দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শিগিরই নতুন রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানীর কার্যালয়ে এক সভা থেকে তিনি সাংবদিকদের এ কথা জানান।
আগের রাতে বিকল্প ধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের(জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা।
ওই বৈঠকের কথা তুলে ধরে ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শরিক নেতা এরশাদ বলেন, “আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছি। অচিরেই নতুন জোটের ঘোষণা আসবে।”
মহাজোট ছাড়ছেন কি না- সে ঘোষণাও দুয়েকদিনের মধ্যে দেবেন বলে এরশাদ জানান।
একই অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বুধবার সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরীর বাসায় বৈঠকে এই চার দলের নেতৃত্বে ‘তৃতীয় রাজনৈতিক জোট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
“আমরা শিগগিরই এ জোটের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেব।”
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বাইরে সম্ভাব্য নতুন এই জোটে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামও থাকবে বলে রুহুল হাওলাদার জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াতে ইসলামীবিরোধী ইসলামী দলগুলোও এই জোটে যোগ দেবে।
“সব দল নির্বাচনে না আসলে সে নির্বাচন হবে মূল্যহীন। জনগণের কাছে তা কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। তাই সব দল না আসলে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না।
সাবেক এই সামরিক শাসকের ভাষায়, দেশের জন্য দুই নেত্রীর কোনো ‘মমতা’ নেই।
“এরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দুই দলই অভিশাপ। এই দুই রাহুর হাত থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে হবে।”
বর্তমানে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দলে থাকা বিএনপির নেতৃত্বে গণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই ঊনিশশ নব্বইয়ের দশকে এরশাদের নয় বছরের স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছিল।
তিনি বলেন, “এ দল ও দল হবে না। এবার হবে ‘আমরা’ দল। দুই দলের অশুভ চক্রকে ভাঙতে হবে। সুযোগ এসেছে, সে সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।”
এরশাদের সঙ্গে সম্ভাব্য জোটে যারা থাকছেন, তাদের মধ্যে বিকল্প ধারার বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপি আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০০২ সালে দলের চাপে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
আর কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হলেও ১৯৯৯ সালে দল ছেড়ে এমপি পদ হারান।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ছাত্র সমাজে যোগদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরশাদ তাদের বরণ করে নেন।
