হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিতর্কিত কাবো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আগামী সপ্তাহে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ
সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হবে। বিমানের একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। হজ যাত্রী পরিবহনে কেলেঙ্কারির হোতা কাবো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ভাড়া নিয়ে বিমানের ভেতরে ও বাইরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদের সখ্যতার কারণেই এবারও কাবোর উড়োজাহাজ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিমান সূত্রে জানা গেছে, নাইজেরিয়াভিত্তিক উড়োজাহাজ কো¤পানি কাবো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে হজ কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য বিমানের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম পরিচালনা পর্ষদ কালো তালিকাভুক্তিরও সুপারিশ করেছিল। এরপরেও শুধুমাত্র জামাল উদ্দিন আহমেদের কমিশন বাণিজ্যের কারণে বার বার এই উড়োজাহাজ কো¤পানিকে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দরপত্রে কাবো ঘণ্টাপ্রতি ১১ হাজার ৫০০ ডলার দাম উল্লেখ করেছে। আর এভিকো ঘণ্টাপ্রতি ১২ হাজার ৫০০ ডলার দাম চেয়েছে। সর্বনিু দরদাতা হিসেবে তাই কাবোকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিমান হজের জন্য যে উড়োজাহাজ চেয়ে দরপত্র আহ্বান করেছিল, সব যোগ্যতা পূর্ণ না করায় তা বাতিল হয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানের দরপত্র কারসাজির মাধ্যমেই চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ যে কো¤পানিকে পছন্দ করছেন, তাকেই চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিমানের পরিচালন পর্ষদও এই সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারে না। এবারও আগামী সপ্তাহের যে পর্ষদ সভা বসছে, সেখানে আগেই থেকেই কাবোর উড়োজাহাজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন জামাল উদ্দিন। সভাটি করা হবে শুধু নামকাওয়াস্তে!
গত কয়েক বছরের বিমানের হজের উড়োজাহাজের দরপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিবারই বিমান এমন সব শর্ত জুড়ে দেয়, তাতে বিমানের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের পরিচিত দু’একটি কো¤পানি ছাড়া কেউই যোগ্য বিবেচিত হয় না। এবারও একই কারণে প্রথম দফার দরপত্র বাতিল হয়। এই দরপত্র বিমান তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও তুলনামূলক কম প্রচার সংখ্যার দু’একটি পত্রিকা ছাড়া অন্য কোথাও বিজ্ঞাপনও দেয় না; যে কারণে ভালোমানের কোনো বিদেশি কো¤পানি দরপত্রে অংশ নিতে পারে না।
বিমানের পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য বলেন, কেলেঙ্কারির পরেও জামাল উদ্দিন আহমেদের কারণেই বিমান বার বার কাবো এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ নিয়ে বাধ্য হয়েছে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিমানের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন স্টিল। হজ মৌসুমের আগে একাধিক লিজ প্রদানকারী কো¤পানি বিমানে দরপত্র জমা দিলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা বাতিল হয়ে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০১১ সালের হজ মৌসুমে কাবোর উড়োজাহাজ ভাড়া নিতে চার দফায় দরপত্র বাতিল করার নজির রয়েছে। এবারও ঠিক একইভাবে কয়েক দফায় দরপত্র বাতিল করা হয়েছে।
কাবোর বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারি
২০০৯ সালে কাবোর কাছ থেকে উড়োজাহাজ নেওয়ার পর জালিয়াতি করে চুক্তির টাকা নিয়ে যায় এয়ারলাইন্সটি। এ কারণেই কাবোকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। পরবর্তীতে জামাল উদ্দিন আহমেদের কারণে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি। কাবোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তৎকালীন বিমানমন্ত্রী জিএম কাদেরের সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়িয়ে ছিলেন জামাল উদ্দিন। ঠিক একইভাবে ২০১০ সালে ত্র“টিপূর্ণ একটি উড়োজাহাজ গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল কাবো। ওই সময় কাবোর পক্ষে নগ্নভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন বিমান মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক সদস্য ও বিমানের চেয়ারম্যান। আর ২০১১ সালে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান থেকে উড়োজাহাজ আনার কথা বলে বড় ধরনের জালিয়াতি করে কাবো এয়ারলাইন্স।

0 Comments