ডেস্ক রিপোর্ট
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সংসদে দুই নেত্রীর বক্তব্যে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই তা পূণর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। অন্যথায় নির্বাচন অংশ গ্রহণ না করে তা ঠেকানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। আর সরকারি দল বলছে- যেহেতু সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বলে কোনো কথা নেই, তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী আগাস্টে। এ সময়ের মধ্যে এ ইস্যুটির মিমাংসা না হলে সংশয় রাজনৈতিক সহিংসতায় রূপ নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদলের বিপরীতমূখী কঠোর অবস্থানের কারণে এ সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সংঘাত অনিবার্য বলে মনে করছে প্রধান বিরোধী দল।
গত শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না। কারণ, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে দলীয় সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ড দিতে পারে না।’
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন চায় উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘১৯৯৬ সালে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে কারণে আওয়ামী লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না, সে কারণগুলো এখনো বিদ্যমান, পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাজনীতিতে আস্থার সংকট যতদিন থাকবে, ততদিন দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।’
এদিকে, বর্তমান সরকারের গত সাড়ে চার বছরে সব নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মতোই দেশে নির্বাচন হবে। ‘
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আশায় এই দাবি করছেন, তারা একবার ক্ষমতা নিতে পারলে আর ছাড়বে না। মাইনাস টুর প্রবক্তারা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
সংসদে দুই নেত্রীর এমন বক্তব্যের পর এ নিয়ে চলছে জনগণের মধ্যে নানা আলোচনা সমলোচনা । চলছে অনেক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। আসলে নির্বাচন হবে তো? তাই নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে এ নিয়ে সংশয় ততই বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বাংলামেইলকে জানান, বিএনপি নির্বাচনমূখী দল। বিএনপি ও ১৮ দল যে কোন সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া কোন নির্বাচনে বিরোধীদল অংশ নেবে না। সরকার যদি গায়ের জোরে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার চেষ্টা করে তাহলে সংঘাত অনিবার্য। যে কোন মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।
এলডিপি সভাপতি ও সংসদ সদস্য কর্নেল অব অলি আহমেদ বলেন, ‘শুধু তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নয় প্রশাসনে দলীয়করণ ও নানা ষড়যন্ত্রের কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে সরকারি দলের নেতারা বলছেন, সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। নির্বাচন কোন সরকার করে না, নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমান সরকারের সময় সকল নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে দাবি করে তারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ নির্বাচন কমিশনের অধিনেই হওয়া সম্ভব। চার সিটি নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তবর্তীকালীন সরকারের অধিনেই হবে।
তবে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত। দলকে আরো সংগঠিত করতে ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চারটি সিটি করপোরেশনে জয়ী হওয়ার পর জাতীয় নির্বাচনেও জয়ী হওয়ার জন্য মাঠ গরমে ব্যস্ত বিএনপি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সংসদে দুই নেত্রীর বক্তব্যে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই তা পূণর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। অন্যথায় নির্বাচন অংশ গ্রহণ না করে তা ঠেকানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। আর সরকারি দল বলছে- যেহেতু সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বলে কোনো কথা নেই, তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী আগাস্টে। এ সময়ের মধ্যে এ ইস্যুটির মিমাংসা না হলে সংশয় রাজনৈতিক সহিংসতায় রূপ নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদলের বিপরীতমূখী কঠোর অবস্থানের কারণে এ সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সংঘাত অনিবার্য বলে মনে করছে প্রধান বিরোধী দল।
গত শনিবার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব না। কারণ, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে দলীয় সরকার লেভেল প্লেইং ফিল্ড দিতে পারে না।’
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন চায় উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘১৯৯৬ সালে দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে কারণে আওয়ামী লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না, সে কারণগুলো এখনো বিদ্যমান, পরিস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। রাজনীতিতে আস্থার সংকট যতদিন থাকবে, ততদিন দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।’
এদিকে, বর্তমান সরকারের গত সাড়ে চার বছরে সব নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মতোই দেশে নির্বাচন হবে। ‘
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আশায় এই দাবি করছেন, তারা একবার ক্ষমতা নিতে পারলে আর ছাড়বে না। মাইনাস টুর প্রবক্তারা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
সংসদে দুই নেত্রীর এমন বক্তব্যের পর এ নিয়ে চলছে জনগণের মধ্যে নানা আলোচনা সমলোচনা । চলছে অনেক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। আসলে নির্বাচন হবে তো? তাই নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে এ নিয়ে সংশয় ততই বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বাংলামেইলকে জানান, বিএনপি নির্বাচনমূখী দল। বিএনপি ও ১৮ দল যে কোন সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া কোন নির্বাচনে বিরোধীদল অংশ নেবে না। সরকার যদি গায়ের জোরে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার চেষ্টা করে তাহলে সংঘাত অনিবার্য। যে কোন মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।
এলডিপি সভাপতি ও সংসদ সদস্য কর্নেল অব অলি আহমেদ বলেন, ‘শুধু তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নয় প্রশাসনে দলীয়করণ ও নানা ষড়যন্ত্রের কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এদিকে সরকারি দলের নেতারা বলছেন, সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। নির্বাচন কোন সরকার করে না, নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন।
বর্তমান সরকারের সময় সকল নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে দাবি করে তারা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ নির্বাচন কমিশনের অধিনেই হওয়া সম্ভব। চার সিটি নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তবর্তীকালীন সরকারের অধিনেই হবে।
তবে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত। দলকে আরো সংগঠিত করতে ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চারটি সিটি করপোরেশনে জয়ী হওয়ার পর জাতীয় নির্বাচনেও জয়ী হওয়ার জন্য মাঠ গরমে ব্যস্ত বিএনপি।

0 Comments