এম শাহ আলমকক্সবাজারে মালয়েশিয়া পাচারকারী দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে রেহাই পাচ্ছে না স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও। দালাল চক্র কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানবপাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। উপরন্তু প্রশাসনের কিছু অসাধূ কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে জড়িতদের পাচারকাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরের পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে দক্ষিণ পাহাড়তলী হালিমা পাড়ার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম সিফাত (২৮), আরাফাত (২৫), দেলোয়ার হোসেন বাপ্পী (২০)সহ অন্তত ডজনখানেক নাম উঠে এসছে। এসব অপরাধীরা শহরসহ জেলার মধ্যবিত্ত থেকে ধনাঢ্য পরিবারের স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রদের বিভিন্ন লোভ-লালসা দিয়ে ভুলিয়ে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পাচারকারীদের হাতে তুলে দেন। টেকনাফ উপজেলার পাচার চক্রের এসব সদস্যের মধ্যে রয়েছে গোদারবিল এলাকার হারুন-১ (২২), হারুন-২ (২৫), কচুবনিয়া এলাকার নজির আহমদ (৪০), ফরিদ মাঝি (২৫) একই এলাকার ইদ্রিস (২৮), ফারুখ (২২) এবং আমিন (২২) উল্লেখযোগ্য।
জানা যায়, পাচারকারী এ চক্রটি কক্সবাজার শহরতলী বইল্যা পাড়া এলাকার আবুল বশরের ছেলে কক্সবাজার কমার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত হোসেন (১৮)কে গত ৩১ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে কৌশলে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আরাফাতকে পাচারকারী দলের কাছে বিক্রি করে দেয়। এসময় পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমদসহ অন্যান্য পাচারকারীরা আরাফাতকে কাটাবনিয়া এলাকায় হাত পা বেঁধে নিয়ে যায়। পরে দালালরা তাকে রাতের আঁধারে সাগরে রাখা মাছ ধরার বোটে বন্দি করে রাখে। এসময় দালালরা অপর যাত্রীদের আনতে গেলে আরাফাত বোট থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাচারকারীরা তা টের পেয়ে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় কিছুলোক তাকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেন। পরে পরিবারকে খবর দিলে পরদিন ১ ফেব্রুয়ারী পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে।
এব্যাপারে অপহৃত আরাফাত জানান, মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে পাচারকারী দলের সদস্য বাপ্পী, সিফাত ও আরাফাত (পূর্ব পরিচিত) আমাকে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আমাকে পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমেদ, হারুন, মইন্যা, হারুন, ফরিদ মাঝি, ফারুখ ও আমিনের হাতে তুলে দেয়। আমি চিৎকার দিলে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং কাটাবনিয়া চর এলাকায় রাতের আধাঁরে সাগরে রাখা বোটে হাত পা বেঁধে বন্দি করে রাখে। আমি তাদের অগোচরে বোট থেকে কোন মতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পাচারকারীরা আমাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে তাদের কাছে আশ্রয় দেন।
এদিকে এসব পাচারকারীরা বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, খুন ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীসহ সকল বয়সের লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচারকরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। এসব অপরাধীরা পাচারের পর মুক্তিপনের জন্য তাদের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। পাচারকারীরা মুক্তিপণ পেলে তাদেরকে ছেড়ে দেয় না পেলে হত্যা করে সাগরে লাশ ভাসিয়ে দেয়। এদিকে এসব অপরাধীরা প্রতিনিয়ত আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও পরে তারা মোটা অংকের টাকা আইনশৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে এবং কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আবারো এসব মানব পাচারসহ অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে আসছে। শহরসহ জেলায় যে সব মানবপাচার করা হচ্ছে ওসব পাচারকারীসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরদাবি জানায় জেলার সচেতন মহল।মালয়েশিয়া পাচার চক্রের কবলে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা
এম শাহ আলম
কক্সবাজারে মালয়েশিয়া পাচারকারী দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে রেহাই পাচ্ছে না স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও। দালাল চক্র কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানবপাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। উপরন্তু প্রশাসনের কিছু অসাধূ কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে জড়িতদের পাচারকাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরের পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে দক্ষিণ পাহাড়তলী হালিমা পাড়ার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম সিফাত (২৮), আরাফাত (২৫), দেলোয়ার হোসেন বাপ্পী (২০)সহ অন্তত ডজনখানেক নাম উঠে এসছে। এসব অপরাধীরা শহরসহ জেলার মধ্যবিত্ত থেকে ধনাঢ্য পরিবারের স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রদের বিভিন্ন লোভ-লালসা দিয়ে ভুলিয়ে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পাচারকারীদের হাতে তুলে দেন। টেকনাফ উপজেলার পাচার চক্রের এসব সদস্যের মধ্যে রয়েছে গোদারবিল এলাকার হারুন-১ (২২), হারুন-২ (২৫), কচুবনিয়া এলাকার নজির আহমদ (৪০), ফরিদ মাঝি (২৫) একই এলাকার ইদ্রিস (২৮), ফারুখ (২২) এবং আমিন (২২) উল্লেখযোগ্য।
