Advertisement

জেলায় বেপরোয়া চাঁদাবাজি ঃ রাতের অন্ধকারে অস্ত্র মহড়ায় সন্ত্রাসীরা


এম.আমান উল্লাহ
কক্সবাজার জেলার ঈদ ও চাঁদাবাজি একটি আরেকটির পরিপুরক। প্রতিবারের মতো এবারের ঈদেও কক্সবাজারসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। সড়ক থেকে শুরু করে মহাসড়ক,
ফুটপাত, মার্কেট-শপিংমল, কাঁচাবাজার, লঞ্চঘাট,বাস টার্মিনাল সর্বত্রই চলছে এই লাগামহীন চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ছিঁচকে থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী। পুলিশ ও রাজনৈতিক ক্যাডাররাও পিছিয়ে নেই। পুলিশ, পৌরসভার কিছু অসাধু কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের ক্যাডার এই তিন পক্ষ মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে কক্সবাজার শহরের ফুটপাতগুলোকে চাঁদাবাজির আওতায় এনেছে প্রকাশ্যেই। কক্সবাজার শহরের এলাকাভেদে তিন-চার হাত দৈর্ঘ-প্রস্থের ফুটপাত বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায়। যেন হাওয়ায় উড়ছে টাকা। এছাড়া এসব ফুটপাতে বসানো অস্থায়ী দোকানদারদের প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। এদিকে কস্তুরা ঘাট ও ৬নাম্বার ঘাটে চলছে তুঘলকি কাণ্ড। ঘাট শ্রমিকের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে যাত্রীরা। মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না নুন্যতম নিয়ম। ঈদ বকশিশের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফোনেও চাঁদা দাবি করছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদার টাকা দেয়া না হলে দেয়া হচ্ছে হত্যা ও অপহরণের হুমকি। ফোনে হুমকি পেয়ে আতংকগ্রস্ত অনেক ব্যবসায়ী চাঁদা পরিশোধ করেছেন বলেও খবর রয়েছে। তবে চাঁদাবাজির সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ দেখা যাচ্ছে শহরের মহাসড়কগুলোয়। পরিবহন শ্রমিকরা বিশেষত পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবলীলায় তুলছে চাঁদা। এ যেন এক প্রতিষ্ঠিত অরাজকতা। ঈদের আগে চাকা ঘুরলেই দিতে হবে টাকা এটাই যেন নিয়ম। জেলাব্যাপী চাঁদাবাজি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যে, রোববার হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পর্কে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এজন্য পুলিশের মহাপরিদর্শককে ৭২ ঘণ্টার সময় দেয়া হয়েছে। আমরা বেশ ভালো করেই জানি, হাইর্কোটের নির্দেশনার একটা দায়সারা গোছের জবাব দেবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। কাজের কাজ কতটা হবে তা অনুমান করা যায় সহজেই। আসলে চাঁদাবাজি, বিশেষত ঈদ-চাঁদাবাজির যে ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা, তা হাইকোর্টের স্বপ্রণোদিত রুল জারির মাধ্যমে নিরসন সম্ভব নয়। এজন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সরকার তথা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদিচ্ছা। দায় রয়েছে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতাদেরও। পরিবহন শ্রমিক নেতাদের অনেকেই স্রেফ চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটিপতি বনে গেছেন। এ তথ্য পুলিশসহ সার্বিক প্রশাসন জানেও। অথচ এই শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। আসলে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও সংগৃহীত চাঁদার ভাগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং তারা যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবেন না, এটাই স্বাভাবিক। বস্তুত প্রয়োজন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনার। সরকার ইচ্ছা করলেই অন্তত প্রকাশ্য চাঁদাবাজিগুলো বন্ধ করতে পারে। মহাসড়কের চাঁদাবাজি, বাস-লঞ্চ টার্মিনালের চাঁদাবাজি ইত্যাদির সঙ্গে জড়িতদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। বস্তুত তারা শনাক্ত হয়েই আছে। দরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। অপ্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধেও তৎপর হতে হবে আইন-শৃংখলা বাহিনী, বিশেষত পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে।

Post a Comment

0 Comments