মিজবাউল হক, চকরিয়া: এবার চকরিয়া-পেকুয়া আসনটি আওয়ামীলীগ পুনরুদ্ধার করতে চায়। হারানো আসনটি উদ্ধারে মরিয়া হয়ে কাজ করে যাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে বিরামহীনভাবে কাজ করছে। এবারে জেলার ৪টি আসনের মধ্যে এই আসন থেকে সর্বোচ্চ ৯জন প্রার্থী মনোয়নপত্র নিয়েছেন। তারা জমাও দিয়েছেন। প্রত্যেকেই দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদি বলে জানান। ওই আসনটি ঘিরে আওয়ামীলীগের মধ্যে একাধিক প্রার্থী থাকলেও শেষ মুহুর্তে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন ? এনিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। দলে যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে একযোগে কাজ করারও ঘোষণা দেন মনোনয়ন প্রত্যাশারী। ইতোমধ্যে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংসদ সাফিয়া খাতুন এমপি, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম এমএ, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, জেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নুরুল আবচার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, জেলা আ’লীগ সদস্য লায়ন কমরুদ্দিন আহমদ ও যুক্তরাজ্য বঙ্গবন্ধু পরিষদের আইন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সজিব। তবে ৯জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দুই হেভিয়েড প্রার্থী। তারা হলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি এবং জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম এমএ। এ দুই নেতার এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকায় আওয়ামীলীগ সভানেত্রী নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কাউকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কক্সবাজার জেলার তৃণমূলের নেতাদের মতবিনিময়কালে প্রার্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতাই বাকি বলে দলের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানিয়েছেন। উল্লেখ, ১৯৭৩ সালে এ আসনে আওয়ামীলীগের ডাঃ শামশুদ্দিন চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপরে এ আসনটি আওয়ামীলীগের হাতছাড়া হয়ে য়ায়। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল করিম চৌধুরী, ১৯৮৬ সালের ৭ মে’র নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ.এইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, ১৯৮৮ সালের জুনে অনুষ্টিত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ.এইচ সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এনামুল হক মন্জু, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বি.এন.পি’র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে বি.এন.পি’র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে বি.এন.পি’র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্ববরের নির্বাচনে বি.এন.পি’র যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী বি.এন.পি’র প্রার্থী এ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন