Advertisement

বাইশারীতে যুবলীগ নেতার ছাত্রী ধর্ষণ : ধর্ষিতার আত্মহত্যা

সংবাদদাতা
থমিক বিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রীকে শহরে বেড়াতে নিয়ে হোটেল কক্ষে জোর পূর্বক ধর্ষন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে রশি টানা-টানি সহ্য করতে না পেরে বিষপানে ছাত্রীর
আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ক্যাংগারবিল গ্রামে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বাইশারী ক্যাংগারবিল গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী সাবেকুন্নাহার (১১) কে পার্শ্ববর্তী ঘিলাতলী গ্রামের বেদার মিয়ার জনৈক স্ত্রী শহরে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে গত ৪ জুলাই সকাল ১০ টায় তাকে বাড়ী থেকে নিয়ে ওই দিনই চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে হোটেলে উঠে। গভীর রাতে ঐ হোটেল কক্ষে উপস্থিত হন ক্যাংগারবিল গ্রামের ছিদ্দিক আহাম্মদের পুত্র স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি রমজান মিয়া। উক্ত রমজান মিয়া পর পর ৩ দিন ও ৩ রাত সাবেকুন্নাহারকে বেদার মিয়ার স্ত্রীর সহযোগিতায় ধর্ষন করে। গত ৭ জুলাই তারা যথারীতি নিজ গ্রামে ফিরে আসে। এ ঘটনা সমাজে জানাজানি হলে লোকজন বেদার মিয়ার স্ত্রীকে চাপ প্রয়োগ করলে সাবেকুন্নাহারকে হোটেল কক্ষে জোর পূর্বক ধর্ষনের কথা স্বীকার করে। রমজান মিয়া ধর্ষনের দায় হতে বাঁচার কৌশল হিসাবে সাবেকুন্নাহারকে ৫ লক্ষ টাকার কাবিন ৩ ভরি স্বর্ণ ও ক্যাংগারবিল আশ্রয়ন প্রকল্পে সরকারী দলের নেতা বিবেচনায় বরাদ্ধ পাওয়া ঘরটি সাবেকুন্নাহারের নামে লিখে দিয়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। এঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজের লোকজনের মধ্যে শুরু হয় রশি টানাটানি। এক পক্ষ দাবী করছেন ধর্ষকের শাস্তি, আর এক পক্ষ চেয়েছেন ধর্ষকের সাথে সাবেকুন্নাহরের বিয়ে। স্কুল ছাত্রী সাবেকুন্নাহার, তাকে নিয়ে সমাজের দুই পক্ষের রশি টানাটানি ও বদনামের বোঝা সইতে না পেরে গত ১১ জুলাই সকাল ১০ টায় নিজ ঘরে বিষ পান করে অজ্ঞান হয়ে যায়। তাকে রামু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে সে মৃত্যু বরণ করেন। সাবেকুন্নাহারের লাশ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কক্্সবাজার মর্গে ফেলে রাখা হয়েছে। ডোমের চাহিদা মত টাকা দিতে না পারায় সাবেকুন্নাহারের লাশের ময়না তদন্ত বিলম্ব হচ্ছে বলে তার পিতা আবু তালেব জানান। তিনি আরো দাবী করেন আমার অবুঝ মেয়ের মৃত্যুর জন্য যুবলীগ সভাপতি রমজান মিয়াই দায়ী। আমি ধর্ষক রমজান মিয়া ও তার সহযোগি ঘিলাতলী গ্রামের বেদার মিয়ার স্ত্রীর শাস্তি দাবী করছি। উক্ত ঘটানায় স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে শোকের ছায়া ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Post a Comment

0 Comments