-সাদমান সাকিল :
খুব সুন্দর একটি সকাল । পুব দিগন্তে উঠেছে রক্তিম সূর্য। এই সময় একটি শিশু কি করবে? সম্ভবত সবাই বলবে হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা করে স্কুলের উদ্দেশ্য রওনা দিবে । কিন্তু যে শিশু এই সময় স্বীয় পেটে আহার যোগানোর কথা ভেবে
কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার উদগ্রীবতায় থাকে তার কথা কী কেউ ভেবে দেখে? যদি কেউ বলেন, হ্যাঁ, তাদের কথাও আমরা ভাবি । যদি মানুষ সেসব দরিদ্র শিশুদের চিন্তা সত্যিই করে থাকে তাহলে তাদের অধিকারের এই বেহাল দশা কেন? গরিব বলে কি তাদের মানবাধিকার থাকবে না?খুব সুন্দর একটি সকাল । পুব দিগন্তে উঠেছে রক্তিম সূর্য। এই সময় একটি শিশু কি করবে? সম্ভবত সবাই বলবে হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা করে স্কুলের উদ্দেশ্য রওনা দিবে । কিন্তু যে শিশু এই সময় স্বীয় পেটে আহার যোগানোর কথা ভেবে
শিশু মাত্রই শিশু । হোক সে ধনী কিংবা গরীব । তার আছে শিক্ষিত হওয়ার অধিকার । আছে আদর-যতœ, স্নেহ-মমতা ও ভালবাসা পাওয়ার অধিকার । কিন্ত সাগরতীরের যে সব শিশুরা পেটের ক্ষুধা নিবৃত্তির আশায় ভিক্ষাবৃত্তি করে তারা কি সে সব অধিকার পাচ্ছে? যদি বলেন পাচ্ছে না, তাহলে কীভাবে আপনি বলবেন তাদের কথা আপনি ভাবছেন । যেই বয়সে তাদের উচিত ছিল পাঠশালায় শিক্ষা গ্রহণ করার, কিন্তু সেই বয়সে ২-১টি টাকা পাওয়ার আশায় তারা হাত পাতে সচ্ছলদের কাছে । কিন্তু তাদের সারা দিনের ভিক্ষাবৃত্তিতে পাওয়া অর্থের গুরুভাগের ভাগি হয় তাদের কর্তাবেশী গডফাদাররা । সেই সব শিশুদের থাকতে হয় অনাহারে ও অর্ধাহারে । বিভিন্ন মাদকব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের চোখে পড়ে যায় তারা । সেই সব শিশুদেরকে ব্যবহার করা মাদকপাচারে । মাদকের ছোয়া পেয়ে সেসব শিশুরা ছোট বয়স থেকে হয়ে পড়ে মাদকাসক্ত । পর্যায়ক্রমিকভাবে মাদকের টাকা যোগানোর জন্য তারা লিপ্ত হয় চুরির মত নানা ধরণের অপরাধকর্মে । এই সব কুকর্মের মদদদাতা হল মাদকব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা । পরবর্তী যখন শিশুটি বড় হয়ে কিশোরের পর্যায়ে উপনিত হয় সেই সময়ে তারা হয়ে যায় ছোটখাট ছিনতাইকারী । আরো পরে কুখ্যাত সন্ত্রাসী কিংবা বড় বড় অপকর্মের হোতা হয়ে যায় তারা। এইভাবে একটি চক্র পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয় সেই সব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিবারে । দরিদ্র পরিবারসমূহের মধ্যে আর্বিভূত হয় একের পর এক সন্ত্রাসী । কিন্তু এই সব কিছুর জন্য দায়ী কে? দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ঐ সকাল নয় কি? যে সকালে সে শিশুরা পড়েছিল দারিদ্রের কষাঘাতে । যে সকালে তারা যেতে পারে নি পাঠশালায় । যে সকালে তারা গ্রহণ করতে পারে নি মানবীয় মূল্যবোধের অমূল্য শিক্ষা ।
সচ্ছল পরিবারের সদস্যরা সব সময় চিন্তিত থাকে তাদের সন্তানদের নিয়ে । মুক্তিপণ আদায়ের জন্য কখন কে ছিনতাই করে নিয়ে যায় তাদের আদরের সন্তানটিকে এই ভয়ে থাকেন তারা। সব সময় তারা ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায় ।
