভিযোগ করেছেন, তিনি তার গর্ভবতী স্ত্রী শায়লা পারভীন শাকি কে চিকিৎসার জন্য গত ৫ই ডিসেম্বর নবজাতক ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: আসাদুজ্জামানের কাছে নিয়ে যান। ওই দিন ডাক্তার রোগীকে ঠিকভাবে না দেখে একটি ক্রিম দেন। ৩১শে ডিসেম্বর ডাঃ আসাদ্জ্জুামান অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী ডাঃ ফাতেহা আক্তার রোগীকে পরীক্ষা করে জানান, আসলে ডাঃ আসাদুজ্জামানের চিকিৎসায় একটু ভুল ছিল। এর জন্য স্বামীর হয়ে তিনি দু:খ প্রকাশ করেন। পরে ঠরৎীঁ- নামে একটি ক্রিম লিখে দেন তিনি। ৫ই জানুয়ারী ডাঃ আসাদুজ্জামান তাকে জানান, রোগী নরমাল ডেলিভারীর জন্য ৮৫% ফিট আছে। ১৫ র্ফেরুয়ারী ডাক্তার তার স্ত্রীকে ইউরিন ও আল্ট্রাসনোগ্রাফী পরীক্ষা দেন। ডাক্তার রিপোর্ট দেখে জানান, সমস্যা নেই, বাচ্চার পজিশন ঠিক রয়েছে। ২২ ফের্রুয়ারী হঠাৎ স্ত্রীর ব্যথা উঠলে সরকারী মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার ডাঃ রোগীকে আল্ট্রসনোগ্রাফী পরীক্ষা করান। ২৪ ফের্রুয়ারী রোগীকে আবারও ডাক্তার আচ্ছাদুজ্জামান এর কাছে নিয়ে গেলে তিনি সরকারী মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে তেলে কেগুনে জ্বলে উঠেন। অকথ্য ভাষায় র্দূব্যবহার করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ডাক্তার আসাদুজ্জামানের পরামর্শে তিনি তার স্ত্রীকে দু,দফা ডিজিটাল হাসপাতাল ও সী-সাইড হাসপাতালে ভর্তি করান। রোগী এ দু’ হাসপাতালে ১ সপ্তাহের বেশী দিন থাকলেও তিনি একবারও দেখতে যাননি। এমনকি রোগীর অভিভাবকের সাথেও সৌজন্যমূলক কথা বলেননি।
এদিকে ডাক্তারের পরামর্শে ২৫ ফের্রুয়ারী সকাল সাড়ে ১০ টায় নরমাল ডেলিভারীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুদ কিনে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১১ টায় ডাক্তার আসাদুজ্জামানের স্ত্রী জানায়, রোগীকে সিজার করাতে হবে। তিনি ডাক্তারের কথা মতো সিজার করাতেও রাজি হন। সিজার শেষে ২৮ ফের্রুয়ারী রোগীকে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর রোগীর শরীরে ফোলা বেড়ে যাওয়ায় রোগীকে ২ দিন পর আবারও ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়। ডাঃ আসাদুজ্জামান চেম্বারে না থাকায় তার স্ত্রী রোগীর চেকআপ করেন। তিনি রোগীর শারিরীক অবস্থা দেখে খুব দু:খ প্রকাশ করেন এবং একটি এইচ বি টেষ্ট করতে দেন। পরদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিপোর্ট দেখে ডাঃ খন্দকার আছাদুজ্জামান রোগীকে দ্রুত ৩ ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং যাতায়তের সুবিধার জন্য রোগীকে ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। ডাক্তারের পরামর্শে রোগীকে ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ডাক্তার একবারও রোগীকে দেখতে হাসপাতালে যাননি। ২দিন হাসপাতালে রেখে রোগীকে দু’ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। হাসাপাতালের কর্তব্য ডাক্তার বলেন, রোগীকে সিজার করার আগে হিমোগ্লোবিন টেষ্ট করা উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি বলে রোগীর এ অবস্থা হয়েছে। ওই ডাক্তার বলেন, রোগীরতো এখন অবস্থা আশঙ্কাজনক, এমতাবস্থায় তাকে ডাঃ ২ ব্যাগ রক্ত দেন এবং হিমোগ্লোবিন টেস্ট করান। রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমান ৯.৫। ওই ডাক্তার বলেন, তাকে খুব সাবধানে থাকতে হবে এবং ৩ দিন পর আরও ১ ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। এরপরে ৮ মার্চ ডাঃ আসাদুজ্জামানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ৯ মার্চ রোগীকে ডাঃ আচ্ছাদুজ্জামানের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য মনস্থির করলেও ডাঃ চেম্বারে না থাকায় ১০ মার্চ ডাক্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন স্বামী। কিন্তু ১০ মার্চ ডাক্তার দেখানোর আগেই তার স্ত্রী মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, শুধু মাত্র ডাক্তারের চরম অবহেলার কারনে তার স্ত্রীর করুন মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ ঘৃণ্য নরপশু ডাক্তার আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান এবং একই দাবীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন বরাবরে স্মারকলিপি দেন। এদিকে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হওয়ার পর থেকে একটি কুচক্রী মহল ওই হৃদয় বিদারক ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডা: আসাদুজ্জামান জানান তিনি রোগীর চিকিৎসায় কোন ধরনের অবহেলা করেননি। সিজার শেষে বাড়ী যাওয়ার কয়েকদিন পর রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

0 Comments