শামস সয়ূজ
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আবারো রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করছে পশ্চিমা বিশ্ব।
হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশনের গবেষক লিসা কুর্টিসের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলাম
বাংলাদেশে চরমপন্থী ইসলামী আন্দোলন শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি অংশ। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ওপর বিচার বিভাগের চাপ প্রয়োগের কারণেই ধর্মভিত্তিক দলগুলো চরমপন্থা গ্রহণ করছে বলে মনে করেন ইউরোপের বিশেষজ্ঞরা।
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লিসা কুর্টিস বলেন, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন আসলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সাথে সম্পর্কিত। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করায় হেফাজতে ইসলামের মতো দলগুলো আন্দোলনমুখী হয়েছে।
পশ্চিমা বুদ্ধিজীবিদের একটি অংশ মনে করে, যুদ্ধাপরাধের বিচার আসলে সমাজের দুইটি অংশকে উসকে দিয়েছে। ‘প্রগতিশীল’ ও ইসলামপন্থীরা পরস্পর পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।
অতীতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরমপন্থী ইসলামী আন্দোলন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতী হেফাজতে ইসলামের তের দফা দাবিকে কেন্দ্র করে আবারো আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের চরমপন্থী আন্দোলন। ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হেফাজতে ইসলামের নারী অধিকার বিষয়ক দাবিগুলোকেই সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখছে পশ্চিমারা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া ডিরেক্টর ব্রাড এডামস বলেন, হেফাজতে ইসলামের দাবি মানলে বাংলাদেশ প্রস্তর যুগে গিয়ে উপনীত হবে।
তবে শুধুমাত্র পশ্চিমারা নয় বাংলাদেশীরাও হেফাজতে ইসলামের উত্থানে শংকিত। বাংলাদেশীদের অনেকেই মনে করেন হেফাজতে ইসলামের মতো দলগুলো শক্তিশালী হলে বাংলাদেশকে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের ভাগ্য বরণ করে নিতে হবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মতো দলগুলো হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন দিচ্ছে। ফলে, হেফাজতে ইসলামের মতো চরমপন্থী ইসলামী দলগুলো আরও শক্তি অর্জন করতে পারে।

0 Comments