Advertisement

নাচে গানে অলরাউন্ডার সাবা

গানের পাশাপাশি উপস্থাপনা, নাচ, গান, ছবি অাঁকা, আবৃত্তি, অভিনয়সহ সংস্কৃতির সবক্ষেত্রেই সমান প্রতিভাধর ২০১০ সালের 'মার্কস অলরাউন্ডার' প্রতিযোগিতার ৩য় রানারআপ সাবরিনা সাবা৷ তবে গান এবং উপস্থাপনা দিয়েই মিডিয়াতে নিজস্ব পরিচিতি পেয়েছেন তিনি৷ 
২০০৩ সাল থেকে সাবার অর্জনের গল্পটা শুরু৷ ওই বছরই সে নতুন কুঁড়িতে রবীন্দ্র সংগীত শাখায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন৷ এরপর জিতে নেন জাতীয় শিশু পুরস্কার, পদ্মকুঁড়ি, শাপলাকুঁড়ি, আমরা কুঁড়ি'র মত সম্মান সুচক সব পুরস্কার৷ কোন কোন বিভাগে চ্যাম্পিয়ানও হন৷ ২০০৪ সালে পদ্মকুঁড়ি'তে নজরুল সংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, পল্লীগীতি তিনটি বিভাগে অংশগ্রহণ করে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ান হয়ে পান স্বর্ণপদক৷ ২০০৫ সালে শাপলাকুঁড়ি'তে নজরুল সংগীত ও দেশের গান বিভাগে জাতীয় পর্যায়ে ২য় হন৷ ২০০৭ সালে লোকনৃত্য বিভাগে ৩য় স্থান অধিকার করে জিতে নেন জাতীয় শিশু পুরষ্কার৷ একই বছর অভিনয়, জলরং, আবৃত্তি, ছড়াগান-৪টি বিভাগে অংশগ্রহণ করে চ্যাম্পিয়ান হয়ে জিতেছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় শিশু পুরষ্কার৷ এছাড়াও বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, নজরম্নল ইনস্টিটিউট, রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন, বাংলা একাডেমী'সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জিতেছেন শতাধিক পুরষ্কার৷ 
২০১২ সালে রোজার ঈদে মাহমুদ সানীর সঙ্গে সাবার গাওয়া ডুয়েট 'তোমায় ভালোবেসে' গানটি তখন জনপ্রিয়তা পেয়েছিল৷ সমপ্রতি গানটির মিউজিক ভিডিওটি বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে৷ এই মিউজিক ভিডিওটি আগের জনপ্রিয়তার মাপকাঠিকে হার মানিয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে দর্শকদের হৃদয়ে৷ ইদানীং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে মিউজিক ভিডিওভিত্তিক অনুষ্ঠানে গানটির মিউজিক ভিডিও টপ-১০ মধ্যে স্থান করে নিয়েছে৷ গানটির জন্য অনুষ্ঠানগুলোতে দর্শকদের অনুরোধও চোখে পড়ার মত৷ 
এ প্রসঙ্গে সাবা বলেন, 'ভাবতেই পারিনি সানী (মাহমুদ সানী) ভাইয়ের সাথে গাওয়া আমার প্রথম ডুয়েট গানটি শ্রোতারা এতটা ভালোভাবে গ্রহণ করবে৷ মিউজিক ভিডিওটি অন-এয়ার পর থেকে অনেক সাড়া পেয়েছি৷ অনেকেই আমাকে ফেসবুকে এবং মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে৷' 
যে গান দিয়ে সাবার আজ এতদূর আসা সেই গান শেখার শুরুটা কিভাবে জানতে চাইলে সাবা বলেন, 'আমার বয়স যখন ৩ বছর তখন হাটি হাটি পা পা আর আলতো কথা শিখতেই মা নিয়ে যান গানের স্কুলে৷ সৃষ্টি ললিতা কলা একাডেমী ছিল আমার প্রথম গান শেখার স্কুল৷ ১৯৯৮ থেকেই শুরু হয় গান শেখা৷' 
বর্তমানে সাবা ছায়ানটের সমাপণী বর্ষের ছাত্রী৷ পড়াশোনার চাপের কারণে আপাতত সমাপণী কোর্সটি শিথিল রেখেছেন৷ ছায়ানটের নজরুল সংগীতের উপর তালিম নিয়েছেন খায়রুল আনাম শাকিল, শাহীন সামাদ, কল্পনা'র কাছে৷ পাশাপাশি তালিম নিচ্ছেন সুর সপ্তক একাডেমীতে ফেরদৗস আরা ও নীলিমা দাশের কাছে৷ আর ক্লাসিক্যাল শিখছেন অনিল কুমার সাহার কাছে৷ ছোটবেলায় গানের পাশাপাশি আবৃত্তি ও অভিনয় শেখেন সাবা৷ নাচ শিখতে ভর্তি হন শিশু একাডেমীতে৷ শিশু একাডেমীতে থাকতেই আবৃত্তি, অভিনয়ের উপর অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করতেন৷ বেতার, টেলিভিশন, স্টেজ শো করতেন অনেক ছোট থেকেই৷ ছবি আঁকার প্রতিও আছে ভীষণ ঝোঁক৷ স্কেচ, ওয়েল পেইন্টিং, জলরং, পেস্টেল, ফেব্রিক্স সবগুলোতেই দক্ষ সাবা৷ গান, উপস্থাপণা, নাচ, ছবি অাঁকা, আবৃত্তি, অভিনয় প্রভৃতি বিষয়ে অংশগ্রহণ করে পেয়েছেন অসংখ্য পুরষ্কার৷ 

