সরকারের ৪৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন হয়েছে।
‘সার্ক এইচআইভি এইডস মাদক বার্তা’ নামে একটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদক মো. আব্দুল খালেক মনির পক্ষে আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বৃহস্পতিবার এই রিট দায়ের করেন।
৪৫ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদকে রিটে বিবাদি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র দেয়ার পরও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদে তাদের দায়িত্ব পালন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে রুল চেয়েছেন আবেদনকারী।
একইসঙ্গে ওই পদে তাদের দায়িত্বপালন না করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতেও আদেশ চাওয়া হয়েছে।
রিটে বলা হয়, গত ১১ নভেম্বর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। কোনো মন্ত্রী রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে লেখা পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিলেই তা কার্যকর হয়ে যাবে। তাই তারা আর ওই পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইট অনুসারে দেশে ৫০জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকলেও রিটে বিবাদি করা হয়েছে ৪৫ জনকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনুস আলী বলেন, “বাকিদের নাম পাইনি। তাই আপাতত যুক্ত করা হয়নি। শুনানির সময় পাওয়া গেলে তা দেয়া হবে।”
মন্ত্রিসভার সদস্যরা গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেন, যার মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন ‘সর্বদলীয়’ সরকার গঠনে মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে বিএনপিসহ কয়েকটি মহল থেকে দাবি করা হয়, সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে তিনটি উকিল নোটিসও পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে।
এর প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মন্ত্রিসভার সদস্যরা শুধু পদত্যাগের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন; রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে তবেই তা কার্যকর হবে।
এর আগে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট হয়, যা ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট।
ওই রিটে রেলমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করে রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে রুল চেয়েছিলেন আইনজীবী তুহিন মালিক।
একইসঙ্গে ওই পদে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বন্ধের জন্য তিনি আদালতের অর্ন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা চান।
ওই রিটের শুনানিতে তুহিন মালিক বলেছিলেন, সংবিধান অনুসারে কোনো মন্ত্রী পদত্যাগ করলে তা গ্রহণ না করার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই।
তিনিই মন্ত্রীদের পদে থাকার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বুধবার আবারো উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন, যাতে মন্ত্রীদের ‘কাজ করছি না,’ মর্মে বিবৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তা না হলে ‘আইনি ব্যবস্থা’ নেয়া হবে বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