সারা জীবন তাঁদের অবস্থান থাকে সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে । আইনের আশ্রয় নিয়ে সন্ত্রাসীদের হেনস্তাও করেন তারা । সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে বজ্রকন্ঠে ভাষণও দেন জনসভায় । গঠন করেন সন্ত্রাসবাদ নির্মূল কমিটি । কেউ কেউ বের হন সন্ত্রাস বিরোধী মিছিলে । উনাদের মধ্যে কেউ কেউ দাড়ান “অমুক সন্ত্রাসীর অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসিচাই” শীর্ষক মানবন্ধনে । আবার সে সব সচ্ছলএলাকায় সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে নানা পোষ্টার-ব্যানার-ফেস্টুনও দেখা যায় । এই সব সচ্ছলেরা প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের আশায় মগ্ন থাকেন । অপর দিকে দেখা যায়, ভিখারীবৃত্তি ও শিশুশ্রমে নিয়োজিত পথশিশুদের ধিক্কারও দেয় ঐ সচ্ছলসমাজ। তাদের অন্নসংস্থানের কথা একটু চিন্তাও করে না তারা। বরং তারা দরিদ্র জনগোষ্ঠির উপর নানাভাবে চালাতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন । নিজেদের ছেলে- মেয়েদের শিক্ষাক্ষেত্রে তিল পরিমাণ হেলাফেলে করে না তারা । লাখ লাখ টাকা খরচ করেন নিজের পরিবারেরর সুখ ও সমৃদ্ধির আশায় । কিন্তু দরিদ্রছেলেমেয়েদের পড়ালেখার ভার নিতে তারা নারাজ । নিস্পাপ দরিদ্রশিশুর মুখে এক মুটো ভাত তুলে দিতে সচ্ছলসমাজ তিল পরিমাণ চিন্তাও করে না । তারা সবসময় স্বীয় চিন্তা ও স্বীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যস্ত থাকে । কিন্তু একটা কথা কি তাদের মণে একটুও উকি দেয় না, যে সন্ত্রাসীদের হেনাস্তা করার উদ্দেশ্যে তারা প্রতিনিয়ত ঘাম ঝরায় তারা এই পথে কেন ধাবিত হচ্ছে । শিশুকাল থেকে শিক্ষা ও অন্নাভাবে তারা এই পথে ধাবিত হয়েছে । যদি সচ্ছল সমাজ ঐ নিস্পাপ শিশুদের শিক্ষা ও অন্নের যোগান দিত তাহলে তারা পরিণত বয়সে সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হত না । তাই সন্ত্রাস বাদ, মাদক ও সকল ধরণের কুকর্মের সামগ্রিক প্রতিরোধ সাধনের জন্য সচ্ছল সমাজের উচিত দরিদ্রশিশুদের অন্নসংস্থান করা ও তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলার চেষ্টা করা । সুন্দর সকালে যেদিন সচ্ছল সমাজ তাদের নিজ নিজ সন্তানদের সাথে দরিদ্র শিশুদের নাস্তা করিয়ে স্কুলে পাঠাবে সেই দিনই নিশির নিরাপত্তাহীনতার ভয় এ ধরণীর থেকে অসীমে গমন করবে । সকাল,দুপুর, সন্ধ্যা ও রাত সব সময় মানুষ থাকবে সুন্দর পরিবেশে । যেদিন থেকে কোন অনাহারী-অর্ধাহারী থাকবে না সেদিন থেকে বিলুপ্ত হবে সব হাত পাতাপাতি, সকল সন্ত্রাস বাদ ও সকল কুকর্ম । তাই সচ্ছল সমাজের দৃঢ়চিত্তে এই শপথ নেওয়া উচিত,
“ভেদাভেদ সব ভুলে গিয়ে…………………….
শিশুর মুখে অন্ন দিয়ে………………………….
শিক্ষার অসীম সুযোগ দিয়ে……………………
এগিয়ে যাব সবাই মোরা সুন্দর একটি সমাজ নিয়ে।”
লেখকঃ
সাদমান সাকিল
শিক্ষার্থী,একাদশ শ্রেণী, ১ম বর্ষ , বিজ্ঞান শাখা ।
কক্সবাজার সরকারী কলেজ ।
সাদমান সাকিল
শিক্ষার্থী,একাদশ শ্রেণী, ১ম বর্ষ , বিজ্ঞান শাখা ।
কক্সবাজার সরকারী কলেজ ।
নয়ন কক্স নিউজ ডট কম কক্সবাজার। ফোন: +৮৮ ০১৮১২০২৪০৮০
