প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির আত্মসামাজিক উন্নয়নের জন্য আয়বর্ধনমূলক প্রকল্প হিসেবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার। গতকাল শনিবার(২৭ জুলাই) বিকালে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কের ‘আরডিএফ’ ভবনে এ কম্পিউটার কোর্সের উদ্বোধন করা হয়। কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ও আরডিএফ এর পরিচালক ক্য থিং অং এর সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠিত সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আবদুর রউফ, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট একে আহমদ হোসেন, টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাহ মোজাহেদ উদ্দিন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মনিরুল আলম চৌধুরী, দৈনিক সমুদ্রবার্তার সহকারী পরিচালক কামাল উদ্দিন, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, আরডিএফ এর পরিচালক ক্য চিং মং ওয়েন মেম্বার, রাখাইন নেতা অং ক্য চিং, জাতীয় মহিলা সংস্থার নেত্রী ইমারী, উ খ্যাই চিং, থোঁ ঞো, উচহ্লা, কা কা রাখাইন প্রমুখ। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাজি মোঃ আবদুর রহমান সভা পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানের আগে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার ফিতা কেটে কম্পিউটার সেন্টারের উদ্বোধন করেন। এসময় প্রধান অতিথির স্ত্রী তৌফিকা আহমদও উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কাজি মোঃ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৪টি ব্যাচে ২০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিতে পারবে কম্পিউটার কোর্সে। প্রশিক্ষণ ভবনটিকে ইতোমধ্যেই ওয়াইফাই জোন হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জেলার রামুতে নবনির্মিত ও সংস্কার হওয়া বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহা পরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার। শনিবার বিকেলে রামুতে পৌঁছে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন মন্দিরের সংস্কার ও নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় কবির বিন আনোয়ার রামুতে কেন্দ্রীয় সীমা বিহার, উত্তর মিঠাছরি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্র, রামু মৈত্রী বিহার, লাল চিং, সাদা চিং, অপর্নাচরণ বৌদ্ধ বিহার, উসাই সেন বৌদ্ধ মন্দির ঘুরে পুনরায় নির্মিত ও সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বৌদ্ধ মন্দির উদ্বোধন করতে রামুতে আসবেন।’
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে ১৭ ইসিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল জুলফিকার রহমান, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবুল কালাম, রামু থানার ওসি আপ্পেলা রাজু নাহা, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ট্রাষ্টি সুপ্ত ভূষন বড়ৃয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মন্দির পরিদর্শনকালে রামু কেন্দ্রীয় সীমা বিহারের অধ্যক্ষ পন্ডিত ভদন্ত সত্যপ্রিয় মহাথেরসহ বৌদ্ধ নেতারা স্বল্প সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধ মন্দিরের সংস্কার করায় সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উগ্রবাদীরা রামুর বৌদ্ধ বিহার ও পল্লীতে হামলা চালায়। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মূল্যবান বুদ্ধের পবিত্র ধাতু ও তাল পাতায় লিখা হাজার বছরের প্রাচীন পবিত্র গ্রন্থ ত্রিপিটক ধ্বংস হয়ে যায়।
এছাড়াও সেখানকার ১২টি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির এবং বৌদ্ধ পল্লীতে আগুন দিয়ে লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী সেনা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নতুনভাবে এসব বৌদ্ধ বিহারের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।


0 Comments