Advertisement

ঈদগাঁওয়ে বেড়েই চলছে মোবাইলে চাঁদাবাজি

সদর উপজেলা প্রতিনিধি
সদর উপজেলার ঈদগাঁওয়ে মোবাইলে চাঁদাবাজি বেড়েই চলছে। কখনো সন্ত্রাসীর নামে, আবার কখনো জীনের বাদশা, আবার কখনো মোবাইল কোম্পানির হেড অব মার্কেটিং, র‌্যাব-পুলিশ, ডিবি, নেতার পিএস পরিচয় দিয়ে চলছে নিরব চাঁদাবাজি। এদের কবলে পড়ে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
তাদের ভয়ে অনেকে বাড়ী-ঘর ছেড়েছেন। আবার অনেকে ভয়ে আতংকে মোবাইলে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। এরকম অভিযোগ ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত্র কেন্দ্রে অহরহ।
সম্প্রতি ঈদগাঁও ভাদিতলার গৃহবধু আসমার মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে রাতে কল আসে। কলটি রিসিভ করতেই সালাম দিয়ে বলে উঠেন, আমি পীর বাবার একজন খেদমতগার হয়ে তোমার কাছে ফোন করছি মা। তুমি আমায় চিনবে না। আমি আল্লাহর বান্দা বলছি। তোমার উপর পীর বাবার বিশেষ দোয়া রয়েছে। তোর ভাল-মন্দ বাবা শুনেছেন। তোর মানত পুরন কর নইলে বিদেশে তোর স্বামীর বিপদ হবে। এসময় আসমা তার কাছ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, আমাকে কি করতে হবে হুজুর? তখন লোকটি বলেন, ছাগল মানত করেছিল তাই না! আসমা হ্যাঁ বলতেই তিনি আবার বলা শুরু করলেন জলদি বাবার দরবারে পাঠিয়ে দেয়। তবে খবরদার একথা কাউকে বলিস না। বললে তোর ক্ষতি হবে। কিভাবে পাঠাবে জানতে চাইলে ছাগলের দাম ৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠানোর কথা বলে। তার কথামত সকালে আসমা ঈদগাঁও বাস ষ্টেশনে গিয়ে ঐ নাম্বারে ৫ হাজার টাকা পাটিয়ে দেয়। এর পর থেকে মোবাইলটি বন্ধ রয়েছে।
গত সপ্তাহে পোকখালীর বাসিন্দা ঈদগাহ কলেজ ছাত্র এরফানকে ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে একটি নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে টাকা দাবী করেন। তিনি তাৎক্ষণিক কক্সবাজার মডেল থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। মডেল থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান করে জেনেছে নাম্বারটির রেজিঃ নেই। শুধু তাই নয় জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাতদের ডান হাত-বাম হাত পরিচয় দিয়েও মোবাইলে গণহারে চাঁদাদাবি করছে সংঘবদ্ধ এ চক্র। চাঁদাদাবির পুর্বে কৌশলে নাম-ধাম, ব্যবসা-বাণিজ্যের খবর নিয়ে নানা হুকমি-ধমকিও দিচ্ছে তারা। এদিকে পার্শ্ববর্তী খুটাখালীতে গত ২ সপ্তাহ পুর্বে ঘটে এ ধরণের আরেকটি ঘটনা। একটি মহল মালেশিয়ায় আটক যুবকদের খবর পাওয়া গেছে বলে ফোন করেন ইউনিয়নের সেগুন বাগিচার শফি আলমের কাছে। এসময় তারা ২ যুবককে খুলনার বাগের হাটে পেয়েছেন বলে জানায়। এক পর্যায়ে তারা শফি আলমের ছেলের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তাদের কাছ থেকে কিডনী কেটে নেয়া হয়েছে এবং জরুরী হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে বলে কিছু টাকা পাঠাতে বলেন। শফি আলম তাৎক্ষণিক তাদের দেয়া মোবাইল নাম্বারে ৩ হাজার টাকা বিকাশ করেন। সে থেকে এখন পর্যন্ত ঐ নাম্বারটিও বন্ধ রয়েছে। সব মিলিয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁও-ঈদগড় ও খুটাখালীতে এভাবে চলছে মোবাইলে চাঁদাবাজি।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন এরকম চাঁদাদাবির একাধিক (জিডি) থানায় হচ্ছে। তবে এধরণের বিষয়টি তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর আহবান পুলিশ কর্মকর্তাদের।