জানা যায়, পাচারকারী এ চক্রটি কক্সবাজার শহরতলী বইল্যা পাড়া এলাকার আবুল বশরের ছেলে কক্সবাজার কমার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত হোসেন (১৮)কে গত ৩১ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে কৌশলে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আরাফাতকে পাচারকারী দলের কাছে বিক্রি করে দেয়। এসময় পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমদসহ অন্যান্য পাচারকারীরা আরাফাতকে কাটাবনিয়া এলাকায় হাত পা বেঁধে নিয়ে যায়। পরে দালালরা তাকে রাতের আঁধারে সাগরে রাখা মাছ ধরার বোটে বন্দি করে রাখে। এসময় দালালরা অপর যাত্রীদের আনতে গেলে আরাফাত বোট থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাচারকারীরা তা টের পেয়ে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় কিছুলোক তাকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেন। পরে পরিবারকে খবর দিলে পরদিন ১ ফেব্রুয়ারী পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে।
এব্যাপারে অপহৃত আরাফাত জানান, মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে পাচারকারী দলের সদস্য বাপ্পী, সিফাত ও আরাফাত (পূর্ব পরিচিত) আমাকে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আমাকে পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমেদ, হারুন, মইন্যা, হারুন, ফরিদ মাঝি, ফারুখ ও আমিনের হাতে তুলে দেয়। আমি চিৎকার দিলে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং কাটাবনিয়া চর এলাকায় রাতের আধাঁরে সাগরে রাখা বোটে হাত পা বেঁধে বন্দি করে রাখে। আমি তাদের অগোচরে বোট থেকে কোন মতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পাচারকারীরা আমাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে তাদের কাছে আশ্রয় দেন।
এদিকে এসব পাচারকারীরা বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, খুন ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীসহ সকল বয়সের লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচারকরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। এসব অপরাধীরা পাচারের পর মুক্তিপনের জন্য তাদের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। পাচারকারীরা মুক্তিপণ পেলে তাদেরকে ছেড়ে দেয় না পেলে হত্যা করে সাগরে লাশ ভাসিয়ে দেয়। এদিকে এসব অপরাধীরা প্রতিনিয়ত আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও পরে তারা মোটা অংকের টাকা আইনশৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে এবং কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আবারো এসব মানব পাচারসহ অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে আসছে। শহরসহ জেলায় যে সব মানবপাচার করা হচ্ছে ওসব পাচারকারীসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরদাবি জানায় জেলার সচেতন মহল।
জানা যায়, পাচারকারী এ চক্রটি কক্সবাজার শহরতলী বইল্যা পাড়া এলাকার আবুল বশরের ছেলে কক্সবাজার কমার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত হোসেন (১৮)কে গত ৩১ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে কৌশলে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আরাফাতকে পাচারকারী দলের কাছে বিক্রি করে দেয়। এসময় পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমদসহ অন্যান্য পাচারকারীরা আরাফাতকে কাটাবনিয়া এলাকায় হাত পা বেঁধে নিয়ে যায়। পরে দালালরা তাকে রাতের আঁধারে সাগরে রাখা মাছ ধরার বোটে বন্দি করে রাখে। এসময় দালালরা অপর যাত্রীদের আনতে গেলে আরাফাত বোট থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাচারকারীরা তা টের পেয়ে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় কিছুলোক তাকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেন। পরে পরিবারকে খবর দিলে পরদিন ১ ফেব্রুয়ারী পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে।
এব্যাপারে অপহৃত আরাফাত জানান, মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে পাচারকারী দলের সদস্য বাপ্পী, সিফাত ও আরাফাত (পূর্ব পরিচিত) আমাকে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আমাকে পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমেদ, হারুন, মইন্যা, হারুন, ফরিদ মাঝি, ফারুখ ও আমিনের হাতে তুলে দেয়। আমি চিৎকার দিলে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং কাটাবনিয়া চর এলাকায় রাতের আধাঁরে সাগরে রাখা বোটে হাত পা বেঁধে বন্দি করে রাখে। আমি তাদের অগোচরে বোট থেকে কোন মতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পাচারকারীরা আমাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে তাদের কাছে আশ্রয় দেন।
