Advertisement

আজ নির্বাচনঃ সবার দৃষ্টি গাজীপুরে

ডেস্ক রিপোর্ট
আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশেন নির্বাচন। ইতিমধ্যে নির্বাচনের পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তুত ১০ লাখ ২৬ হাজার ভোটার। বলতে গেলে পুরো দেশবাসীর নজর এখন গাজীপুরে। বিশেষ করে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র পদে জয়লাভ করতে না পারায় গাজীপুর নির্বাচন যেমন মহাজোট সরকারের কাছে অগ্নিপরীক্ষা তেমনি বিরোধীদলের আশা এ নির্বাচন সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।
বিএনপি’র সমর্থিত প্রার্থী ও সাবেক ধর্মীয় প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এ নির্বাচনে ‘টেলিভিশন’ প্রতীকে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান ‘দোয়াত কলম’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার দাবি এখনো অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগের তরফ থেকে বলা হচ্ছে নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে বিরোধীদল এধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে রাতা পোহালেই শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যšত্ম ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটাবেন।
এ নির্বাচনে মহাজোটের শরীক দল জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে বেশ নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়। প্রথম দিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে শুধু দোওয়া দেওয়ার পর পরবর্তীতের সমর্থনেরও নির্দেশ দেন। তবে তার এ নির্দেশ মানছে না গাজীপুরের স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা।
এদেকে হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা এ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক প্রচারণায় অংশ নেন। হেফাজতে ইসলামের নেতারা তাদের কর্মীদের এমন নির্দেশ দিয়েছেন যে এ নির্বাচনে ‘টেলিভিশন’ জিততে না পারলে গত ৫ই মে শাপলা চত্বরে তাদের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর অনেকেই ঘরে ফিরতে পারছেন না। মামলার ভয়ে ফেরারি হয়ে থাকলেও এ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করলে তাদের পক্ষে এলাকায় ফেরা সহজ হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনকে ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হিসেবেই দেখছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের অনেক সিনিয়র নেতা ‘দোয়াত কলম’ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন।
নাটকীয়তা হয় আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে এ নির্বাচন থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি জাহাঙ্গীর আলমতে এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে আজমত উল্লাহ খানকে সমর্থনের নির্দেশ দেন। তার এ নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন জাহাঙ্গীর আলম।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮ জন। ৩৯২ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২’ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ জন পুরুষ ও নারী ভোটার হচ্ছেন ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৬১ জন। তবে গাজীপুর শিল্প এলাকা হওয়ায় শ্রমিকদের ভোট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের ভোট রয়েছে ৩ লাখ। বিশেষ করে ২৮ হাজার গার্মেন্ট নারী শ্রমিকের ভোট বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।

Post a Comment

0 Comments