Advertisement

পেকুয়ায় মসজিদের এক ইমামের বসতভিটা দখলে মরিয়া ভূমিদস্যুরা


পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়া মসজিদের এক ইমামের বসতভিটা দখলে কতিপয় ভূমিদস্যুরা ময়িয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ভূমিদস্যুরা দফায় দফায় ওই ইমামের বসতবাড়িতে হামলা
চালিয়েছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিয়া পাড়া গ্রামের নুরুল আলমের পুত্র ও টইটং বাজার জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মৌলানা আমির হোসেনের খরিদাস্বত্ত্বে মালিকানাধীন পেকুয়া মিয়া পাড়ায় ১০ শতক খরিদা জমিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছিলেন। এদিকে ওই ইমামের বসতভিটার উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে একই গ্রামের মৃত মজু মিয়ার পুত্র দখলবাজ আহমদ হোসেনের। এদিকে আমির হোসেন তার বসতভিটার টিনের সীমানা প্রাচীর তৈরী করার সময় গতকাল ৮ জুলাই সোমবার কাজ শুরু করলে বিকালে দখল আহমদ হোসেনের নেতৃত্বে তার পুত্র জয়নাল আবেদীন ও ওয়াজ উদ্দিনসহ ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে আরো হামলা ভাংচুর চালিয়েছে। এ ঘটনার পর পরই ভূক্তভোগী মৌলানা আমির হোসেন পেকুয়া থানায় দখলবাজ আহমদ হোসনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
       স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, মৌলানা আমির হোসেন বিগত ২২/১০/২০০৯ ইং তারিখে পেকুয়া মৌজার মিয়া পাড়ায় জমির মালিক হাজী আহমদ কবিরের পুত্র হাজী শামশুল ইসলাম গংদের কাছ থেকে আর এস খতিয়ান ৪২৯ তৎ বিএস ১১২০ নং খতিয়ানের ২১৭৮ দাগের ৯৮ শতক জমি থেকে মাত্র ১০ শতক জমি খরিদ করেছিলেন। মৌলানা আমির হোসেন ওই জমি ক্রয় করে ৬ শতক জায়গায় বসতভিটা তৈরী করে বসবাসনত রয়েছে। বাকী ৪ শতক জমি নিয়ে আহমদ হোসেন ও মৌলানা আমির হোসেনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে ওই ইমাম বাদী হয়ে পেকুয়া সদর ইউপির গ্রাম আদালতে দথলবাজ আহমদ হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৪৪৭/১২ ইং। এ মামলায় গ্রাম আদালত ওই বিরোধীয় জমি পরিমাপ করে দেখতে পান আহমদ হোসেন, মাষ্টার জালাল আহমদের কাছ থেকে ৬৫ শতক জমি কবল নিলেও তার দখলে রয়েয়ে ৭০ শতক জমি। গ্রাম আদালতের ওই রায়ে ৭০ শতক জমি থেকে কবলার চেয়ে অতিরিক্ত ৫ শতক জমি মৌলানা আমির হোসেনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য লিখিতভাবে রায় ডিগ্রি প্রদান করেন। পরে গ্রাম আদালতের প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ এমইউপি, মাহবুবুল আলম এমইউপি, বদিউল আলম এমইউপি ও গ্রাম পুলিশসহ গত গত ০৮/১০/১২ ইংরেজী তারিখে সরেজমিনে এসে মৌলানা আমির হোসেনকে জমির চৌহদ্দি নির্ধারন করে দখল বুঝিয়ে দেন। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী ইমাম মৌলানা আমির হোসেন জানান, গ্রাম আদালতের রায়কে অমান্য করে এখনো পর্যন্ত মৌলানা আমির হোসেনের ক্রয়কৃত ৪ শতক জমি জোরপূর্বকভাবে অবৈধ দখলে রেখে দিয়েছেন। পরে জমির না ছাড়ায় ভূক্তভোগী মৌলানা আমির হোসেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট ওই দখলবাজ আহমদ হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সেখানেই উপজেলা সরেজমিনে ওই বিরোধীয় জমির পরিমাপ করে নিশ্চিত হন দখলবাজ আহমদ হোসেনের দখলে কবলার চেয়ে ৫ শতক জমি বেশি দখলে নিয়েছেন। উপজেলা চেয়ারম্যান গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে আহমদ হোসেনকে ৪ শতক জায়গা ইমামকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। 
   এদিকে স্থানীয়রা আরো জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দখলবাজ আহমদ হোসেন বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় দিয়ে ফাসাবে বলে প্রকাশ্যে মৌলানা আমির হোসেনকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এ নিয়ে মৌলানা আমির পেকুয়া থানায় গত দখলবাজ আহমদ গংয়ের বিরুদ্ধে গত ২৮/১০/১১ ইংরেজী তারিখে একটি সাধারান ডায়েরী করেছেন। যার নং ৯৭৮/১১। এ নিয়ে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উর্দ্ধতন প্রশাসনের নিকট জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মৌলানা আমির হোসেন।

Post a Comment

0 Comments