ঢাকা: কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নতুন নোট নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য চলছে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় দেখা গেছে, নতুন নোট নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচরীর যোগসাজসে চলছে রমরমা বাণিজ্য। সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েও কোনো নতুন নোট নিতে পারছেন না। কারণ নতুন নোটের জন্য গুণতে হবে অতিরিক্ত অর্থ। এ অর্থ না দিলে নতুন নোট মিলছে না তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত বুধবার থেকে নতুন নোট বিতরণ শুরু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বসাধারণের জন্য নতুন নোট বিতরণ চলবে ঈদের আগের কার্যদিবস পর্যন্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সহায়তায় নতুন টাকার অধিকাংশই চলে যাচ্ছে কিছু নতুন টাকা ব্যবসায়ীদের হাতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চত্বরে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা উৎকোচের মাধ্যমে এক নতুন টাকা ব্যবসায়ীর কাছে নতুন টাকা লেনদেন করছে। এসব ব্যবসায়ী পরবর্তীতে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ সংস্থার সামনে ও গুলিস্তান এলাকায় অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে নতুন টাকা বিক্রি করেন।
নতুন টাকা বিতরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান জানান, গত বুধবার থেকে ঢাকাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা থেকে একযোগে নতুন নোট বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে এর বাইরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখা থেকে নিয়মিত বিতরণ অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, গতবারের মতো এবারও রাজধানীর মানুষের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ১১টি বিশেষ শাখা থেকে নতুন নোট বিতরণ করা হবে। সেগুলো হলো, অগ্রণী ব্যাংকের প্রেসক্লাব ও এলিফ্যান্ট রোড শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ শাখা, জনতা ব্যাংকের নিউমার্কেট শাখা, পূবালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা সিটি মার্কেট শাখা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গুলশান শাখা, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা, প্রাইম ব্যাংকের মালিবাগ শাখা ও ন্যাশনাল ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখা।
নতুন টাকা জনসাধারণের পরিবর্তে এক শ্রেণীর অবৈধ ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যোগসাজসে পাচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।’
মতিঝিলের সেনাকল্যাণ সংস্থার সামনে ও গুলিস্তান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত অবধি বিরামহীনভাবে চলছে এ ব্যবসা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় নতুন টাকা বের করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে ঈদের এই মৌসুমে।
নতুন টাকার ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিজন দৈনিক ন্যূনতম দশ হাজার টাকা বিক্রি করছেন। এতে তাদের আয় হয় দৈনিক ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা।
ঈদে নতুন টাকার চাহিদা বাড়ায় রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে টাকার পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা বসেছেন। ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে, সদরঘাট, গুলিস্তান হলের সামনে, ফার্মগেট, মতিঝিল ব্যাংকের উত্তর গেটে, মতিঝিলে সেনাকল্যাণ সংস্থার সামনে সবচেয়ে বড় অস্থায়ী বাজার তৈরি হয়েছে। ব্যাপক চাহিদার কারণে ঈদে নতুন টাকা সরবরাহ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছরই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকে।
নতুন টাকা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক টাকার মুদ্রা ১০০টি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। ৫০০টি দুই টাকার নতুন নোটের দাম এক হাজার ২৫ থেকে ৪০ টাকা। ২০০টি পাঁচ টাকার নোট ও ১০০টি ১০ টাকার নোট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকায়। আর ৫০টি ২০ টাকার নোট কিনতে হচ্ছে এক হাজার ৮০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায়। এসব নোটেরই চাহিদা বেশি। তাছাড়া আছে ১০০, ৫০০ ও এক হাজার টাকার নতুন নোট।
টাকা বিক্রেতা রাশেদুল হক, তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করছেন। সব সময় সেখানে ভাঙতি, নতুন টাকা বিক্রি হয়। সামনে ঈদ। তাই এখন ব্যবসা জমজমাট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক ব্যবসায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা আমাকে নতুন টাকা দেন। আমি ওই টাকা বিক্রি করি। দিন শেষে লাভের টাকা আমি আর স্যার ভাগাভাগি করে নিই।
- See more at: http://www.bengalinews24.com/economics-industry-business-news/2013/07/15/10827#sthash.g7nQl3l9.dpuf

0 Comments