Advertisement

আমেরিকা জর্দানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে

ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, মহড়া শেষ হওয়ার পরও ৭০০ মার্কিন সেনাকে জর্দানে রেখে দেয়া হবে। তিনি সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ 'প্রতিনিধি পরিষদ'-র স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, জর্ডান সরকারের অনুরোধে সেখানে সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ওই সব সেনা জর্ডানেই থাকবে। মহড়ার নামে মার্কিন সেনারা জর্ডানে পেট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেমস ও যুদ্ধ বিমানসহ আরো নানা ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে এসেছে। সেগুলোও দেশটিতে রেখে দিবে মার্কিন সরকার। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনাদের ওই মহড়া শেষ হয়েছে। এর আগে গত ৪ জুন সিরিয়া সীমান্তে জর্ডানের মরুভূমিতে বহুদেশীয় এক সামরিক মহড়ার আয়োজন করে আমেরিকা। সেখানে মার্কিন সেনারা ছাড়াও আরো ১৮টি দেশের আট হাজার সেনা অংশ নেয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেছেন, যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন পর্যন্ত মার্কিন সেনারা জর্দানে মোতায়েন থাকবে। প্রেসিডেন্ট ওবামার এ ঘোষণা থেকে জর্দানে আমেরিকার দীর্ঘ মেয়াদি লক্ষ্য রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।


আমেরিকা এমন সময় মহড়ায় অংশগ্রহণকারী তাদের ৭০০ সেনাকে জর্দানে রেখে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলো যখন গত কয়েক মাসে জর্দানের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা বলে আমেরিকা আরো ৩০০ সেনা সেদেশে পাঠিয়েছে। সব মিলিয়ে জর্দানে এখন প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। আমেরিকা বিভিন্ন অজুহাতে এ পর্যন্ত প্রচুর অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র জর্দানে মোতায়েন করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, জর্দানের সেনাবাহিনীতে প্রভাব বিস্তার করা ছাড়াও আমেরিকার অন্য উদ্দেশ্যও রয়েছে।


গত কয়েক মাসে উত্তর আফ্রিকাসহ মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সন্দেহজনক সামরিক ততপরতা বেড়েছে। আমেরিকা এ অঞ্চলের ঘোলাটে বা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগে দীর্ঘ মেয়াদি সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে আমেরিকা ও তার মিত্ররা বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা করছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধান মিত্র হিসেবে আমেরিকা সামরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন অজুহাতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এ ভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিরক্ষা শক্তিকে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা যাতে এ অঞ্চলে ইসরাইলের আগ্রাসী নীতি বাস্তবায়নে কোনো দেশ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে।


অন্যদিকে আমেরিকা কিছু আরব দেশের সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যে তার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এ ষড়যন্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা সিরিয়ায় যুদ্ধ বাধিয়েছে এবং এর পর তাদের টার্গেট অন্য দেশে। এসবের পেছনে আমেরিকার দীর্ঘ মেয়াদি উদ্দেশ্য রয়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের ষড়যন্ত্রে জর্দান সহযোগিতা করায় সিরিয়া সংকট জর্দানেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ জর্দান সরকার অন্ধভাবে মার্কিন নীতি অনুসরণ করায় এবং দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখায় গত কয়েক মাস ধরে জর্দানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে। জর্দানের জনগণ বহুবার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও শান্তি চুক্তি থেকে সরে জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। গত কয়েক মাসে জর্দানের জনগণ ইসরাইল ও মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ করায় সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রেডিও তেহরান

Post a Comment

0 Comments