Advertisement

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা উচিত

ডেস্ক রিপোর্ট
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে গাজীপুরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা উচিত বলে মত দিয়েছে জাতীয় সাংবাদিক পর্যবেক্ষক টিম। বুধবার গাজীপুরে নির্বাচন পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টিমের সদস্যরা এ মত দেন।
সরেজমিন ভোটারদের মতামত গ্রহণ এবং রিটার্নিং অফিসার ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. কাজী মাহমুদ হাসানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিক পর্যবেক্ষক টিম টঙ্গী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে। ‘কেন্দ্রীয় চাপে রিটার্নিং অফিসার অসহায়’ উল্লেখ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি অব্যাহতভাবে লক্সঘণ করা হচ্ছে। রিটার্নিং অফিসার যথাযথভাবে কাজ করতে পারছে না। স্থানীয় নির্বাচনের বিদ্যমান বিধিতে ঊর্ধ্বতন চাপ নেয়ার সক্ষমতা নেই বলে তিনি পর্যবেক্ষক টিমের কাছে দাবি করেন। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক পর্যবেক্ষক টিম মনে করে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা উচিত।
সাংবাদিক পর্যবেক্ষক টিমের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। আরো ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, কবি আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, নির্বাহী সদস্য কামার ফরিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এমএম জসীম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মীর আহমেদ মিরু,  খুরশীদ আলম, বাছির জামাল, আকন আবদুল মান্নান, জাকির হোসেন, অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মফস্বল মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন।
পর্যবেক্ষক টিমের সাংবাদিকরা সকালে গাজীপুর শহর, পুবাইল, টঙ্গী এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলেন। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ব্যবসায়ী, শিক্ষক, পথচারি, রিকশাচালক ও ভ্রাম্যমাণ ছোট ব্যবসায়ীদের মতামত নেন তারা।
এ পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় বড় ধরণের কোনো সহিংসতা না ঘটলেও আচরণ বিধি ভঙ্গের অনেক অভিযোগ করেন সাধারণ ভোটাররা। অনেকে ভয়ে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন না এবং সরকার সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেন। তবে, নারায়নগঞ্জের মেয়র ডা. আইভি এবং স্বাস্থ্য সচিবের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের মুখে মুখে। এ দু’টি ঘটনায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লক্সঘণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব. কাজী মাহমুদ হাসানের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করেন সাংবাদিক পর্যবেক্ষক টিম। তিনি ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বাইরে বের হচ্ছি না। নেতাকর্মীদের টেলিভিশন মার্কার পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। দে আর ডুয়িং দেয়ার জব সিরিয়াসলি।’ তবে, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন কাজী মাহমুদ হাসান।
তিনি অভিযোগ করেন, আচরণ বিধি লক্সঘণ ঠেকাতে রিটার্নিং অফিসার ব্যর্থ। সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তারা প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তারা গোপন বৈঠক করছেন। সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, জাহিদ হোসেন রাসেল, মোজাম্মেল হোসেন সরকারের উপমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। বিধি অনুযায়ী তারা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু প্রতিনিয়ত তারা প্রচারণা চালাচ্ছে। ইসি এতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী কাজী মাহমুদ।
ভোটার ও প্রার্থীদের নানা অভিযোগ এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলতে জাতীয় সাংবাদিক পর্যবেক্ষক দল সাক্ষাত করেন রিটার্নিং অফিসার মতিউর রহমানের সঙ্গে। গাজীপুরে তার কার্যালয়ে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনী আচরণ বিধি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার বিষয়টি স্পষ্ট করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের সীমাবদ্ধতাও স্বীকার করেন। বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের বিদ্যমান আইনে উর্ধ্বতন চাপ মোকাবেলা করে সুষ্ঠুভাবে কাজ করা কঠিন। আচরণ বিধির বিষয়ে প্রার্থীরা যথেষ্ট সহায়তা করেছেন। তবে ঢাকার নিকটবর্তী হওয়ায় বিধি লক্সঘণ করে কেউ কেউ প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার নারায়ণগঞ্জের মেয়রের প্রচারণায় অংশ নেয়ার বিষয়টি তিনি আগে জানতে না পারায় ব্যবস্থা নিতে পারেননি দাবি করে রিটার্নিং অফিসার বলেন, এক্ষেত্রে আমি সাংবাদিক, ভোটার ও প্রার্থীদের সহায়তা চাই। এসব বিষয়ে আগে জানলে ব্যবস্থা গ্রহণে তার জন্য সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তাৎক্ষণিক উপস্থিত একজন সাংবাদিক বৃহস্পতিবার (আজ) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচির নামে নির্বাচনী প্রচারণার আয়োজনের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে রিটার্নিং অফিসার বলেন, “নিশ্চয়ই আমি ব্যবস্থা নেব। এটা বন্ধ করে দেয়া হবে।” এছাড়া দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের অভিযোগের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
পরে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক পর্যবেক্ষক টিমের সদস্যরা টঙ্গী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট ও তাদের মূল্যায়ন তুলে ধরেন টিমের প্রধান ও বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।
নির্বাচনী আচরণ বিধির অনুচ্ছেদ ৬ এর ১৪ (ক) তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই ধারা অনুযায়ি জাতীয় সংসদের স্পীকার, সংসদীয় কমিটির সভাপতি, হুইপ, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী মর্যাদার কোনো ব্যক্তি প্রচার কাজে অংশ নিতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই বিধি। তারা ভোটার হলে কেবল ভোট দিতে পারবে। কিন্তু, গাজীপুরে এই বিধিটি সম্পূর্ণভাবে লক্সঘণ করা হয়েছে।”
রুহুল আমিন গাজী বলেন, “রিটার্নিং অফিসার সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিধি লক্সঘণের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসহায়ত্ব আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্য নেই বলে এড়িয়ে গেছেন। বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার প্রশাসন পুরোপুরি ইসির অধীনে থাকলেও রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।”
এ পরিস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের স্বার্থে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সুপারিশ করেন সাংবাদিক নেতারা। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের প্রহরীর ভুমিকা পালনের আহ্বান জানায় জাতীয় সাংবাদিক পর্যবেক্ষক টিম।

Post a Comment

0 Comments