Advertisement

বিএনপির সঙ্গে এখন জামায়াতও চাঙ্গা, সংসদে হৈ চৈ


ডেস্ক রিপোর্ট
বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে জামায়াত নেতা আনম শামসুল ইসলামের বক্তব্যে রোববার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। অবশেষে
স্পিকার তার বক্তব্য পরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রোববার জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আবদুল্লাহ আল কায়সার, একেএম ফজলুল হক, বিএনপির গোলাম মোস্তফা ও জামায়াতের আনম শামসুল ইসলাম।

আলোচনায়  জামায়াতের আনম শামসুল ইসলাম যুদ্ধাপরাধের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া সব নেতার মুক্তি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়ার দাবি জানান। জামায়াতের এই নেতা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। জামায়াতকে নিঃশেষ করে দিতেই ৪২ বছরের মীমাংসিত বিষয় সামনে আনা হয়েছে। আল্লামা সাঈদীকে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের চেষ্টা চলছে। সাঈদীসহ আটককৃত কেউ-ই যুদ্ধাপরাধী বা রাজাকার নন। এ বিচার প্রক্রিয়া দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এ বিচার কি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়?’

এসময় সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ করেন। বক্তব্যের বিরোধিতা করে সরকারি দলের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘একমাত্র একাত্তরের গণহত্যাকারী, রাজাকার-আলবদররাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ভেঙ্গে দেয়ার দাবি জানাতে পারে। ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ, চ্যালেঞ্জ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই এমন সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। হেফাজত নয়, সারাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধাতে জামায়াত-শিবির-বিএনপিই বায়তুল মোকাররমে পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন দিয়েছে।’

জবাবে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন জামায়াত নেতা শামসুল ইসলামকে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বলেন, ‘ওই ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে কোনো কথা তিনি বলেননি, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেছেন। আমরাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তবে সেই বিচারটি হতে হবে স্বচ্ছ। আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে সরকার আগামী নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চাইছে।’  

প্রতিবাদে শেখ ফজলুল হক সেলিম বলেন, ‘মানবতাবিরোধীদের বিচার জাতীয় দাবীতে পরিণত হয়েছে। একমাত্র রাজাকাররাই ট্রাইব্যুনাল বন্ধ করার দাবি জানাতে পারে। আদালতের বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হতে পারে না। জামায়াত নেতা আদালতকে কটাক্ষ করে যেসকল বক্তব্য দিয়েছেন তার সবকিছু এক্সপাঞ্জ করতে হবে। নইলে সংবিধান লঙ্ঘিত হবে। ট্রাইব্যুনালকে চ্যালেঞ্জ ও প্রশ্নবিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতেই জামায়াতের সংসদ সদস্য এমন সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।’

বিএনপির মাহবুব উদ্দিন খোকন ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘শেখ ফজলুল করিম সেলিম কোন বিধিতে বক্তব্য দিলেন? জামায়াত নেতা শামসুল ইসলাম সাহেব আদালত নিয়ে কোনো কথা বলেননি, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। আর এই জামায়াত নেতা একজন মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যেই বেশি মুক্তিযোদ্ধা। কোনো মুসলমান কোরআন শরিফ পোড়াতে পারে না, একজন হিন্দু গীতা পোড়াতে পারে না। যুবলীগের একজন হিন্দু নেতা এটা করেছে সরকারে সস্তা জনপ্রিয়তার নেয়ার জন্য।’

স্পিকার এসময় রুলিং দিয়ে বলেন, ‘সব বক্তৃতা পরীক্ষা করে অসংসদীয় ও আদালত সম্পর্কে দেয়া সব বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হবে।’

বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘একাত্তরে এরাই (জামায়াত) বলেছিল, যারা নৌকায় ভোট দেবে, তাদের বৌ তালাক হয়ে যাবে। এরাই মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে, গণিমতের মাল বলে পাক হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল- এরাই হচ্ছে আজকের জামায়াত।’

Post a Comment

0 Comments