ইমরান জাহেদ
রাজনৈতিক সহিংসতা ও হরতাল-অবরোধ এবং দীর্ঘদিনের লোকসান আর হতাশা কাটিয়ে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে পুরোদমে নব উদ্যমে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। এই নিয়ে আশার আলো দেখছেন পর্যটন শিল্প-নির্ভর ব্যবসায়ীরাও। ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য আঙ্খাকিত একটি দিন। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয়, মা-বাবা-ভাই-বোন, সন্তানসহ পরিবারের সবাইকে ভালোবাসার দিন হচ্ছে এটি।
স্মৃতির পাতায় এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারমুখী লাখো পর্যটক এবং সঙ্গে স্থানীয়রাতো রয়েছেনই। পর্যটন শিল্প নির্ভর ব্যবসায়ীরা আশা করছেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় এবং হরতাল-অবরোধ না থাকায় বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সৈকতের বালিয়াড়িতে দেশী পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকের সমাগমও হবে বলে আশা করছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে অনেক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। গত কয়েকদিন ধরে পর্যটকের আগমন কিছুটা কম থাকলেও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসটি শুক্রবারে পড়ায় পর্যটকের আগমন কিছুটা হলেও বাড়বে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক শফিকুর রহমান কোম্পানি জানান, ইতিমধ্যে কিছু পর্যটক অগ্রিম বুকিং দিয়েছেন। পর্যটকদের আগমনে অতীতের লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে তোলা যাবে বলে আশা করেন তিনি। অন্যদিকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব সময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকেরা যাতে কোনো ধরনের ছিনতাই কিংবা হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটক বেশে পুরুষ-মহিলা পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
শুধু কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত নয়, দেশী-বিদেশী পর্যটক আর প্রেমিক-প্রেমিকাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠবে জেলার দর্শনীয় পর্যটন স্পটগুলোও। সমুদ্রসৈকতের সারি সারি ঝাউ বাগানের মাঝে আর সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে বসে প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে ফুল আর উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের মাঝে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘদিনের সুখ-দুঃখ আর আনন্দ-বেদনার কথা ভাগাভাগি করে নেবেন। ভালোবাসা দিবসের আনন্দকে উপভোগ করার জন্য পর্যটক আর প্রেমিক-প্রেমিকারা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সীমাবদ্ধ না রেখে তা ছড়িয়ে দেবে ইনানী পাথুরে বিচ, হিমছড়ির অপরূপ ঝর্ণা, দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, দরিয়ানগর, সোনাদিয়া দ্বীপ, আদিনাথ মন্দির, রামুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও একাধিক হোটেল-মোটেলে আয়োজন করা হয়েছে ভালোবাসা দিবসের লাইভ কনসার্ট। এসব কনসার্টে গান পরিবেশন করবেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা।

