Advertisement

ভারতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্ক

ঢাকা: ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্বার কাজে নিযুক্ত কর্মীরা।
উত্তরাখণ্ড-কেদারনাথে ত্রান সরবরাহ ও উদ্ধার কাজে নিয়োজিত এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, এ ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে পনেরো হাজার পর্যন্ত হতে পারে। মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন জায়গায় শত শত মৃতদেহ পড়ে আছে। দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া অনেক মৃতদেহ ভেসেও গেছে।


এ ব্যাপারে উত্তরাখণ্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভাগাত সিং কোশিয়ারি জানান, এই বন্যায় ছয় হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে।


তিনি গত কয়েকদিনে পাঁচশ’টি মৃতদেহ দেখেছেন। এছাড়া, ‍দুর্গম এলাকাগুলোতে কতজন আটকা পড়েছে তা জানা যায়নি। তাদের মধ্যে কতজন জীবিত আছে তা জানাও সম্ভব হয়নি।


বিষ্ণু নামে স্থানীয় এক উদ্ধারকর্মী জানিয়েছেন, ১৯ তারিখে উদ্ধার কাজে যোগ দেয়ার পর তিনি এক থেকে দুই হাজার মৃতদেহ দেখেছেন।


কেদারনাথে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক রাজিব জানান, তিনি সেখানে এক হাজারেও বেশি মৃতদেহ দেখেছেন।


তিনি আরো জানান, উদ্ধারকর্মীরা শুরু জীবিতদেরই উদ্ধার করছে। নিহতদের সংখ্য তো আর কেউ গুণে দেখছে না।


সরকারি হিসেবে এখন পর্যন্ত ৫৫৭ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছে। এর আগে, দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী যশপাল আরোরা জানিয়েছিলেন, এই ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছড়িয়ে যেতে পারে।


এদিকে, উত্তরাখণ্ডে ভারি বর্ষণের কারণে ফের ধসের ঘটনা ঘটেছে। টানা বৃষ্টি আর ধসে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।


নতুন করে ধস নেমেছে রুদ্রপ্রয়াগ থেকে গুপ্ত কাশির বিভিন্ন জায়গায়। মঙ্গলবার সকালে ধস নামে হৃষিকেশ-উত্তরকাশি এলাকায়। দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৮ শে জুন পর্যন্ত এই বৃষ্টি চলবে।


গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এ হিমালয়ান সুনামিতে এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বদ্রিনাথে সাত হাজারেরও বেশি পর্যটক এখনও আটকে রয়েছেন বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।


এখনো দশ হাজারের বেশি পর্যটক দেবভূমিতে আটকে রয়েছেন। সোমবার মাত্র এক হাজার জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


তবে উত্তরকাশির হারসিল, মেনারি,ভাটোয়ারিতে এখনো আটকে রয়েছেন বহু তীর্থযাত্রী।


দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার শিণ্ডে জানিয়েছেন, কেদারনাথ ও বদ্রিনাথ থেকেই উদ্ধারের কাজে সব থেকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

Post a Comment

0 Comments