Advertisement

নিজামীর মামলার রায় যেকোনো দিন

জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পাল্টা যুক্তিতর্ক শেষ করে রায়ের জন্য অপেক্ষমান(সিএভি) রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার বিকালে প্রসিকিউশনের লিগ্যাল পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রথম ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

আজ রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ, সৈয়দ হায়দার আলী ও মোহাম্মদ আলী। আজ প্রসিকিউশন কিছু ডকুমেন্ট ট্রাইব্যুনালে দাখিল করলে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এতে আপত্তি জানান। তাজুল এ বিষয়ে আগামীকাল দুই ঘণ্টা শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে দেন।
যুক্তি উপস্থাপন শেষে প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়ে নিজামীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি। আশা করছি নিজামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।
অন্যদিকে আসামিপেক্ষর আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, নিজামীর বিরুদ্ধে আনিত একটি অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। যেসব ডকুমেন্ট প্রসিকিউশন দাখিল করেছে এতে মাওলানা নিজামীকে ১ মিনিটের সাজা দেওয়া সম্ভব নয়। মাওলানা নিজামী এ মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন বলে তাজুল আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ১৩ নভেম্বর মাওলানা নিজামীর পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীরা আদালতে না আসায় মামলার রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে মর্মে অপেক্ষমাণ রেখে দেন ট্রাইব্যুনাল।
এরপর ১৪ নভেম্বর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ফের যুক্তি উপস্থাপনের সময় দেন। আসামিপক্ষ গত তিন দিন যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এর আগে ৩ থেকে ৬ নভেম্বর প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।
মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৬ আগস্ট থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রসকিউিশনরে সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মুক্তিযোদ্ধা, অধ্যাপক, সাংবাদিক, ইতিহাসবিদসহ মোট ২৬ জন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ১৬টি অভিযোগ এনে গত বছররে ২৮ মে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উসকানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মোট ১৬টি ঘটনায় এ অভিযোগ আনা হয়।