এদিকে এসব পাচারকারীরা বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, খুন ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীসহ সকল বয়সের লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচারকরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। এসব অপরাধীরা পাচারের পর মুক্তিপনের জন্য তাদের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। পাচারকারীরা মুক্তিপণ পেলে তাদেরকে ছেড়ে দেয় না পেলে হত্যা করে সাগরে লাশ ভাসিয়ে দেয়। এদিকে এসব অপরাধীরা প্রতিনিয়ত আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও পরে তারা মোটা অংকের টাকা আইনশৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে এবং কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আবারো এসব মানব পাচারসহ অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে আসছে। শহরসহ জেলায় যে সব মানবপাচার করা হচ্ছে ওসব পাচারকারীসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরদাবি জানায় জেলার সচেতন মহল।মালয়েশিয়া পাচার চক্রের কবলে স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা
এম শাহ আলম
কক্সবাজারে মালয়েশিয়া পাচারকারী দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে রেহাই পাচ্ছে না স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও। দালাল চক্র কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মানবপাচারসহ নানা ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়না বলে অভিযোগ রয়েছে। উপরন্তু প্রশাসনের কিছু অসাধূ কর্মকর্তা উৎকোচের বিনিময়ে জড়িতদের পাচারকাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরের পাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে দক্ষিণ পাহাড়তলী হালিমা পাড়ার বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম সিফাত (২৮), আরাফাত (২৫), দেলোয়ার হোসেন বাপ্পী (২০)সহ অন্তত ডজনখানেক নাম উঠে এসছে। এসব অপরাধীরা শহরসহ জেলার মধ্যবিত্ত থেকে ধনাঢ্য পরিবারের স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রদের বিভিন্ন লোভ-লালসা দিয়ে ভুলিয়ে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন পাচারকারীদের হাতে তুলে দেন। টেকনাফ উপজেলার পাচার চক্রের এসব সদস্যের মধ্যে রয়েছে গোদারবিল এলাকার হারুন-১ (২২), হারুন-২ (২৫), কচুবনিয়া এলাকার নজির আহমদ (৪০), ফরিদ মাঝি (২৫) একই এলাকার ইদ্রিস (২৮), ফারুখ (২২) এবং আমিন (২২) উল্লেখযোগ্য।
জানা যায়, পাচারকারী এ চক্রটি কক্সবাজার শহরতলী বইল্যা পাড়া এলাকার আবুল বশরের ছেলে কক্সবাজার কমার্স কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আরাফাত হোসেন (১৮)কে গত ৩১ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে কৌশলে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আরাফাতকে পাচারকারী দলের কাছে বিক্রি করে দেয়। এসময় পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমদসহ অন্যান্য পাচারকারীরা আরাফাতকে কাটাবনিয়া এলাকায় হাত পা বেঁধে নিয়ে যায়। পরে দালালরা তাকে রাতের আঁধারে সাগরে রাখা মাছ ধরার বোটে বন্দি করে রাখে। এসময় দালালরা অপর যাত্রীদের আনতে গেলে আরাফাত বোট থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাচারকারীরা তা টের পেয়ে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় কিছুলোক তাকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেন। পরে পরিবারকে খবর দিলে পরদিন ১ ফেব্রুয়ারী পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে।
এব্যাপারে অপহৃত আরাফাত জানান, মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে পাচারকারী দলের সদস্য বাপ্পী, সিফাত ও আরাফাত (পূর্ব পরিচিত) আমাকে টেকনাফের কচুবনিয়া এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তারা আমাকে পাচারকারী দলের সর্দার নাজির আহমেদ, হারুন, মইন্যা, হারুন, ফরিদ মাঝি, ফারুখ ও আমিনের হাতে তুলে দেয়। আমি চিৎকার দিলে তারা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং কাটাবনিয়া চর এলাকায় রাতের আধাঁরে সাগরে রাখা বোটে হাত পা বেঁধে বন্দি করে রাখে। আমি তাদের অগোচরে বোট থেকে কোন মতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পাচারকারীরা আমাকে তাড়া করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে তাদের কাছে আশ্রয় দেন।
এদিকে এসব পাচারকারীরা বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, খুন ও স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীসহ সকল বয়সের লোকজনকে মালয়েশিয়া পাচারকরে তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে। এসব অপরাধীরা পাচারের পর মুক্তিপনের জন্য তাদের পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে। পাচারকারীরা মুক্তিপণ পেলে তাদেরকে ছেড়ে দেয় না পেলে হত্যা করে সাগরে লাশ ভাসিয়ে দেয়। এদিকে এসব অপরাধীরা প্রতিনিয়ত আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও পরে তারা মোটা অংকের টাকা আইনশৃংখলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে এবং কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আবারো এসব মানব পাচারসহ অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে আসছে। শহরসহ জেলায় যে সব মানবপাচার করা হচ্ছে ওসব পাচারকারীসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরদাবি জানায় জেলার সচেতন মহল।
