Advertisement

কুতুবদিয়ায় পুলিশের ক্যাশিয়ার পরিচয়ে কনষ্টেবল আবুল কালামের চাঁদাবাজীতে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট


মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,কুতুবদিয়া থেকে ফিরে
কুতুবদিয়া থানার এক পুলিশ কনষ্টেবল নিজকে থানার ওসি কর্তৃক নিয়োগ দেয়া ক্যাশিয়ার (মেস ম্যানেজার) পরিচয় দিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বৈধ-অবৈধ ব্যবসায়ীদের টোকেন স্লিপ দিয়ে
প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজী করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ পুলিশ কনষ্টেবলের চাঁদাবাজীতে পুলিশের ভাবমুর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার হাটবাজার, স’মিল, মদের মহাল, লবন, শুটকি ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, বোট মালিক, ফেরীঘাট, কাঠ ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে নিজকে থানার ক্যাশিয়ার পরিচয় দিয়ে ব্যবসার মুলধন বুঝে নিদিষ্ট আকারে টোকেন স্লিপ গ্রহণ করে চাঁদা দেয়ার জন্য নানা ভাবে হুমকি দুমকি দিয়ে থাকে। যারা তার এহেন অনৈতিক দাবী পুরণ করতে অপরাগতা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়ে থাকে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি জানান, উপজেলার প্রতিটি ব্যবসায়ী ক্যাশিয়ার আবুল কালামের একের পর এক চাঁদাবাজীর কারণে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। তার টোকেন স্লিপ ছাড়া কোন মালামাল থানার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সরবরাহ করতে পারছেনা। উপজেলার বিভিন্ন মাদক মহাল, চোরাচালান, অবৈধ স’মিল, কাঠ ব্যবসায়ী, হুন্ডি ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে থানার ওসির কথা বলে মোটা অংকের টাকা চেয়ে বসে ক্যাশিয়ার আবুল কালাম। তার প্রস্তাবে কোন ব্যবসায়ী সাড়া না দিলে ওসি কে দিয়ে তার সব মালামাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।
এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীক ষ্পটে তার নিয়োগকৃত আরো রয়েছে একাধিক বেসরকারী (পুলিশের) সোর্স পরিচয় দানকারী ক্যাশিয়ার। এসব সোর্সের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা নেয়ার সময় ক্যাশিয়ারকে খবর দিয়ে বাধ্যতামুলক ভাবে টোকেন স্লিপের মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা উৎকোচ আদায় করে থাকে ওই পুলিশ কনষ্টেবল। এক কথায় তার টোকেন স্লিপ ছাড়া কোন ব্যবসায়ী পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারেনা। দ্বীপ উপজেলার কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরং, উত্তর ধুরং, কৈয়ারবিল, আলী আকবর ডেইল, লেমশিখালী, বড়ঘোপ, দরবার জেটি ঘাট এলাকায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাশিয়ার আবুল কালাম কুতুব দিয়া দ্বীপ থেকে কোন মালামাল বাহিরে নিয়ে যাওয়ার সময় ও অন্যান্য এলাকা থেকে কোন মাল আসার সময় ব্যবসায়ীদেরকে বাধ্যতামুলক ভাবে টোকেন স্লিপ দিয়ে চাঁদা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে থাকেন বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ০১৮১৫ ৩৩৩৮১১ থেকে ব্যবসায়ীদেরকে চাঁদার দাবীতে হুমকি দিয়ে থাকেন বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। চাঁদাবাজ ক্যাশিযার পরিচয়দানকারী পুলিশ কনষ্টেবল আবুল কালামের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুতুবদিয়ার ব্যবসায়ীরা স্বরাষ্ট্রন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Post a Comment

0 Comments