Advertisement

সারাদেশে আওয়ামী লীগে টেনশন


ডেস্ক রিপোর্ট
জাতীয় নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ভোটের মহড়া হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে মহড়াতে ভাল করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর
গাজীপুরেও বড় ধরনের ভরাডুবি হয়েছে। বেশ কয়েকটি পৌরসভা নির্বাচনেও একই ফল। নির্বাচন মানেই আওয়ামী লীগের পরাজয়। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চোখেমুখে এখন টেনশন। কী হতে চলছে জাতীয় নির্বাচনে? এমন প্রশ্ন অনেকের।ঢাকা টাইমস
চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একচেটিয়া পরাজয়ের পর গাজীপুর সিটি নির্বাচনকে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবেই ধরে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। নিজেদের ঘাঁটিতে বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছিল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এখনও কমেনি। কিন্তু সেটি আর প্রমাণ করতে পারেনি ক্ষমতাসীনরা। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার সম্ভব তা আবারও প্রমাণ দিল তারা। এতে বিরোধীদলের তত্ত্বাবধায়ক দাবিতে আন্দোলন অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে। তবে নির্বাচন মানেই আওয়ামী লীগের হার। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে জাতীয় নির্বাচনে ভাল কিছু অপেক্ষা করবে না বলে মনে করছেন দলের নীতি নির্ধারকরা।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি নির্বাচন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নোয়াখালীর চাটখিলে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। বরিশালেও বিদ্রোহী প্রার্থীকে বাগে আনতে পারেনি আওয়ামী লীগ। গাজীপুরে যেভাবে জাহাঙ্গীর আলমকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে তাতে সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। এ সুযোগে বিরোধীদল সমর্থিত প্রার্থী এগিয়ে গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এক নেতা ও সাংসদরা চাননি আজমত উল্লা খান ভাল করুক। অনেক ক্ষেত্রে তাদের এ বিরোধীতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পেছনেও তারা কলকাঠি নেড়েছেন বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূলে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরাজ করছে চরম দুশ্চিন্তা। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কার্যত নিস্ক্রিয়তাতেও  হতাশ তারা। জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ নেই সাধারণ সম্পাদকের। এ নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই তাদের। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক এ পরাজয়ের পেছনে দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যরাই দায়ী। এছাড়া পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারি, পুঁজিবাজারে ধস, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবস্থাপনা, কার্যত রাস্তার লোক থেকে এক শ্রেণির আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর চোখে পড়ার মত ধনী হয়ে ওঠা, যুবলীগ-ছাত্রলীগের টেন্ডারবাজি আর সরকার ও দল পরিচালনায় কিছু মন্ত্রী ও নেতার সীমাহীন ব্যর্থতা আওয়ামী লীগকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে বলে আলোচনা আছে বিভিন্ন মহলে।
তবে দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, এখনও সময় ফুরিয়ে যায়নি। জাতীয় নির্বাচনের আগে আরও ছয় মাস সময় পাওয়া যাবে। এ সময়ের মধ্যে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উজ্জ্বীবিত করতে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বিরোধীদল অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে তা দূর করতে হবে।
দলের সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, এটি বারবার প্রমাণিত হচ্ছে একমাত্র আওয়ামী লীগের আমলেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব। তাই বিরোধীদল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে দাবি তুলছে তা ভিত্তিহীন ও অমূল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন। এর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে কিছুটা সমন্বয়হীনতা থাকতে পারে। তবে এটি সাময়িক। জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Post a Comment

0 Comments