প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চকরিয়ায় জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও বিশাল ইফতার মাহফিল গতকাল শুক্রবার আমজাদিয়া মাদরাসা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক
গোলাম মোস্তফা কাইছারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বরেণ্য আলেমেদ্বীন অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রহমান আযাদ। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী উপজেলা উত্তরের আমীর মাওলানা ছাবের আহমদ, উপজেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ হেদায়াত উল্লাহ, চকরিয়া উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিক, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আরিফুল কবির, কক্সবাজার শহর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এবং সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল্লাহ আল ফারুক ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আজিজুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আবু তালেব চৌধুরী, জামায়াত নেতা ডাঃ সরওয়ার আলম, আবদুল্লাহ বাহাদুর, ইব্রাহিম রাজা ইবু, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আসহাব উদ্দিন আসাদ, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন সভাপতি হোবাইব আজম, কলেজ সভাপতি মাহমুদুল করিম, ছাত্রনেতা শাহাদাত হোছাইন প্রমুখ। বিশাল ইফতার মাহফিলে বক্তারা বলেন, মাহে রমজান হলো মুসলমানদের জন্য সিয়াম সাধণার মাস। এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলই প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক কর্তব্য। আ’লীগ সরকার রমজান মাসের সম্মানকে বারংবার ভূলুণ্ঠিত করে চলেছে। তাৎপর্যপূর্ণ মাসটিতে যেখানে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করে কাটানোর কথা, সেখানে জুলুমবাজ সরকার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের নামে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ডাকসুর সাবেক জিএস ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সফল মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজানো রায় দিয়ে জাতিকে সংঘাতময় পরিস্থিতির দিয়ে দিকে ধাবিত করেছে। অন্যদিকে ফাঁসির রায় দিয়ে কারাগারের অন্ধকারের প্রকোষ্টে মানসিক যন্ত্রণায় আটকে রাখা হয়েছে বিশ্ব বরেণ্য আলেমেদ্বীন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে। একইভাবে ইসলামী নেতৃবৃন্দদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বছরের পর বছর কারাগারে আটক করে রেখে আ’লীগ সরকার বিদেশী প্রভূদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসেও দেশের সোনার মানুষগুলোকে মুক্তি না দিয়ে কথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের নামে কারাগারে আটকে রেখে অমানবিক আচরণ করে চলেছে। শুধু তা নয়, কুরআন নাযিলের মাসে কুরআন প্রেমিক প্রখ্যাত ব্যক্তিদের ফাঁসির রায় দিয়ে হত্যা ষড়যন্ত্র ও বিনা অজুহাতে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে দেশকে সহিংস পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়ারও ষড়যন্ত্র চলছে। বক্তারা আরো বলেন, ইসলামের জাগরণ শুরু হয়েছে। দুনিয়ার কোন শক্তি নেই এ জাগরণকে দমিয়ে রাখার। আজকে তারা সংবিধান থেকে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়েছে। এসরকার দেশ পরিচালনায় সম্পুর্ণ ব্যর্থ। ঘটছে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। বক্তারা বলেন, যতদিন আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠা হবেনা ততদিন মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবেনা। জামায়াতে ইসলামী সেই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য শান্তিকামী মানুষের প্রতি আহবান করে। আজকে আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস স্থাপনের কারণে বাকশালী সরকার সেই দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নিবেদিত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধণ বাতিল করেছে। আ’লীগ সরকার মনে করেছে নিবন্ধন বাতিল করে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা যাবে। ইনশা’আল্লাহ জনতার গণ আন্দোলনে আওয়ামী সরকার ক্ষমতার পালবদল রীতি ঠেকাতে পারবেনা। এধরনের অপচেষ্টা বাংলাদেশের ইসলামপ্রিয় জনগণ জীবন বেচে থাকতে বরদাস্ত করবেনা। সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সময় থাকতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিন। জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নেতৃবৃন্দদের মুক্তি দিন। ইসলামপ্রিয় আল্লাহর দ্বীনের সৈনিকেরা সরকারি পেটোয়া বাহিনীর রক্তচক্ষু ও বুলেট বোমার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত নয়। পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বৃষ্টির মতো গুলীবর্ষণ করে এদেশের তৌহিদী জনতার আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবেনা। হয় অবিলম্বে কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, নচেৎ তৌহিদী জনতার গণ আন্দোলনে আটক নেতাদের মুক্তি করেই জালিম সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে। নেতৃবৃন্দ, সর্বস্তরের ইসলামপ্রিয় জনতাকে সাহসিকতার সাথে ধৈর্য্য ধারণের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া ও যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান।

0 Comments