এ পর্যন্ত সাবা পাঁচটি মিক্সড অ্যালবামে কাজ করেছেন৷ সবগুলো অ্যালবাম বের হয়েছে সিডি চয়েসের ব্যানারে৷ 

সমপ্রতি 'জনম জনম তোমাকে' মিক্সড অ্যালবামে অনিকের সাথে 'পাঁজরের মাঝে' একটি ডুয়েট গানে গেয়েছেন সাবা৷ আসছে রোজার ঈদে জন্য অ্যালবামটি প্রকাশিত হবে৷ এছাড়াও ঈদের জন্য মাহমুদ সানীর একটি মিঙ্ড অ্যালবামে 'লজ্জা-২' শিরোনামের একটি একক গানে কন্ঠ দিবেন সাবা৷ 

একক অ্যালবামের কাজ শুরু করেছেন সাবা৷ তবে এর কাজ করছেন ধীরে সুস্থে৷ সাবা বলেন, 'আমার একক অ্যালবামের জন্য একটি গান তৈরি করে ফেলেছি৷ 'আধো আধো ঘুম' টাইটেলের গানটির কম্পোজিশন করেছেন জিসান দীপ্ত৷ আনরিলীজড ট্র্যাক হিসেবে গানটি আগামী সপ্তাহে বিভিন্ন এফএম রেডিওতে প্রচারিত হবে৷' 

ভিকারুননিসা নুন কলেজে এইচএসসি ২য় বর্ষে বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ছেন সাবা৷ আপাতত পড়াশোনার দিকেই তিনি বেশি মনোযোগী৷ নিয়মিত স্টেজ শো ও টিভি লাইভ প্রোগ্রামে গাওয়ার অনুরোধ আসলেও সাবা এখনই সেখানে যেতে নারাজ৷ আরেকটু পক্ত হয়ে, গানটা আরো ভালোভাবে শিখে শ্রোতাদের সামনে হাজির হতে চান৷ 

সাবা বলেন, 'লাইম লাইটে আসছি বলে এখনই আমি চ্যানেলের প্রোগ্রাম করতে চাই না৷ গান শিখে আমি আরো পরিণত হতে চাই৷ হুট করে তারকা হয়ে হুট করে ঝড়ে পড়তে চাই না৷ আমি শুদ্ধ সুরের গান গেয়ে শ্রোতা ও ভক্তদের মাঝে টিকে থাকতে চাই৷'

Post a Comment

0 Comments