Advertisement

গরীব মানুষের জন্য পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক : গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সফল অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণী এবং এ প্রকল্পের উপকারভোগীদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন পদ্ধতি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বুধবার এ কথা জানান তিনি।
গ্রামের প্রতিটি দরিদ্র পরিবাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে এর আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প শুরু করলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এ প্রকল্প আবার চালু করার পর ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৩০০ গ্রামের দশ লাখ ৩৮ হাজার পরিবারকে এক হাজার ৩৩২ কোটি টাকার তহবিল গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী খুলনার বেগম দণিকা মিস্ত্রী ও আব্দুল গণি মাতবর এ প্রকল্পের জন্য একটি বিশেষায়িত ব্যাংক গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ দিকে এ ব্যাংকের বিষয়টি উল্লেখ করলে উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে ওঠেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি তো এখনো ঘোষণা দিইনি। দেখেন কি বলি।”
তারপর, শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা মনে করি, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প দ্রারিদ্রতা হ্রাসের পথ দেখাচ্ছে, সেখানে পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক হওয়া দরকার।”
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, এই ব্যাংক হবে গরীব মানুষের জন্য।
“এটা নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে এজন্য অর্থমন্ত্রণালয়কে বোঝাতে হবে। কারণ এটা নতুন কনসেপ্ট।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং প্রবাসী ব্যাংক করেছি। দারিদ্র্য দূর করে আমরা মানুষকে উন্নত জীবন দেব।”
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রতিটি উপজেলায় এই পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এ ব্যাংকের মালিক হবেন গ্রামের দরিদ্র জনগণ। এ ব্যাংক থেকে যে মুনাফা আসবে তার পুরাটাই সদস্যরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁসের’ গল্প মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “একটি বাড়ি একটি প্রকল্পকে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। হটাৎ বড়লোক হওয়ার চিন্তায় একে যেনো ধ্বংস করা না হয়।”
শেখ হাসিনার মতে, ‘একটু’ সফল হওয়ার পর অনেকেই ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতো’ সমবায় থেকে সব নিয়ে নেয় বলেই সমবায় আন্দোলন সাফল্য পায়নি।
“সমবায় ছাড়া উৎপাদন বাড়াতে পারব না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন আনতে পারব না। হটাৎ বড়লোক না হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হতে হবে।”
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আরো যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এটা সম্পূর্ণ আমার চিন্তা থেকে। দেখেন এটা যেনো ধ্বংস না হয়।”
সরকারপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামের প্রতিটি পরিবার দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি পাবে, উন্নত জীবন পাবে।
এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সফল অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাদারীপুরের তসলিমা বেগম ও চুয়াডাঙ্গার আলী হোসেন শ্রেষ্ঠ উপকারভোগী; খুলনার দণিকা মিস্ত্রি ও শরিয়তপুরের গণি মাতবর শ্রেষ্ঠ ম্যানেজার, ঝিনাইদহের জোলখা বেগম ও সাতক্ষীরার মিজানুর রহমান শ্রেষ্ঠ সভাপতি; যশোরের রত্না রায় ও ঝিনাইদহের রাশেদুল হক শ্রেষ্ঠ মাঠ সংগঠক; রংপুরের লেবু মিয়া শ্রেষ্ঠ উপজেলা সমন্বয়কারী; যশোরের শাহানারা বেগম শ্রেষ্ঠ পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা; পাবনার রায়হান উদ্দিন শ্রেষ্ঠ উপজেলা কর্মকর্তা, নরসিংদীর ইউনিস আলী ভূইয়া শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান; নারায়ণগঞ্জের ফারহানা কাওনাইন শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পুরস্কার পান।
১২ ক্যাটাগরিতে মোট ১৯ জনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের সচিব এম এ কাদের সরকারের সভাপতিত্বে প্রকল্প পরিচালক প্রশান্ত কুমার রায় অনুষ্ঠানে ‘একটি বাড়ি একটি ফামার’ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে তুলে ধরেন।