Advertisement

পেকুয়ায় পাউবোর জায়গা দখল করে বসত ভিটা নির্মাণের অভিযোগ

মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া : কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন বোডর্ (পাউবো‘র) মালিকানাধীন জায়গা অবৈধভাবে জবর দখল করে বসতভিটা নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রবাহমান চলাচল খালে জেগে উঠা চরের পরিত্যক্ত জায়গা টইটং ইউপি’র সদস্য শাহাদাত হোছাইন ও স্থানীয় যুবদল নেতা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পাউবোর জায়গায় মাটি ভরাট করে বসতভিটা তৈরী করেছে। পরে চড়া মূল্যে তা স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা দেখেও না দেখার ভান করছে। অন্যদিকে ওই প্রভাবশালী ইউপি সদস্য গায়ের জোরে এ কাজ চালিয়ে গেলেও এলাকাবাসী তার বিরোদ্ধে মুখ খোলার কারও সাহস নেই। এভাবে হাত ছাড়া হচ্ছে টইটংয়ের নাপিতখালী এলাকায় পাউবোর বিপুল পরিমান জায়গা। বেহাত হচ্ছে প্রতিনিয়ত সরকারী সম্পত্তি। এদিকে চর দখল করে ক্রমশ বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা তৈরী হওয়ায় চরগুলোতে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী উজাড় হওয়ার তৈরী হয়েছে উপক্রম। জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের প্রবাহমান সোনাইছড়ি খালের নাপিতখালী অংশে পাউবোর মালিকানাধীন জেগে উঠা চর বেচাবিক্রির হিড়িক শুরু হয়েছে। টইটং ইউপির ৬ নং ওর্য়াড়ের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক শাহাদত হোছাইন সম্প্রতি ক্ষমতার দাপটে বিপুল পরিমান নদীর তীরবর্তী জায়গা জবর দখল করে। পরে ওই জায়গা মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ উপযোগী করে তিনি নিজেই স্থানীয়দের কাছে মোটা দামে বিক্রি করে আসছে। গতকাল সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়,চর দখলের মহোৎসব হিসেবে ওই ইউপি সদস্য তার বাড়ির নিকট সোনাইছড়ি খালের চরে মাটি কেটে পুকুর খনন করে সেখানে ২০শতক জায়গা সিমানা নির্ধারন করে ঘরভিটা তৈরী করেছে। স্থানীয়রা জানান,উক্ত স্থানে বসতি গড়ে দিতে তিনি জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। জায়গা পাউবোর হলেও উক্ত জায়গায় র্দীঘদিন ধরে উপকুলীয় বনবিভাগ প্রবাহমান খালের চরে বিপুল পরিমান গড়ে ওঠেছে সবুজ বেষ্টনী। সম্প্রতি নাপিতখালীর যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হয়েছে। এবিসি সড়ক পেকুয়া ও রাজাখালীর সাথে নাপিতখালীর যোগাযোগ সেতুবন্ধন। এ কারনে এখানকার জায়গা জমির দাম কয়েকগুন বেড়ে গেছে। স্থানীয়রা এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের উধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও থেমে নেই এ অবৈধ দখল ও বাণিজ্যের হিড়িক। এ বিষয়ে টইটং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য শাহদাত হোছাইন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বানিজ্যের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জায়গাটি তাদের নাল জমির মাথাখিলা বলে আর মন্তব্য করতে রাজি হননি।