Advertisement

রমজান: মাগফেরাতে গোনাহ মাফের অপূর্ব সুযোগ


ডেস্ক রিপোর্ট
রমজানের ১৭ তম দিন আজ। মাগফেরাতের সপ্তম দিবস। রমজান মাস তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ১০ দিন রহমত, দ্বিতীয ১০ দিন মাগফিরাত এবং তৃতীয় ১০ দিনকে বলা হয় নাজাত।

এই মাসটিতে উম্মতে মুহাম্মদীর পুণ্য অর্জন এবং গুনাহ ক্ষমা করিয়ে  নেয়ার অপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিটি কাজেরই একটা মওসুম বা ঋতু থাকে। আর অনেক কাজ বা পুণ্য অর্জনের অন্যতম মওসুম হলো এই মাস।
সঙ্গত কারণেই মুসলিম নর-নারী এই মাসটির জন্য ১১ মাস অপেক্ষায থাকেন। তাই তো রাসূলে আকরাম [সা.] রজব মাস এলে দোয়া করতেন ‘হে আল্লাহ রজব ও শাবানের বরকত আমাদের দান করো এবং রমজান পাওযার তাওফিক দাও।’ শুধু মানবজাতি নয, গোটা সৃষ্টি জগতই রমজানের জন্য অপেক্ষায থাকে। রমজান ইসলামী সংস্কৃতির অন্যতম এক শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। সাম্যবাদের এক মহান শিক্ষার বীজ এখানে নিহিত রয়েছে।
রাসূলে আকরাম [সা.] এরশাদ করেন, ‘ রোজাদারের জন্য রয়েছে দু’টি আনন্দ। একটি হলো ইফতারের সময এবং অন্যটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময। আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ মেশক আম্বরের সুঘ্রাণের  চেয়েও উত্তম।[বোখারি, মুসলিম]
সত্যিকারভাবেই ইফতারির পূর্বক্ষণে বান্দাহ অজানা এক আনন্দে পুলকিত হয। সারা দিনে ক্ষুধা পিপাসার কথা ভুলে যায। পারিবারিকভাবে হোক কিংবা সামাজিকভাবে হোক ইফতারসামগ্রী সামনে নিয়ে যখন বসা হয়। তখন রোজাদারেরা অপেক্ষমাণ থাকে কখন মাগরিবের আজান হবে। এ এক অনাবিল আনন্দ, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয।
অপর আনন্দটি হলো আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ। তার জন্যই তো কঠোর সাধনা করে রোজা রাখা হয়। রাসূলে আকরাম সা: এরশাদ করেন,  বেহেশতে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে। রোজাদার ছাডা আর কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বোখারি, মুসলিম)
মানুষের শারীরিক সুস্থতার জন্য রোজা একান্ত প্রয়োজন। আল্লাহ রাব্বুল আলআমিন শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য ফরজ করেননি। অতীতের সব নবীর উম্মতের জন্যও রোজা ফরজ ছিল। অর্থাৎ রোজা রেখে মানুষ সুস্থ থাকবে। আর সুস্থ শরীর নিয়ে মহান প্রভুর ইবাদত করবে। আমার যা খাই পাকস্থলীর মাধ্যমে পারিপাক হয়।
আমাদের শরীরের  যে অংশে যা যা প্রয়োজন তা  সেই অংশে চলে যায এবং বাকি অংশ বর্জ্য আকারে বের হয়ে যায়। একটি যন্ত্র অনবরত চলতে থাকলে নষ্ট হয়ে যায বা অল্প সময়ে বিকল হয়ে যায়।
যারা  রোজা রাখেন তাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্র কিছু সময়ের জন্য বিশ্রামে থাকে, ফলে  রোজাদার কঠিন   রোগব্যাধি  থেকে রক্ষা পায। রাসূলে আকরাম সা: এরশাদ করেন,  তোমরা রোজা রাখো, সুস্থ থাকবে।
হাদিসটির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছ্।ে বিজ্ঞান এই হাদিসের বার্তার কাছে নতি স্বীকার করেছে। প্রায সাড়ে  চৌদ্দশ বছর আগে রাসূলে আকরাম [সা.] এর মুখনিঃসৃত পবিত্র এই বাণীটুকু আজ বিজ্ঞানের কাছে অপার বিস্ময। কারণ এ পর্যন্ত  রোজার মাধ্যমে অনেক রোগের প্রতিকারের রহস্য আবিষ্কৃত হয়েছে।
মূলত ইসলামি শরিযার প্রতিটি বিধানের মধে রয়েছে মানবতার অপার কল্যাণ, যা আজ বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত।  রোজা কম খাওয়ার অন্যতম ট্রেনিং। রোজার মাধ্যমে ক্ষুধার্ত এবং পিপাসার্ত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও বোঝা যায। রোজা সর্বক্ষেত্রে সংযমী হওয়ার শিক্ষা দেয়।
রোজা ইসলাম ধর্মের এক বিজ্ঞান সম্মত বিধান। এর ফজিলত অপরিসীম। এই ফজিলত অর্জন করতে হলে দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রোজার আওতায নিয়ে আসতে হবে। প্রথমেই অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।  এরপর পালন করতে হবে পেটের রোজা। পেটের রোজা হলো হালাল খাবার অর্থাৎ পেটকে হারাম খাদ্য ও পানীয় থেকে বাঁচাতে হবে। সুতরাং, সুদ, ঘুষ, জুয়া, হারাম জিনিসের ব্যবসায-বাণিজ্য, চোরকারবারি, মজুদদারি, ওজনে কম  দেয়া, ভেজাল মেশানো, চুরি, ডাকাতি, জুলুম, নির্যাতন ও ছিনতাই ইত্যাদির মাধ্যমে উপার্জিত খাবার দ্বারা  রোজা রাখলে ওই ব্যক্তির রোজা আল্লাহর দরবারে কখনো কবুল হবে না।
কিন্তু ইসলাম ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপই আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত আছে। এ কারণেই রাসূলে [সা.] এরশাদ করেন, বহু রোজাদার রোজার মাধ্যমে ক্ষুধা ও পিপাসা ছাডা আর কিছুই লাভ করে না এবং রাতের বহু নামাজী রাত জাগরণ ছাডা আর কিছুই পায না। (ইবনে মাজাহ)
প্রিয় পাঠক, তাই আসুন আমরা রমজানে রোজা রেখে আল্লাহ ও রাসুল সা. এর আনুগত্য করি। ধন্য করি নিজেদের জীবনকে। এই রমজানে পবিত্র কুরআন পাঠ অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। আমরা প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন পাঠ করব। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করবেন ইনশাল্লাহ। দ্য টাইমস

Post a Comment

0 Comments