মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
স্বামীর সংসার ফিরে পেতে চান অসহায় ছালেহা বেগম গৃহবধু কলি। ভবঘুরে হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে বারবার সেই একই কথা জানান দিচ্ছেন তিনি। উদ্দেশ্য একটাই স্বামী এহেছানুল কবিরের ঘরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা। ২০১১সালের সেপ্টেম্বরে স্বামী এহেছানুল কবির ভাগ্য পরিবর্তনে প্রবাস জীবনে যাওয়ার পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অত্যাচার নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে বন্দি হয়ে গৃহবধু কলি স্বামীর ঘর ছেড়ে আশ্রয় নেন পিতৃহীন নিজ পরিবারে। কলি জানান, বিয়ের পর ২০১০সালের মে মাসে তার সংসারে
সামির নামের এক নতুন অতিথির আগমন ঘটে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ২০১১সালে নভেম্বরে দেড় বছর বয়সী সামিরও পুকুরে ডুবে মারা যায়। এরপর থেকে শশুর বাড়ির লোকজন নানা অত্যাচার নির্যাতন ও কুসংস্কারমুলক অপবাদের বোঝা তার মাথার উপর ছাপিয়ে দিয়ে শ্বশুর বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করে তাকে।
জানা গেছে, ২০০৮সালের ২২ডিসেম্বর কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের জমিদার বাড়ির জাফর উল্লাহর ৩য় কন্যা ছালেহা বেগম কলির সাথে চকরিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ঘনশ্যাম বাজার এলাকার আলম সওদাগরের পালিত পুত্র মো. এহেছানুল কবিরের ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দু’জনই সুখের সংসার করে আসছিল। এ সুখের সংসারে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এহেছানের পালক পিতা আলম সওদাগর ও তার শ্যালিকা জোসনা আকতার।
ছালেহা বেগম কলি জানায়, স্বামী এহেছানুল কবির দুবাই যাওয়ার সময় আমার পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলাম। এছাড়া বিদেশ যাওয়ার পর সুকৌশলে দুবাইতে দোকান নেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে পাঁচ লাখ ১০হাজার টাকা নেন। আমার মামা থেকে দেড় লাখ টাকা, মামাতো ভাই থেকে দেড় লাখ টাকা ও আমার বান্ধবীর স্বামীর কাছ থেকে দুই লাখ ১০হাজার টাকা ধার কর্জ করে নিয়ে দিই। কলি আরো জানান, এখন এহেছান তার পিতা আলম সওদাগর ও তার খালা জোসনা আক্তারের প্ররোচনায় রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের চেইন্দা এলাকার জুহুর আলমের কন্যা হুমায়রা খানম বুলিকে বিয়ের কথা বার্তা পাকা করে ফেলেছে। এহেছান বুলির লোভে পড়ে এখন আমাকে ডির্ভোসের হুমকি দিচ্ছে। হতাশাগ্রস্থ কলি সাংবাদিকদের বলেন, একদিকে ডির্ভোসের হুমকি অন্যদিকে পাঁচ লাখ টাকা কর্জ নিয়ে আমি উভয় সংকটে রয়েছি। এখন আমার কি হবে ভেবে পাচ্ছিনা। আমার আত্মীয় স্বজন কর্জের টাকার জন্য আমাকে বারবার জ্বালাতন করছে। বিষয়টি এহেছানকে জানালে সে আমাকে ডির্ভোসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বুলিকে বিয়ের কথা বলে মোবাইল সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে আমি ভেঙ্গে পড়ি।
একদিকে স্বামীর হুমকি অন্যদিকে পাওনাদারদের জ্বালাতনে প্রায় ভারসাম্যহীন হয়ে ভবঘুরে অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে অসহায় কলি। কলির এখন কিছুই নেই। তার একমাত্র সম্বল স্বামী-পুত্রের স্মৃতি বিজড়িত কিছু ছবি। যে ছবিগুলো নিয়ে নানা শ্রেনী পেশার মানুষের ধারে ধারে যাচ্ছেন তিনি। হুমায়রা খানম বুলির কাছে তার আকুতি, যেন সে তার স্বামীকে কেড়ে না নেয়। কলির আর্তনাদ সে স্বামীর সংসার ফিরে পেতে চান। এতে তিনি সুশীল সমাজসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।


0 Comments