Advertisement

ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্পট কক্সবাজারের বোটানিক্যাল গার্ডেন

ইমরান জাহেদ
পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের গড়ে তোলা হয়েছে বোটানিক্যাল গার্ডেন নামে একটি পর্যটন স্পট। এটি রামু-মরিচ্যা রুটের আর্মি ক্যাম্প নামক স্থানে বনে বিভাগের ১৫ একর পাহাড়ী সমতল জায়গার উপর অবস্থিত। বিগত আ’লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগ এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন উক্ত বনবিভাগের জায়গার উপর একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপনের জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে বনবিভাগ। তারই প্রেক্ষিতে বিগত সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা অর্থায়ন বরাদ্ধ দেন। পরে বন বিভাগ উক্ত বরাদ্ধ হাতে পেয়ে কাজ শুরু করার মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রায় কাজ সম্পন্ন করেন। অপরদিকে বিগত আ’লীগ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ড. হাছান মাহামুদ বিগত ৫ জুলাই ২০১৩ সালে এটি উদ্বোধন করেন। অন্যদিকে এই বোটানিক্যাল গার্ডেন সম্পূর্ণ রূপে রূপ পেতে যে কাজ গুলো রয়েছে সম্প্রীতি পুনরায় উক্ত কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানা যায়। বর্তমানে বোটানিক্যাল গার্ডেন ১৫ একর জায়গার উপর স্থাপন করা হলেও এটিকে ৪০ একরে উন্নীত করা হবে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়। পর পর এটিকে প্রায় ৬’শ একর বোটানিক্যাল গার্ডেনের সম্পূর্ণ রূপে রূপান্তর করা হবে বলে সূত্রে জানা যায়। অপর দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেনের চারদিকের বাউন্ডারী ওয়ালের মাধ্যমে সংরক্ষণ করছে বনবিভাগ। এখানে রয়েছে গোলাপ, গন্ধরাজ, চামিলী, গাঁদা ফুল, বিউলী, শিউলী, জবা, সূর্যমুখী, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের বাগান। এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছগাছালি। এই বোটানিক্যাল গার্ডেনটি দেখতে খুবই সুন্দর। এখানে রয়েছে এক অনন্য নয়াভিরাম পরিবেশ। গার্ডেনের পার্শ্বে রয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহি নারিকেল বাগান, আর্মি ক্যাম্প। রয়েছে দেশের অন্যতম ৫০ ব্যাটলিয়ানের মত বিজিবি ক্যাম্প। প্রতিদিন এখানে শত শত পর্যটকসহ স্কুল, কলেজ পড়–য়া ছাত্রছাত্রী ও বিভিন্ন নারী পুরুষ মনোরম পরিবেশে ভ্রমণ করতে ছুটে আসে। প্রতিদিন দূরদুরান্ত থেকে পিকনিক করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ পর্যটকদের ভিড় জমাতে লক্ষ্য করা যায়। এখানে যেমন সুন্দর পরিবেশ, মনোরম ভাবে আনন্দ উপভোগ করা যায় তেমনি রয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবসকে ঘিরে প্রেমিক জুটিসহ বিভিন্ন নারী পুরুষদের মিলনমেলাতে মুখরিত হবে বলে ধারণা করছে অনেকে। বর্তমানে এখানকার ফুলগুলো সাইজে অনেক বড়, দেখতে অনেক সুন্দর মন কেড়ে নেওয়ারমত। এখানকার ফুল গুলো ক্রয় করতে প্রতিদিন দূরদুরান্ত থেকে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক ভিড় জমাতে দেখা যায়। অপরদিকে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ক্রমান্বয়ে সুইচ গেইট, লেক, রেস্টহাউস, রেঞ্জ ভবন, চাইনিস রেষ্টুরেন্ট সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও গড়ে তোলা হবে। এব্যাপারে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক এম এ হাছান ও রাজারকুল রেঞ্জ অফিসের রেঞ্জ কর্মকর্তা আমির হামজা জানান, বিগত আ’লীগ সরকারের আমলে এখানে একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন করার জন্য বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে বনবিভাগ। পরে তারই ধারাবাহিকতায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা অর্থায়নে বরাদ্ধ দেন মন্ত্রণালয়। এই অর্থায়নের প্রেক্ষিতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ একর জায়গার চারপাশের বাউন্ডারী ওয়াল সহ বিভিন্ন স্থাপনা নিমার্ণ করা হয়েছে। তারা আরও জানান, এখানে ক্রমান্বয়ে ৪০ একর থেকে ৬’শ একরে উন্নীতিকরণ করা হবে এবং আগামী ১ মাসের মধ্যে বাকী যে স্থাপনা রয়েছে এগুলোর কাজ আরম্ভ করা হতে পারে।