মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে বিগত ২০১২-১৩ অর্থবছরে কাবিখা, টিআর ও কর্মসৃজন কর্মসুচীর আওতায় বরাদ্দ দেয়া প্রায় ১ কোটি টাকা
মূল্যের চাল, গম ও নগদ টাকা ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্ণীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী ও অফিস সহকারী ওমর আলী ভূঁইয়া বিল ভাউচার ও মাষ্টার রোল তৈরী করে এসব টাকা লুটপাট করেছে বলে স্থানীয় সচেতন জনগন অভিযোগ করেছেন। যা সরেজমিনে প্রতিটি প্রকল্প উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করলে এ অনিয়ম ও দূর্ণীতির প্রমান পাবে বলে তারা দাবী করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ত্রাণ মন্ত্রনালয় থেকে পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষানাবেক্ষণ ও সংস্কার কর্মসূচীর আওতায় টিআর, সাধারণ, নির্বাচিত এমপি, সংরক্ষিত এমপি ও কাবিখা প্রকল্পের অধিনে ২৩৫ মেট্টিক টন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব খাদ্য শষ্যের অধিনে প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির সংস্কারসহ যে সব প্রকল্প গ্রহণ করা হয় তার কোনটি ও কাবিখার নীতিমালা ও স্পেসিকেশন অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়নি। বরাদ্দকৃত খাদ্য শষ্যের বিক্রয় মূল্য থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতি টনে দেড় হাজার থেকে ২ হাজার টাকা করে উৎকোচ আদায় করেছেন অফিস সহকারী ওমর আলীর মাধ্যমে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এ সুযোগে নিজেরা ও প্রতিটন খাদ্য শষ্যের বিক্রয় মূল্য থেকে স্ব-স্ব চেয়ারম্যান ও নিজেদের পকেটস্থ করেছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা করে। এভাবে অর্ধেক টাকা ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যাওয়ায় প্রকল্প গুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। অপর দিকে ওই উপজেলায় অতি দরিদ্রের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের শ্রমিকদের ব্যবহারের জন্য উপকরণ ক্রয়ের খাতে বরাদ্দ দেয়া ২৫ লাখ টাকা লুটপাট করেছে বলে বেশ ক‘জন ইউপি চেয়ারম্যান অভিযোগ করেছেন।
পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সুত্রে জানা গেছে, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচীর প্রথম পর্যায়ে ৭ ইউনিয়নের ৩০ প্রকল্পের অধিনে ১ হাজার৭শ’৮৩ জন শ্রমিক নিয়োগ করে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ১ম পর্যাযের বরাদ্দ দেয়া অর্থ থেকে ১০ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হয়েছিল শ্রমিকদের ব্যবহারের জন্য নানা উপকরণ ক্রয়ের জন্য। এসব টাকা কোন ধরণের উপকরণ ক্রয় না করে পিআইও’র যোগসাজশে লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুরূপ ভাবে ওই প্রকল্প খাতে বরাদ্দ দেয়া ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট টেক অফিসারদের যোগ সাজশে শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের সময় নানা ধরণের গোজামিলের আশ্রয় নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। হিসেবের তালিকায় ভূঁয়া শ্রমিকদের নাম দেখিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে আতাঁত করে এ বিপুল পরিমান টাকা ভাগবাটোয়ারা করা হয়। পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজী দীর্ঘদিন ধরে এ উপজেলায় কর্মরত থাকার সুযোগে মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দ দেয়া খাদ্য শষ্য ও কর্মসৃজন কর্মসূচীর কোটি কোটি টাকা প্রতিবছর লুটপাট করে আসছে। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন জনগন ও জন-প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে অসংখ্যবার লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বেপরোয়া ভাবে সরকারী অর্থ লুটপাট করার সাহস পাচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন জনগন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তার আমলে এ উপজেলার ৭ ইউনিয়নে যেসব ব্রীজ-কালভাট নির্মাণ করা হয়েছে এ খানেও ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী এ দূর্নীতিবাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 Comments