Advertisement

এরশাদের নাটকীয়তা ও পূণর্গঠিত মন্ত্রীপরিষদ : বিশিষ্টজনের প্রতিক্রিয়া


ইমাম খাইর, কক্সবাজার : দেশে রাজনীতির মাঠে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় সৃষ্টিকারী নেতা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পতিত স্বৈর শাসক হুসেইন মু. এরশাদের মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা, বিশেষ জোট গঠন প্রক্রিয়া এবং পূণর্গঠিত মন্ত্রীপরিষদের যোগদানের খবরে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এসব প্রতিক্রিয়ার অধিকাংশই এরশাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। একেক সময় একেক রকম রহস্যঘেরা বক্তব্যে দিয়ে সাবেক এ প্রেসিডেন্ট দেশের প্রচার মাধ্যমে প্রায় শিরোনাম হয়েছেন অনেকবার। সর্বশেষ সোমবারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দেশের রাজনৈতিক সচেতনমহলে এরশাদের অবস্থান সম্পর্কে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সরকারী দল এটিকে ইতিবাচক ও গণতন্ত্রবান্ধব মনে করলেও অনেকেই বলেছেন, দীর্ঘ দিন পরে নাটকীয় এ সিদ্ধান্ত এরশাদকে ইতিহাসের ঘৃণিত অবস্থানে নিয়ে গেছে। প্রকাশিত হয়েছে এরশাদের দ্বি-মুখী আচরণের বাস্তব চেহারা। যদিওবা এরশাদ দীর্ঘদিন ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেনা, হাসিনার সাথে বেহেস্তে যাবেনা, সব দল ছাড়া নির্বাচনে গেলে জনগণ তাকে থুথু দেবে, পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বেঈমান হয়ে মরতে চাননা ইত্যাদি বক্তব্য দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকেছেন। সর্বশেষ সোমবারের ঘোষিত সিদ্ধান্তে নিজের বিষয়ে দেশবাসীকে স্পষ্ট করলেন এরশাদ। এ নিয়ে জেলার রাজনৈতিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবে দেশ -এড. একে আহমদ হোসাইন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. একে আহমদ হোসাইন বলেন, এরশাদের নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত ও পূনর্গঠিত মন্ত্রীপরিষদের মাধ্যমে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবে দেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা পূণর্গঠিত মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় দেশ স্থিতিশীলতা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে এগিয়ে যাবে। শাসনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে যথাসময়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করা হবে। এ জন্য সরকার ধৃড় প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, বিরোধীতাকারী লোকের অভাব নেই। দেশে শত উন্নয়ন সত্ত্বেও শুধু বিরোধীতার খাতিরে তারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড চোখে দেখেননা। বিরোধীদলসমূহের বিরোধীতার মাঝেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের আলোকে নির্বাচন করে তার পিতার মতো আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। অক্ষুন্ন রাখবেন সাংবিধানিক ধারা। তবে তিনি এও বলেন যে, বিএনপি অস্তিত্ব রক্ষার্থে অবশেষে নির্বাচনে যাবে। ১৪ দলীয় মহাজোট সরকারের রঙ বদল - শাহজাহান চৌধুরী কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, পূনর্গঠিত মন্ত্রীসভা কোন সর্বদলীয় সরকার নয়। এটি মূলত ১৪ দলীয় মহাজোট সরকারের রঙ বদল মাত্র। তাদের কাছে দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান কোন দিন সুরক্ষা হবেনা। শাহজাহান চৌধুরী আরো বলেন, এরশাদ একজন দালাল প্রকৃতির লোক। রাজনীতির মাঠে তাকে পরিমাপ করা দায়। সে সকালে এক কথা আর বিকালে অন্য কথায় দেশবাসীর কাছে হাসির পাত্র হয়ে গেছে। গৃহপালিত বিরোধীদল তৈরীর জন্য এরশাদ নির্লজ্জ এ কাজ করেছে। তাছাড়া জীবনের শেষ সময়ে হলেও দু’য়েকটি মন্ত্রণালয় পাওয়ার জন্য এরশাদ এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। পূণর্গঠিত মন্ত্রীপরিষদ আওয়ামীলীগের আইওয়াশ -এমপি কাজল কক্সবাজার সদর-রামু আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, পূণর্গঠিত মন্ত্রীপরিষদ সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীপরিষদ নয়, এটি মহাজোটের মন্ত্রীসভা। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এটি আওয়ামীলীগের বিশেষ আইওয়াশ মাত্র। এরশাদ প্রসঙ্গে এমপি কাজল বলেন, এরশাদের কথার কোন স্থায়ীত্ব নেই। একটি দলের প্রধান হয়ে তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তির মতো আচরণ করেননি। ভারসাম্যহীন আচরণে এরশাদের রাজনৈতিক দেওলিয়াত্বপনা প্রমাণিত হয়েছে। তার কথার উপর জনগণের কোন আস্তা নেই। এরশাদের ঘোষণা আতœপ্রতারণা - মু. শাহজাহান জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা আমীর মু. শাহজাহান বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসাবে এরশাদের নিত্য দিনের দ্বি-মূখী আচরণ এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণে তার নৈতিক অবস্থান শুন্যের কোটায়। জাতীর এটি খুবই অনাকাঙ্খিত। এরশাদ মহাজোট ছাড়ার ঘোষনা দিয়ে তথাকথিত সর্বদলীয় সরকারে যোগদান আতœপ্রতারণা ছাড়া অন্য কিছুই নয়। বাংলাদেশের রাজনীতি যতদিন পর্যন্ত এরকম সুবিধাবাদী ও স্বার্থপর নেতার কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেনা ততদিন জাতীর ভাগ্য পরিবর্তন হবেনা। জামায়াত নেতা বলেন, সর্বদলীয় সরকারের কোন কনসেপ্ট আওয়ামীলীগের একতরফা সংবিধান সংশোধনীতেও স্থান পায়নি। এরপরেও সংবিধান লঙন করাকে অপরাধ মনে করছেনা আওয়ামীলীগ। যা জাতীর জন্য খুবই লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা মু. শাহজাহান বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়া নির্বাচন হলে তা দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবেনা। দেশের বৃহৎ জোটকে বাদ দিয়ে প্রহসনমূলক নির্বাচন আয়োজন গণতন্ত্র পরিপন্থি। দেশপ্রেমিক জনতা সর্বশক্তি দিয়ে এ নির্বাচন প্রতিহত করবে। এ ছাড়া সমঝোতার পথ বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগ যদি নির্বাচনের দিকে এগুয়, তাহলে জাতী ধরে নেবে তারা আবার বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করতে চায়। গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের শান্তি-নিরাপত্তার স্বার্থে একগুয়েমী আচরণ ও ক্ষমতা লোভের রাজনৈতিক অপ-সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সমঝোতার পথে এগুলেই দেশের শান্তি ও কল্যাণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশটা-তো কারোর একা নয় - ফজলুল কাদের চৌধুরী এরশাদের নতুন ঘোষণা ও পূণর্গঠিত মন্ত্রীপরিষদ সম্পর্কে সুশীল সমাজ নেতা প্রবীন সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, দেশটা-তো কারোর একা নয়। সংঘর্ষ-সংঘাতের উর্ধে উঠে রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশের সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয় হওয়া উচিৎ। বিরোধী দলকে বাদ দেয়ার নজির বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের কোন দেশে নেই। এভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারেনা। যদি এ ধারা অবাহত থাকে দেশে ব্যাপক সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতেকরে ভিন দেশীদের হস্তক্ষেপে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভোমত্ব চরমভাবে ক্ষুন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন।